ঢাকা , শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক আইজিপি মামুনের জবানবন্দিতে জুলাই আন্দোলন দমনের নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন গত বছরের জুলাই মাসে হওয়া আন্দোলন দমনের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি গত ২৪ মার্চ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় ৫ পৃষ্ঠার জবানবন্দি দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-ডিবি প্রধানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ

জবানবন্দিতে মামুন বলেন, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের গভীর সম্পর্ক ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে স্নেহভরে “জিন” বলে ডাকতেন এবং তাকে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত কার্যকর মনে করতেন।

আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের নির্দেশ

তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনার নির্দেশনা সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে জানাতেন, এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে মারণাস্ত্র ও হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো হয়। আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা করা হতো ১৯ জুলাই থেকে প্রতিরাতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় বৈঠকে।

গোপন বৈঠকের অংশগ্রহণকারীরা এই বৈঠকগুলোতে অংশ নিতেন—দুইজন সচিব, এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির হারুন অর রশিদ, র‍্যাবের মহাপরিচালক, আনসারের ডিজি, এনটিএমসির জিয়াউল আহসানসহ আরও অনেকে।

পরিকল্পিত গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কৌশল

এক কোর কমিটির বৈঠকে ৬ জন সমন্বয়ককে আটক করার সিদ্ধান্ত হয়। সেখানে পরিকল্পনা করা হয় তাদের ভয়ভীতি ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিবৃতি দিতে বাধ্য করা হবে।

র‍্যাব মহাপরিচালকের পরিকল্পনায় হেলিকপ্টার মোতায়েন

জবানবন্দিতে মামুন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, র‍্যাবের তৎকালীন মহাপরিচালক হারুন অর রশিদের পরিকল্পনায় হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছিল।

মারণাস্ত্র ব্যবহারে উৎসাহীদের নাম

তিনি জানান, মারণাস্ত্র ব্যবহারে সবচেয়ে উৎসাহী ছিলেন—

সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান

সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ

সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ আরও অনেকে।

দুঃখ প্রকাশ ও রাজসাক্ষীতে পরিণত হওয়া

জবানবন্দির শেষ অংশে মামুন বলেন, গুলিতে মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনায় তিনি দুঃখিত ও অনুতপ্ত। তবে ৫ পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে তিনি নিজে কীভাবে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে সরাসরি কিছু উল্লেখ করেননি।

সম্প্রতি তিনি আসামি থেকে রাজসাক্ষীতে পরিণত হয়েছেন, এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্পূর্ণ সত্য প্রকাশের শর্তে তার রাজসাক্ষীর আবেদন মঞ্জুর করেছে

সর্বাধিক পঠিত

গুণগত মানে জোর, বাতিল নিম্নমানের চামড়া

সাবেক আইজিপি মামুনের জবানবন্দিতে জুলাই আন্দোলন দমনের নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময়: ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন গত বছরের জুলাই মাসে হওয়া আন্দোলন দমনের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি গত ২৪ মার্চ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় ৫ পৃষ্ঠার জবানবন্দি দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-ডিবি প্রধানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ

জবানবন্দিতে মামুন বলেন, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের গভীর সম্পর্ক ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে স্নেহভরে “জিন” বলে ডাকতেন এবং তাকে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত কার্যকর মনে করতেন।

আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের নির্দেশ

তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনার নির্দেশনা সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে জানাতেন, এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে মারণাস্ত্র ও হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো হয়। আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা করা হতো ১৯ জুলাই থেকে প্রতিরাতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় বৈঠকে।

গোপন বৈঠকের অংশগ্রহণকারীরা এই বৈঠকগুলোতে অংশ নিতেন—দুইজন সচিব, এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির হারুন অর রশিদ, র‍্যাবের মহাপরিচালক, আনসারের ডিজি, এনটিএমসির জিয়াউল আহসানসহ আরও অনেকে।

পরিকল্পিত গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কৌশল

এক কোর কমিটির বৈঠকে ৬ জন সমন্বয়ককে আটক করার সিদ্ধান্ত হয়। সেখানে পরিকল্পনা করা হয় তাদের ভয়ভীতি ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিবৃতি দিতে বাধ্য করা হবে।

র‍্যাব মহাপরিচালকের পরিকল্পনায় হেলিকপ্টার মোতায়েন

জবানবন্দিতে মামুন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, র‍্যাবের তৎকালীন মহাপরিচালক হারুন অর রশিদের পরিকল্পনায় হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছিল।

মারণাস্ত্র ব্যবহারে উৎসাহীদের নাম

তিনি জানান, মারণাস্ত্র ব্যবহারে সবচেয়ে উৎসাহী ছিলেন—

সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান

সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ

সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ আরও অনেকে।

দুঃখ প্রকাশ ও রাজসাক্ষীতে পরিণত হওয়া

জবানবন্দির শেষ অংশে মামুন বলেন, গুলিতে মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনায় তিনি দুঃখিত ও অনুতপ্ত। তবে ৫ পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে তিনি নিজে কীভাবে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে সরাসরি কিছু উল্লেখ করেননি।

সম্প্রতি তিনি আসামি থেকে রাজসাক্ষীতে পরিণত হয়েছেন, এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্পূর্ণ সত্য প্রকাশের শর্তে তার রাজসাক্ষীর আবেদন মঞ্জুর করেছে