ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সাভারে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মূল আসামি এখনো পলাতক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও আসামি গ্রেপ্তারে ব্যর্থতার অভিযোগে সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা অবনতিতে সাভার থানার ওসি ক্লোজড

সাভারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থতার অভিযোগে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলীকে ক্লোজড করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে তাকে সাভার থানা থেকে প্রত্যাহার করে ঢাকা জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সাভার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মাদক, চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ বাড়তে থাকায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরই মধ্যে সাংবাদিকদের ওপর হামলার আলোচিত ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে আসে এবং পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার মূল আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এই ব্যর্থতার পাশাপাশি সাভারের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রশাসনিক কারণে ওসি আরমান আলীকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বে অবহেলা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে গাফিলতির বিষয়গুলো পুলিশ প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, এই ঘটনায় এর আগেও সাভার মডেল থানার আরও তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ফলে আলোচিত এ ঘটনার জেরে থানার একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ায় বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য, গত ২২ মে সাভারের রাজাসন এলাকায় শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত শামীমের আস্তানায় সংবাদ সংগ্রহ করতে যান কয়েকজন সাংবাদিক। এ সময় তারা হামলার শিকার হন এবং কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং সাংবাদিক সমাজ দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।

পরবর্তীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও মামলার প্রধান আসামি ও কথিত মাদক কারবারি শামীম এখনো পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহল হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন তারা।

সর্বাধিক পঠিত

গুণগত মানে জোর, বাতিল নিম্নমানের চামড়া

সাভারে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মূল আসামি এখনো পলাতক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও আসামি গ্রেপ্তারে ব্যর্থতার অভিযোগে সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা অবনতিতে সাভার থানার ওসি ক্লোজড

আপডেট সময়: ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

সাভারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থতার অভিযোগে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলীকে ক্লোজড করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে তাকে সাভার থানা থেকে প্রত্যাহার করে ঢাকা জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সাভার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মাদক, চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ বাড়তে থাকায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরই মধ্যে সাংবাদিকদের ওপর হামলার আলোচিত ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে আসে এবং পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার মূল আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এই ব্যর্থতার পাশাপাশি সাভারের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রশাসনিক কারণে ওসি আরমান আলীকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বে অবহেলা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে গাফিলতির বিষয়গুলো পুলিশ প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, এই ঘটনায় এর আগেও সাভার মডেল থানার আরও তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ফলে আলোচিত এ ঘটনার জেরে থানার একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ায় বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য, গত ২২ মে সাভারের রাজাসন এলাকায় শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত শামীমের আস্তানায় সংবাদ সংগ্রহ করতে যান কয়েকজন সাংবাদিক। এ সময় তারা হামলার শিকার হন এবং কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং সাংবাদিক সমাজ দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।

পরবর্তীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও মামলার প্রধান আসামি ও কথিত মাদক কারবারি শামীম এখনো পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহল হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন তারা।