ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ৯ জন আটক জাবিতে ধর্ষণচেষ্টার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মৌন মিছিল, দ্রুত গ্রেফতারের দাবি মাদক ব্যবসায়ী ও ভুয়া ডিবি সদস্যসহ আটক ৪ ঝিকরগাছায় সন্ত্রাসী হামলা: মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন রবিউল আশুলিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৪ সদস্য আটক, উদ্ধার ধারালো অস্ত্র জনস্বার্থ ও প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতার ওপর জোর জেএ টিভির কর্মশালায় সাভার-ধামরাইয়ে ডিবির অভিযান: মাদক কারবারি ও ডাকাত দলের ১০ সদস্য আটক ‘সন্তান নেওয়ার চেয়ে কুকুর পোষা ভালো’— সামাজিক চাপ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য শেফালি শাহর চামড়া শিল্প রপ্তানিতে এখনও বিশাল সম্ভাবনা, সিইটিপির সমস্যা সমাধানের আশ্বাস শিল্পমন্ত্রীর সাভার-ধামরাইয়ে ইয়াবাসহ আটক ৪
অপহরণের পর নির্জন মাঠে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ; হাত-পা ও মেরুদণ্ড ভেঙে মৃত ভেবে ফেলে যাওয়ার দাবি, অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি স্থানীয়দের

ঝিকরগাছায় সন্ত্রাসী হামলা: মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন রবিউল

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি ইউনিয়নে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় রবিউল ইসলাম (৪৮) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে মৃত ভেবে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আহত রবিউল ইসলাম উপজেলার পটুয়াপাড়া গ্রামের মৃত ছায়েদ আলীর ছেলে। গত শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পারিবারিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গদখালি এলাকার কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী বিভিন্ন সময় রবিউল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে তিনি প্রায় দুই বছর ধরে গদখালি বাজারে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছিলেন না।

ঘটনার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে নবীবনগর মাঠে নিজের ফুলের ক্ষেতে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন রবিউল ইসলাম। পথে নবীবনগর বাজার এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি ৭ থেকে ৮টি মোটরসাইকেলে এসে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাব্বির (২৫), শরিফুলের দুই ছেলে বাপ্পী (২৪) ও রিফাত (২২), মিজানুরের ছেলে আরাফাত (২৫), এরশাদের ছেলে শামিম (৩২), আদমের ছেলে লিমন (২৬), রাকিব, বাহার, মহিন, আমিনুরসহ অজ্ঞাত আরও ৫ থেকে ৭ জন।

স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে চাইলে অভিযুক্তরা নাকি বলে, “বাজারে একটি পুরনো ঝামেলা রয়েছে, কিছু কথা বলে ছেড়ে দেওয়া হবে।” এরপর তাকে নাভরণ ইউনিয়নের নিত্যানন্দকাঠি কালিয়ানি এলাকার একটি নির্জন মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রবিউল ইসলামের ওপর চলে অমানবিক নির্যাতন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে বেধড়ক মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করা হয়। এতে তার দুই হাত, দুই পা এবং মেরুদণ্ডসহ শরীরের ৭ থেকে ৮টি স্থানের হাড় ভেঙে যায়। নির্যাতনের একপর্যায়ে তাকে মৃত ভেবে নবীবনগর সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তাকে যশোর পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রবিউল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জটিলভাবে হাড় ভেঙে গেছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এখনও তার জ্ঞান ফেরেনি এবং তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

এদিকে পরিবার অভিযোগ করেছে, হামলার পর অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে “আলহামদুলিল্লাহ” লিখে উল্লাস প্রকাশ করেছে। শুধু তাই নয়, এ ঘটনায় কেউ থানায় মামলা করতে গেলে কিংবা হাসপাতালে আহতকে দেখতে গেলে তাদের হাত-পা কেটে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে আহতের পরিবার ও স্বজনরা। অভিযোগ রয়েছে, জীবননাশের আশঙ্কায় এখনও তারা থানায় মামলা করতে পারেননি।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গদখালি বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, সাব্বির ও বাপ্পীর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারামারি ও নারী নির্যাতনসহ একাধিক অভিযোগ ও মামলার কথাও জানান তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে তারা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এবং এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য জানা যায়নি।

(বিঃদ্রঃ অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা হবে।)

সর্বাধিক পঠিত

সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ৯ জন আটক

অপহরণের পর নির্জন মাঠে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ; হাত-পা ও মেরুদণ্ড ভেঙে মৃত ভেবে ফেলে যাওয়ার দাবি, অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি স্থানীয়দের

ঝিকরগাছায় সন্ত্রাসী হামলা: মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন রবিউল

আপডেট সময়: ০৮:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি ইউনিয়নে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় রবিউল ইসলাম (৪৮) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে মৃত ভেবে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আহত রবিউল ইসলাম উপজেলার পটুয়াপাড়া গ্রামের মৃত ছায়েদ আলীর ছেলে। গত শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পারিবারিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গদখালি এলাকার কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী বিভিন্ন সময় রবিউল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে তিনি প্রায় দুই বছর ধরে গদখালি বাজারে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছিলেন না।

ঘটনার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে নবীবনগর মাঠে নিজের ফুলের ক্ষেতে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন রবিউল ইসলাম। পথে নবীবনগর বাজার এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি ৭ থেকে ৮টি মোটরসাইকেলে এসে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাব্বির (২৫), শরিফুলের দুই ছেলে বাপ্পী (২৪) ও রিফাত (২২), মিজানুরের ছেলে আরাফাত (২৫), এরশাদের ছেলে শামিম (৩২), আদমের ছেলে লিমন (২৬), রাকিব, বাহার, মহিন, আমিনুরসহ অজ্ঞাত আরও ৫ থেকে ৭ জন।

স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে চাইলে অভিযুক্তরা নাকি বলে, “বাজারে একটি পুরনো ঝামেলা রয়েছে, কিছু কথা বলে ছেড়ে দেওয়া হবে।” এরপর তাকে নাভরণ ইউনিয়নের নিত্যানন্দকাঠি কালিয়ানি এলাকার একটি নির্জন মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রবিউল ইসলামের ওপর চলে অমানবিক নির্যাতন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে বেধড়ক মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করা হয়। এতে তার দুই হাত, দুই পা এবং মেরুদণ্ডসহ শরীরের ৭ থেকে ৮টি স্থানের হাড় ভেঙে যায়। নির্যাতনের একপর্যায়ে তাকে মৃত ভেবে নবীবনগর সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তাকে যশোর পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রবিউল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জটিলভাবে হাড় ভেঙে গেছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এখনও তার জ্ঞান ফেরেনি এবং তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

এদিকে পরিবার অভিযোগ করেছে, হামলার পর অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে “আলহামদুলিল্লাহ” লিখে উল্লাস প্রকাশ করেছে। শুধু তাই নয়, এ ঘটনায় কেউ থানায় মামলা করতে গেলে কিংবা হাসপাতালে আহতকে দেখতে গেলে তাদের হাত-পা কেটে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে আহতের পরিবার ও স্বজনরা। অভিযোগ রয়েছে, জীবননাশের আশঙ্কায় এখনও তারা থানায় মামলা করতে পারেননি।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গদখালি বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, সাব্বির ও বাপ্পীর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারামারি ও নারী নির্যাতনসহ একাধিক অভিযোগ ও মামলার কথাও জানান তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে তারা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এবং এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য জানা যায়নি।

(বিঃদ্রঃ অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা হবে।)