ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন ও আগাম প্রচারে জোর

ঈদ উপলক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগে বাড়তি সতর্কতা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন ও স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ ও এর আওতাধীন সব দপ্তর, সংস্থা এবং বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঈদের ছুটিকালে কর্মকর্তাদের নিজ নিজ অবস্থান এলাকায় সরেজমিনে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদের সময় যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে এবং জনভোগান্তি কমিয়ে আনা যায়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ঈদের ছুটিকালে কর্মকর্তারা যে এলাকায় অবস্থান করবেন, সেখানে স্থানীয় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও তদারকি করবেন। শুধু পর্যবেক্ষণেই সীমাবদ্ধ না থেকে পরিদর্শন শেষে এ সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের কাছে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো ধরনের পরিকল্পিত বা আকস্মিক বিঘ্ন ঘটলে সেটি আগাম গ্রাহকদের জানাতে হবে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার প্রয়োজন হলে গ্রাহকদের মধ্যে যাতে অসন্তোষ না তৈরি হয়, সেজন্য আগেভাগেই তথ্য প্রচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রগুলোকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে অবহিত করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তথ্য প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাধ্যমেও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এজন্য দেশের বিভিন্ন এলাকার মসজিদের নাম, সংশ্লিষ্ট ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের নাম এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত এসব তথ্য বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানোর পাশাপাশি বিতরণকারী সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর ওয়েবসাইটেও আপলোড করতে বলা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগ ও সমন্বয় করা যায়।

বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনায় ঈদকে ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়েও উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের সুবিধার্থে দোকানপাট ও শপিংমল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। তবে ঈদ-পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আগের নিয়ম অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ বহাল থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের সময় বিদ্যুতের চাহিদা সাধারণ সময়ের তুলনায় ভিন্ন ধরনের হয়। একদিকে নগর এলাকায় মানুষের উপস্থিতি কিছুটা কমে যায়, অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে বাজার, শপিংমল এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণও বেড়ে যায়। তাই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিদ্যুৎ বিভাগ আশা প্রকাশ করেছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ঈদকালীন সময়ে সারা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক, স্থিতিশীল এবং নিরবচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব হবে। এর ফলে ঈদ উদযাপনে জনগণকে বাড়তি ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হবে না।

সর্বাধিক পঠিত

গুণগত মানে জোর, বাতিল নিম্নমানের চামড়া

সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন ও আগাম প্রচারে জোর

ঈদ উপলক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগে বাড়তি সতর্কতা

আপডেট সময়: ০২:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন ও স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ ও এর আওতাধীন সব দপ্তর, সংস্থা এবং বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঈদের ছুটিকালে কর্মকর্তাদের নিজ নিজ অবস্থান এলাকায় সরেজমিনে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদের সময় যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে এবং জনভোগান্তি কমিয়ে আনা যায়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ঈদের ছুটিকালে কর্মকর্তারা যে এলাকায় অবস্থান করবেন, সেখানে স্থানীয় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও তদারকি করবেন। শুধু পর্যবেক্ষণেই সীমাবদ্ধ না থেকে পরিদর্শন শেষে এ সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের কাছে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো ধরনের পরিকল্পিত বা আকস্মিক বিঘ্ন ঘটলে সেটি আগাম গ্রাহকদের জানাতে হবে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার প্রয়োজন হলে গ্রাহকদের মধ্যে যাতে অসন্তোষ না তৈরি হয়, সেজন্য আগেভাগেই তথ্য প্রচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রগুলোকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে অবহিত করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তথ্য প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাধ্যমেও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এজন্য দেশের বিভিন্ন এলাকার মসজিদের নাম, সংশ্লিষ্ট ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের নাম এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত এসব তথ্য বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানোর পাশাপাশি বিতরণকারী সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর ওয়েবসাইটেও আপলোড করতে বলা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগ ও সমন্বয় করা যায়।

বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনায় ঈদকে ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়েও উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের সুবিধার্থে দোকানপাট ও শপিংমল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। তবে ঈদ-পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আগের নিয়ম অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ বহাল থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের সময় বিদ্যুতের চাহিদা সাধারণ সময়ের তুলনায় ভিন্ন ধরনের হয়। একদিকে নগর এলাকায় মানুষের উপস্থিতি কিছুটা কমে যায়, অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে বাজার, শপিংমল এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণও বেড়ে যায়। তাই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিদ্যুৎ বিভাগ আশা প্রকাশ করেছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ঈদকালীন সময়ে সারা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক, স্থিতিশীল এবং নিরবচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব হবে। এর ফলে ঈদ উদযাপনে জনগণকে বাড়তি ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হবে না।