ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ঈদকে কেন্দ্র করে জোরদার নিরাপত্তা, বাড়ানো হয়েছে টহল, চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি

ঈদে নাশকতার হুমকি নেই: র‍্যাব

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। তবে এখন পর্যন্ত কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নাশকতা বা নিরাপত্তা হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এ সময় জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

র‍্যাব মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, “পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট থ্রেট বা নাশকতার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে কোনো ধরনের ঝুঁকি না থাকলেও সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।”

তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। ঈদের আগে ও পরে মানুষের যাতায়াত, বিপণিবিতান, কোরবানির পশুর হাট এবং ঈদের জামাতকে ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

র‍্যাব সূত্র জানায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের প্রতিটি ব্যাটালিয়ন তাদের নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে রোবাস্ট প্যাট্রলিং বা জোরদার টহল ব্যবস্থা চালু রয়েছে। পাশাপাশি রাজধানী ও অন্যান্য জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোবাইল চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে।

মহাপরিচালক বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, পরিবহন টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট এবং জনসমাগমপূর্ণ এলাকাগুলো বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে বাজার ব্যবস্থাপনা ও ভোক্তা নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে র‍্যাব। সংস্থাটি জানিয়েছে, কালোবাজারি, অবৈধ মজুত, খাদ্যে ভেজাল, নকল পণ্য বাজারজাতকরণ এবং অস্বাভাবিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মতো অনিয়ম ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, অসাধু ব্যবসায়ী চক্র যেন ঈদের সুযোগ নিয়ে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে বিশেষ অভিযানও পরিচালনা করা হবে।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। র‍্যাবের অনলাইন মনিটরিং টিম যেকোনো ধরনের গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য, উসকানিমূলক প্রচারণা কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শনাক্তে কাজ করবে।

র‍্যাব আরও জানিয়েছে, ঈদের ছুটিতে রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে জনসমাগম কমে যাওয়ায় অনেক মানুষ গ্রামের বাড়িতে চলে যান। এ সময় আবাসিক এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রাতের টহল এবং নিরাপত্তা চৌকির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

ঘরমুখী মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানায় র‍্যাব। পাশাপাশি সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সন্ত্রাস, নাশকতা ও সব ধরনের অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ঈদকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার এমন বিস্তৃত প্রস্তুতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনাই লক্ষ্য বলে জানিয়েছে এলিট ফোর্সটি।

সর্বাধিক পঠিত

গুণগত মানে জোর, বাতিল নিম্নমানের চামড়া

ঈদকে কেন্দ্র করে জোরদার নিরাপত্তা, বাড়ানো হয়েছে টহল, চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি

ঈদে নাশকতার হুমকি নেই: র‍্যাব

আপডেট সময়: ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। তবে এখন পর্যন্ত কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নাশকতা বা নিরাপত্তা হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এ সময় জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

র‍্যাব মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, “পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট থ্রেট বা নাশকতার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে কোনো ধরনের ঝুঁকি না থাকলেও সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।”

তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। ঈদের আগে ও পরে মানুষের যাতায়াত, বিপণিবিতান, কোরবানির পশুর হাট এবং ঈদের জামাতকে ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

র‍্যাব সূত্র জানায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের প্রতিটি ব্যাটালিয়ন তাদের নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে রোবাস্ট প্যাট্রলিং বা জোরদার টহল ব্যবস্থা চালু রয়েছে। পাশাপাশি রাজধানী ও অন্যান্য জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোবাইল চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে।

মহাপরিচালক বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, পরিবহন টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট এবং জনসমাগমপূর্ণ এলাকাগুলো বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে বাজার ব্যবস্থাপনা ও ভোক্তা নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে র‍্যাব। সংস্থাটি জানিয়েছে, কালোবাজারি, অবৈধ মজুত, খাদ্যে ভেজাল, নকল পণ্য বাজারজাতকরণ এবং অস্বাভাবিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মতো অনিয়ম ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, অসাধু ব্যবসায়ী চক্র যেন ঈদের সুযোগ নিয়ে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে বিশেষ অভিযানও পরিচালনা করা হবে।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। র‍্যাবের অনলাইন মনিটরিং টিম যেকোনো ধরনের গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য, উসকানিমূলক প্রচারণা কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শনাক্তে কাজ করবে।

র‍্যাব আরও জানিয়েছে, ঈদের ছুটিতে রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে জনসমাগম কমে যাওয়ায় অনেক মানুষ গ্রামের বাড়িতে চলে যান। এ সময় আবাসিক এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রাতের টহল এবং নিরাপত্তা চৌকির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

ঘরমুখী মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানায় র‍্যাব। পাশাপাশি সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সন্ত্রাস, নাশকতা ও সব ধরনের অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ঈদকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার এমন বিস্তৃত প্রস্তুতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনাই লক্ষ্য বলে জানিয়েছে এলিট ফোর্সটি।