ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় দুলাল মিয়া (৫৪) নামে এক ধান ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৪ মে) সকাল প্রায় ৯টার দিকে উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের দিঘীরপাড় এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত দুলাল মিয়া ওই গ্রামের মৃত সুরুজ মাস্টারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মুন্সিরহাট বাজারে ধানের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এলাকায় একজন পরিচিত ব্যবসায়ী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে দুলাল মিয়া প্রতিদিনের মতো ব্যবসা শেষে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
প্রথমদিকে তারা ধারণা করেছিলেন, হয়তো কোনো ব্যবসায়িক কাজে তিনি বাইরে অবস্থান করছেন। তবে সোমবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে ফারুক হাজীর পুকুরপাড় এলাকায় তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্বজনরা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে।
পরে খবর পেয়ে ধোবাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে দুলাল মিয়ার গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, “বাড়ির অদূরে পুকুরপাড় থেকে এক ধান ব্যবসায়ীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার পেছনের কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।”
এদিকে, এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং খুব শিগগিরই হত্যার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।

তাপস কর, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি 

