ঢাকা জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও অপরাধ দমনে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-উত্তর) পৃথক দুটি সফল অভিযান পরিচালনা করে মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে ইয়াবাসহ দুইজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী এবং দুইজন পেশাদার ছিনতাইকারী দলের সদস্য রয়েছে। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৬ হাজার টাকা।
জানা গেছে, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভিনের নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে পৃথক অভিযানে এসব আসামিদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মে রাত আনুমানিক ১১টা ০৫ মিনিটে ডিবি (উত্তর)-এর এসআই (নিঃ) সুজিত কুমার মৃধা সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ সাভার মডেল থানার কাঞ্চনপুর বেদেপল্লী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী রোকসানা আক্তার ওরফে রুকশা (৩৫) এবং মোঃ সাকিব (২২)-কে আটক করা হয়। আটক রোকসানা আক্তার ওরফে রুকশার পিতার নাম মোঃ মিন্টু মিয়া এবং স্বামীর নাম মোঃ সেলিম। তার বাড়ি সাভার মডেল থানার কাঞ্চনপুর বেদেপল্লী এলাকায়। অপরদিকে মোঃ সাকিবের পিতা মোঃ আইনুদ্দিন। তিনিও একই এলাকার বাসিন্দা।
অভিযানকালে তাদের হেফাজত থেকে মোট ১২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৬ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এদিকে একই রাতে আরেকটি পৃথক অভিযানে ডিবি (উত্তর)-এর এসআই (নিঃ) মোঃ আরিফুল ইসলাম পিপিএম সঙ্গীয় ফোর্সসহ রাত ১১টা ৩০ মিনিটে সাভার মডেল থানার তেঁতুলঝোড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় দুইজন পেশাদার ছিনতাইকারী দলের সদস্যকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মোঃ মিলন হোসেন (৪৫) ও মোঃ মনির হোসেন (৩৭)। মিলন হোসেনের পিতা মৃত সিরাজুল হক। তার বাড়ি সাভারের তেঁতুলঝোড়া এলাকার শাহী মসজিদ সংলগ্ন এলাকায়। অপরদিকে মনির হোসেনের পিতা মৃত সাহেব আলী মৃধা। তার বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানার মধ্য ধল্লা এলাকায়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী রোকসানা আক্তার ওরফে রুকশার বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়া মিলন হোসেনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, চুরি ও মাদকসহ মোট ১০টি মামলা রয়েছে। অপর আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত মোট ৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
ঢাকা জেলা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অন্যান্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঢাকা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক, ছিনতাই ও অপরাধ দমনে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 
