ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। বিদায়বেলায় তিনি ঢাকা জেলার সর্বস্তরের জনগণ, সুশীল সমাজ, সংবাদমাধ্যম এবং ঢাকা জেলা পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বিদায়বার্তায় পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যন্ত স্পর্শকাতর জেলা হিসেবে পরিচিত ঢাকায় দায়িত্ব পালন করা ছিল একইসঙ্গে চ্যালেঞ্জিং ও গৌরবের। প্রায় পাঁচ মাস দায়িত্ব পালনকালে দেশের ইতিহাসে সংকটকাল-উত্তর ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন-২০২৬ সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা ছিল তার অন্যতম বড় দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করেছেন, যার ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
বিদায়ী পুলিশ সুপার আরও বলেন, শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, পবিত্র ঈদুল ফিতরসহ বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করাও ছিল বড় দায়িত্ব। মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে এবং সহকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সব দায়িত্ব সফলভাবে পালন করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মিজানুর রহমান বলেন, দায়িত্ব পালনের পুরো সময়জুড়ে তিনি সাধারণ জনগণ, সুশীল সমাজ, জনপ্রতিনিধি এবং সংবাদমাধ্যমের আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছেন। বিশেষ করে গণমাধ্যমের গঠনমূলক ভূমিকা ও ইতিবাচক সহযোগিতা ঢাকা জেলা পুলিশের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “ঢাকা জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাদের নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও সেবার মান আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে।”
বিদায়ী এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, গত পাঁচ মাসে একটি দক্ষ, মানবিক ও সর্বোচ্চ পেশাদার পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি কাজ করেছেন। এ সময় পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ তাকে গর্বিত করেছে।
নবনিযুক্ত পুলিশ সুপারের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে ঢাকা জেলা পুলিশের সাফল্য ও জনসেবামূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও আরও বেগবান হবে।
সবশেষে তিনি ঢাকা জেলা পুলিশের সকল কর্মকর্তা ও সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 

