যান্ত্রিকতা আর প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনের এই সময়ে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ঠাকুরগাঁওবাসী। ঠাকুরগাঁও-এর সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নে ধুমধাম আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো একটি বট ও একটি পাকুড় গাছের বিয়ে। বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ লোকজ ঐতিহ্যের এই আয়োজন দেখতে জড়ো হন শত শত মানুষ।
লোকজ ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ⤵️
শুক্রবার দুপুরে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী বিয়েতে ছিল না কোনো কুসংস্কার, ছিল না অন্ধ বিশ্বাসের ছাপ। বরং শাস্ত্রীয় বিধান মেনে, পুরোহিতের মন্ত্রপাঠ, উলুধ্বনি আর সাজসজ্জায় পূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় ‘বট’ ও ‘পাকুড়’-এর বিবাহবন্ধন।
বিয়ের প্যান্ডেল সাজানো হয়েছিল গ্রামবাংলার চিরচেনা আঙ্গিকে। ঢাক-ঢোল না থাকলেও উলুধ্বনি আর উৎসুক মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রায় ৪০০ আমন্ত্রিত অতিথির জন্য ছিল ভূরিভোজের আয়োজন।

প্রতীকী অভিভাবক ও শাস্ত্রীয় আচার⤵️
শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী, কনে ‘বট’ গাছের বাবার দায়িত্ব পালন করেন স্থানীয় পরিমল চন্দ্র। অপরদিকে বর ‘পাকুড়’ গাছের পক্ষের দায়িত্বে ছিলেন বলরাম সরকার। পুরোহিতের মন্ত্রপাঠ ও ধর্মীয় আচার শেষে সম্পন্ন হয় মূল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।
স্থানীয় আয়োজকদের ভাষ্য, বড়দের পরামর্শে প্রকৃতির মঙ্গল ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী মিলিয়ে প্রায় ৪০০ পরিবারকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়।
পরিবেশ সচেতনতার বার্তা⤵️
আধুনিক সময়ে যখন নির্বিচারে বৃক্ষনিধন ও পরিবেশ ধ্বংসের খবর শোনা যায় প্রতিনিয়ত, তখন এমন আয়োজন প্রকৃতির প্রতি মানুষের মমত্ববোধের এক ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, এটি কেবল বিনোদন নয়—মানুষ ও প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের এক জীবন্ত প্রতীক।
গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অনেকে।

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি 








