ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
সাভারে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতারণা চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, ৩টি মোবাইল উদ্ধার সাভারে ডিবির পৃথক অভিযানে দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, উদ্ধার ইয়াবা-হেরোইন ও নগদ টাকা সাভারে ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযান: চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, প্রাইভেটকার উদ্ধার সাভার ও আশুলিয়ায় ডিবির বিশেষ অভিযান: গাঁজা ও ইয়াবাসহ ৪ জন গ্রেপ্তার আলিয়া-দীপিকাকে নিয়ে কী বললেন রাধিকা? তনুশ্রী দত্তের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না, অভিযোগ অভিনেত্রী হেতল যাদবের টানা ১০ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলছে স্কুল-মাদ্রাসা, কলেজে ক্লাস ১ নভেম্বর সাভার-আশুলিয়ায় ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩ সাভার বিএনপি সভাপতি সাইফুলকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ তৃণমূল আমিনবাজারে সরকারি ডিজেল পাচারের অভিযোগ, ট্রাকচালক আটক
সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের ৩০ ধারার মামলার শুনানিতে বেঞ্চ সহকারী হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, সিন্ডিকেট পরিচালনা ও সেবা গ্রহীতাদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে; দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ভুক্তভোগীদের।

সাভার সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষের রমরমা: বেঞ্চ সহকারী হেলালকে ঘিরে তোলপাড়

ঢাকার সাভার উপজেলা—রাজধানী থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দেশের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। প্রায় ১৫ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস এই উপজেলায়, যেখানে রয়েছে মোট ২১৮টি মৌজা। এসব মৌজার অধিকাংশেই বিডিএস (বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে) কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও কিছু মৌজায় এখনো চলছে চূড়ান্ত ধাপের কাজ।

এর মধ্যে বড় বরদেশী মৌজায় বর্তমানে ৩০ ধারার মামলার শুনানি চলমান রয়েছে। তবে এই সেবা নিতে এসে প্রতিনিয়ত নানা হয়রানির অভিযোগ তুলছেন জমির মালিকরা। বিশেষ করে সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের ২ নম্বর কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী বেঞ্চ সহকারী হেলাল উদ্দিনকে কেন্দ্র করে উঠেছে ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ।

ভুক্তভোগীদের দাবি, জমির পরিমাণ, খতিয়ান কিংবা মামলার ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হারে অর্থ দাবি করেন বেঞ্চ সহকারী হেলাল উদ্দিন। কখনো প্রতি খতিয়ান, কখনো প্রতি মামলার ভিত্তিতে নেওয়া হয় টাকা। অভিযোগ রয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করার নাম করেও হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিপুল অঙ্কের অর্থ।

জমির মালিকদের অনেকেই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থাকলেও জানিয়েছেন, হেলালের ভয়ে তারা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে তারা অভিযোগ করেছেন, টাকা না দিলে মামলা দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে রাখা, বারবার তারিখ দেওয়া কিংবা খতিয়ান কর্তনের ভয় দেখানো হচ্ছে নিয়মিত।

অভিযোগ অনুযায়ী, হেলাল উদ্দিন তার আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেট অফিসের ভেতরে-বাইরে সক্রিয় থেকে মক্কেলদের প্রভাবিত করে, টাকা দিতে বাধ্য করে এবং অস্বীকৃতি জানালে ভয়ভীতি দেখায়। অনেক ক্ষেত্রেই অফিসের বাইরে নিয়ে গিয়ে ‘সমঝোতা’ করানো হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, বেশিরভাগ বাদী-বিবাদী স্থানীয় না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে আপোষ করতে রাজি হচ্ছেন। মামলা জেতানো বা খতিয়ান বহাল রাখার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বিকেল ৪টার পরও আদালতের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে হেলালের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মামলা হাতে নিয়েই সম্ভাব্য ফলাফল বুঝে পক্ষগুলোর সঙ্গে আলাদা করে সমঝোতায় বসেন এবং সেই অনুযায়ী অর্থ লেনদেন করেন।

জানা গেছে, সাভারে দায়িত্ব পালনকালে গাজীপুরের বাঘিয়া মৌজার তসদিক স্তরের কাজও নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন হেলাল উদ্দিন। এ বিষয়টিও তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, বিগত সরকারের আমলে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। প্রায় দুই বছর পর পুনরায় কার্যক্রম চালু হলেও দুর্নীতি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভূমি মালিকদের প্রশ্ন, একজন বেঞ্চ সহকারী হয়ে কীভাবে তিনি কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায় করছেন? তারা এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহল বলছে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ সহকারীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধে সেটেলমেন্ট অফিসে কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

সাভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলায় ভূমি সংক্রান্ত সেবা ব্যবস্থায় এমন অভিযোগ উদ্বেগজনক। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

সাভারে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতারণা চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, ৩টি মোবাইল উদ্ধার

সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের ৩০ ধারার মামলার শুনানিতে বেঞ্চ সহকারী হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, সিন্ডিকেট পরিচালনা ও সেবা গ্রহীতাদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে; দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ভুক্তভোগীদের।

সাভার সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষের রমরমা: বেঞ্চ সহকারী হেলালকে ঘিরে তোলপাড়

আপডেট সময়: ০৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকার সাভার উপজেলা—রাজধানী থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দেশের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। প্রায় ১৫ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস এই উপজেলায়, যেখানে রয়েছে মোট ২১৮টি মৌজা। এসব মৌজার অধিকাংশেই বিডিএস (বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে) কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও কিছু মৌজায় এখনো চলছে চূড়ান্ত ধাপের কাজ।

এর মধ্যে বড় বরদেশী মৌজায় বর্তমানে ৩০ ধারার মামলার শুনানি চলমান রয়েছে। তবে এই সেবা নিতে এসে প্রতিনিয়ত নানা হয়রানির অভিযোগ তুলছেন জমির মালিকরা। বিশেষ করে সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের ২ নম্বর কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী বেঞ্চ সহকারী হেলাল উদ্দিনকে কেন্দ্র করে উঠেছে ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ।

ভুক্তভোগীদের দাবি, জমির পরিমাণ, খতিয়ান কিংবা মামলার ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হারে অর্থ দাবি করেন বেঞ্চ সহকারী হেলাল উদ্দিন। কখনো প্রতি খতিয়ান, কখনো প্রতি মামলার ভিত্তিতে নেওয়া হয় টাকা। অভিযোগ রয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করার নাম করেও হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিপুল অঙ্কের অর্থ।

জমির মালিকদের অনেকেই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থাকলেও জানিয়েছেন, হেলালের ভয়ে তারা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে তারা অভিযোগ করেছেন, টাকা না দিলে মামলা দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে রাখা, বারবার তারিখ দেওয়া কিংবা খতিয়ান কর্তনের ভয় দেখানো হচ্ছে নিয়মিত।

অভিযোগ অনুযায়ী, হেলাল উদ্দিন তার আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেট অফিসের ভেতরে-বাইরে সক্রিয় থেকে মক্কেলদের প্রভাবিত করে, টাকা দিতে বাধ্য করে এবং অস্বীকৃতি জানালে ভয়ভীতি দেখায়। অনেক ক্ষেত্রেই অফিসের বাইরে নিয়ে গিয়ে ‘সমঝোতা’ করানো হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, বেশিরভাগ বাদী-বিবাদী স্থানীয় না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে আপোষ করতে রাজি হচ্ছেন। মামলা জেতানো বা খতিয়ান বহাল রাখার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বিকেল ৪টার পরও আদালতের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে হেলালের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মামলা হাতে নিয়েই সম্ভাব্য ফলাফল বুঝে পক্ষগুলোর সঙ্গে আলাদা করে সমঝোতায় বসেন এবং সেই অনুযায়ী অর্থ লেনদেন করেন।

✒️ আরও পড়ুন 📖  গোপালগঞ্জজুড়ে গ্রেপ্তার আতঙ্ক

জানা গেছে, সাভারে দায়িত্ব পালনকালে গাজীপুরের বাঘিয়া মৌজার তসদিক স্তরের কাজও নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন হেলাল উদ্দিন। এ বিষয়টিও তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, বিগত সরকারের আমলে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। প্রায় দুই বছর পর পুনরায় কার্যক্রম চালু হলেও দুর্নীতি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভূমি মালিকদের প্রশ্ন, একজন বেঞ্চ সহকারী হয়ে কীভাবে তিনি কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায় করছেন? তারা এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহল বলছে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ সহকারীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধে সেটেলমেন্ট অফিসে কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

সাভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলায় ভূমি সংক্রান্ত সেবা ব্যবস্থায় এমন অভিযোগ উদ্বেগজনক। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।