রাজধানীর রমনার ঐতিহ্যবাহী বটমূল আবারও ভরে উঠেছে সুরের মূর্ছনায়। বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে সূর্যোদয়ের পরপরই শুরু হয়েছে ছায়ানটের বহুল প্রতীক্ষিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সম্মেলক কণ্ঠে পরিবেশিত ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হয় এবারের আয়োজনের।
প্রভাতের নির্মল আলো, পাখির ডাক আর বসন্তের মৃদু হাওয়ায় সুর, বাণী ও ছন্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। বরাবরের মতোই ছায়ানটের এই আয়োজন বাঙালির অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ধরা দেয়।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট পূর্বেই জানিয়েছিল, এবারের প্রভাতী অনুষ্ঠানে মোট ২২টি গান পরিবেশিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে ৮টি সম্মেলক গান এবং ১৪টি একক পরিবেশনা। পাশাপাশি দুটি পাঠও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রায় দুই শতাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন রূপ নেয় এক বিশাল সাংস্কৃতিক মহাসমুদ্রে। প্রতিটি পরিবেশনায় ফুটে ওঠে বাঙালির চিরায়ত চেতনা, মানবতা ও সৌন্দর্যবোধ।
ছায়ানটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের বর্ষবরণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তারা সকল শঙ্কা, অনিশ্চয়তা ও ভয়ের অবসান কামনা করে। একই সঙ্গে মানবজাতির জন্য শান্তি, স্বস্তি ও কল্যাণের পথ সুগম হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবছরের মতোই রমনার বটমূলে এই আয়োজন শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং বাঙালির আত্মপরিচয়, ঐক্য ও মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে উঠেছে।

অনলাইন ডেস্ক 





