ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত, পেট্রোকেমিক্যাল ও লুব্রিকেন্ট সংকটে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ; জনস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির আশঙ্কা

ভারতে কনডম সংকট, দাম বাড়ার শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি এসে পড়েছে ভারতের ভোক্তা বাজারে। দেশটির প্রায় ৮ হাজার ১৭০ কোটি রুপির কনডম উৎপাদন শিল্প বর্তমানে তীব্র সরবরাহ সংকটের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বাজারে এই পণ্যের ঘাটতি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি খুচরা পর্যায়ে দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে এই সংকটের পেছনে চাহিদা বৃদ্ধি দায়ী নয়। বরং মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়া এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পেট্রোকেমিক্যাল ও লুব্রিকেন্ট সরবরাহে বিঘ্ন। এর ফলে উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

ভারত বছরে ৪০০ কোটিরও বেশি কনডম উৎপাদন করে থাকে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এইচএলএল লাইফকেয়ার লিমিটেড, ম্যানকাইন্ড ফার্মা এবং কিউপিড লিমিটেডের মতো বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সরবরাহ চেইনের গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে এইচএলএল লাইফকেয়ার একাই বছরে প্রায় ২২১ কোটি কনডম উৎপাদন করে।

উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সিলিকন অয়েল ও অ্যামোনিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বর্তমানে লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত সিলিকন অয়েলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যা বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অন্যদিকে, কাঁচা ল্যাটেক্সকে স্থিতিশীল রাখতে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়ার দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়াও প্যাকেজিং উপকরণ—যেমন পিভিসি ফয়েল ও অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের সরবরাহ সীমাবদ্ধতা এবং দামের অস্থিরতা উৎপাদনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। পরিবহন খাতের সমস্যাও এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে।

ভারতের মতো বিশাল জনসংখ্যার দেশে কনডম সাধারণত “ব্যাপক বাজারজাত-স্বল্প মুনাফা” মডেলে সরবরাহ করা হয়, যাতে এটি সবার নাগালের মধ্যে থাকে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ব্যবসায়িক মডেল মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে।

গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে জানানো হয়, জ্বালানি ও বিদ্যুতের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে পেট্রোকেমিক্যাল খাতে সম্পদ বরাদ্দ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হতে পারে। এতে কাঁচামালের সরবরাহ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই সংকট কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি। পরিবার পরিকল্পনা ও যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধে কনডম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে এর দাম বেড়ে যাওয়া বা সরবরাহ কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত জটিলতা বাড়তে পারে।

ইতোমধ্যে দিল্লি ও মুম্বাইসহ বড় শহরগুলোর ফার্মেসিতে কনডম সরবরাহে অনিয়ম দেখা যাচ্ছে বলে জানা গেছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

সর্বাধিক পঠিত

সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির পৃথক অভিযান: ১৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪

সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত, পেট্রোকেমিক্যাল ও লুব্রিকেন্ট সংকটে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ; জনস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির আশঙ্কা

ভারতে কনডম সংকট, দাম বাড়ার শঙ্কা

আপডেট সময়: ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি এসে পড়েছে ভারতের ভোক্তা বাজারে। দেশটির প্রায় ৮ হাজার ১৭০ কোটি রুপির কনডম উৎপাদন শিল্প বর্তমানে তীব্র সরবরাহ সংকটের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বাজারে এই পণ্যের ঘাটতি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি খুচরা পর্যায়ে দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে এই সংকটের পেছনে চাহিদা বৃদ্ধি দায়ী নয়। বরং মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়া এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পেট্রোকেমিক্যাল ও লুব্রিকেন্ট সরবরাহে বিঘ্ন। এর ফলে উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

ভারত বছরে ৪০০ কোটিরও বেশি কনডম উৎপাদন করে থাকে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এইচএলএল লাইফকেয়ার লিমিটেড, ম্যানকাইন্ড ফার্মা এবং কিউপিড লিমিটেডের মতো বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সরবরাহ চেইনের গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে এইচএলএল লাইফকেয়ার একাই বছরে প্রায় ২২১ কোটি কনডম উৎপাদন করে।

উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সিলিকন অয়েল ও অ্যামোনিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বর্তমানে লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত সিলিকন অয়েলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যা বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অন্যদিকে, কাঁচা ল্যাটেক্সকে স্থিতিশীল রাখতে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়ার দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়াও প্যাকেজিং উপকরণ—যেমন পিভিসি ফয়েল ও অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের সরবরাহ সীমাবদ্ধতা এবং দামের অস্থিরতা উৎপাদনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। পরিবহন খাতের সমস্যাও এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে।

ভারতের মতো বিশাল জনসংখ্যার দেশে কনডম সাধারণত “ব্যাপক বাজারজাত-স্বল্প মুনাফা” মডেলে সরবরাহ করা হয়, যাতে এটি সবার নাগালের মধ্যে থাকে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ব্যবসায়িক মডেল মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে।

গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে জানানো হয়, জ্বালানি ও বিদ্যুতের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে পেট্রোকেমিক্যাল খাতে সম্পদ বরাদ্দ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হতে পারে। এতে কাঁচামালের সরবরাহ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

✒️ আরও পড়ুন 📖  প্রথম দিনেই যেসব চমক দিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই সংকট কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি। পরিবার পরিকল্পনা ও যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধে কনডম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে এর দাম বেড়ে যাওয়া বা সরবরাহ কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত জটিলতা বাড়তে পারে।

ইতোমধ্যে দিল্লি ও মুম্বাইসহ বড় শহরগুলোর ফার্মেসিতে কনডম সরবরাহে অনিয়ম দেখা যাচ্ছে বলে জানা গেছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে