ঢাকা , শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের জালে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী, উদ্ধার হেরোইন সাভার প্রেস ক্লাবের জন্য জমিসহ নতুন ভবন নির্মাণের ঘোষণা গরমে শরীরের নীরব সংকেত: অবহেলা করলেই বাড়ছে মারাত্মক ঝুঁকি দুইদিন পর উৎপাদনে ফিরলো বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট, কমবে লোডশেডিং বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি ‘উচ্চঝুঁকিপূর্ণ’: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা, বাড়ছে শিশুমৃত্যু মেধাভিত্তিক জনপ্রশাসন গড়ার ওপর জোর প্রধানমন্ত্রীর তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ের দাপট: কবে মিলবে স্বস্তি? আঙিনায় টবভর্তি গাঁজা, বরিশালে মাদক ব্যবসার নতুন কৌশল ফাঁস দেশে তেলের সংকট নেই, কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা: মির্জা ফখরুল ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে হত্যা
রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয় স্মৃতিসৌধ; সকাল থেকেই হাজারো মানুষের উপস্থিতি

বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল, ফুলেল শ্রদ্ধায় স্মরণ বীর শহীদদের

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে নেমেছে সর্বস্তরের জনতার ঢল। ফুলেল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে দেশের জন্য আত্মদানকারী বীর শহীদদের।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসতে শুরু করেন। রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা শ্রদ্ধা নিবেদন সম্পন্ন করার পর জাতীয় স্মৃতিসৌধ খুলে দেওয়া হয় সর্বসাধারণের জন্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে ভিড় করছেন। হাতে ফুল, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে তারা একে একে বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এতে ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে শহীদ বেদী।

প্রায় এক মাস ধরে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রেওয়াজ অনুযায়ী গত চারদিন জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় সর্বসাধারণের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরই সেখানে নামে হাজারো মানুষের ঢল।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসা কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা বলেন, “আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। তবে বইয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জেনেছি। আজ পরিবারের সঙ্গে প্রথমবার জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পেরে গর্ববোধ করছি।”

বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা সোহাগ মাহমুদ বলেন, “যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছরই জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসি। এবারও ফুল দিয়ে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানালাম।” এর আগে, সকাল ৬টা ৩৩ মিনিটে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে জাতির বীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে প্রথম পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

এরপর সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনকালে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে। বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। পরে প্রধান উপদেষ্টা স্মৃতিসৌধে সংরক্ষিত দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

এ সময় প্রধান বিচারপতি, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, মুক্তিযোদ্ধা, কূটনীতিকসহ বেসামরিক ও সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ জাতি যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস পালন করছে। সরকার ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

সর্বাধিক পঠিত

আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের জালে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী, উদ্ধার হেরোইন

রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয় স্মৃতিসৌধ; সকাল থেকেই হাজারো মানুষের উপস্থিতি

বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল, ফুলেল শ্রদ্ধায় স্মরণ বীর শহীদদের

আপডেট সময়: ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে নেমেছে সর্বস্তরের জনতার ঢল। ফুলেল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে দেশের জন্য আত্মদানকারী বীর শহীদদের।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসতে শুরু করেন। রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা শ্রদ্ধা নিবেদন সম্পন্ন করার পর জাতীয় স্মৃতিসৌধ খুলে দেওয়া হয় সর্বসাধারণের জন্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে ভিড় করছেন। হাতে ফুল, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে তারা একে একে বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এতে ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে শহীদ বেদী।

প্রায় এক মাস ধরে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রেওয়াজ অনুযায়ী গত চারদিন জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় সর্বসাধারণের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরই সেখানে নামে হাজারো মানুষের ঢল।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসা কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা বলেন, “আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। তবে বইয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জেনেছি। আজ পরিবারের সঙ্গে প্রথমবার জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পেরে গর্ববোধ করছি।”

বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা সোহাগ মাহমুদ বলেন, “যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছরই জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসি। এবারও ফুল দিয়ে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানালাম।” এর আগে, সকাল ৬টা ৩৩ মিনিটে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে জাতির বীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে প্রথম পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

এরপর সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনকালে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে। বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। পরে প্রধান উপদেষ্টা স্মৃতিসৌধে সংরক্ষিত দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

এ সময় প্রধান বিচারপতি, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, মুক্তিযোদ্ধা, কূটনীতিকসহ বেসামরিক ও সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ জাতি যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস পালন করছে। সরকার ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।