ঢাকা , শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
সাভারে ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক বাংলাদেশে বিনিয়োগে চীনা ব্যবসায়ীদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ২ কেজি গাঁজা ও ৫০ পিস ইয়াবাসহ চার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকায় প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত তেঁতুলঝোড়া ইউপি নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বিএনপির দুই নেতা, সরব নির্বাচনী মাঠ ৮০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সাভারে ডাকাতি প্রস্তুতির অভিযোগে ৩ আটক ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, তিনজন গ্রেপ্তার সাভারে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ঢাকা জেলায় বিশেষ অভিযানে ডাকাত দলের ৩ সদস্য গ্রেফতার
দাবদাহে পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঘাম বা হঠাৎ ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া—সবই হতে পারে তাপজনিত অসুস্থতার সতর্কবার্তা; সময়মতো সচেতন না হলে বিপদ বাড়ে

গরমে শরীরের নীরব সংকেত: অবহেলা করলেই বাড়ছে মারাত্মক ঝুঁকি

গ্রীষ্মের দাবদাহ যেন প্রতি বছরই নতুন করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় মানুষের শরীরের দিকে। তাপমাত্রা যত বাড়ে, শরীরের ওপর চাপও তত বাড়তে থাকে। বাইরে রোদে বের হলেই ক্লান্তি, অস্বস্তি কিংবা ঘাম—এসবকে আমরা খুব সাধারণ ঘটনা বলে ধরে নিই। কিন্তু এই স্বাভাবিক মনে হওয়া লক্ষণগুলোর মধ্যেই অনেক সময় লুকিয়ে থাকে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির পূর্বাভাস। তাই গরমে শরীরের ছোট ছোট সংকেতও গুরুত্ব দিয়ে বোঝা জরুরি।

প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে আগে যে সমস্যাটি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তা হলো পানিশূন্যতা। শরীর যখন পর্যাপ্ত পানি হারায়, তখন মুখ শুকিয়ে যায়, গলা খসখসে লাগে এবং তৃষ্ণা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যাওয়া বা স্বাভাবিকের তুলনায় কম প্রস্রাব হওয়াও এই ঘাটতির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

অনেকেই বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেন না, কিন্তু এখান থেকেই শুরু হতে পারে বড় জটিলতা। কারণ শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে পানি একটি প্রধান উপাদান, আর সেটির ঘাটতি মানেই ভেতরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়া।

এই অবস্থার সঙ্গে যদি যোগ হয় মাথা ঘোরা, ঝিমঝিম ভাব কিংবা হঠাৎ অস্বাভাবিক ক্লান্তি, তাহলে বুঝতে হবে শরীর আর পরিস্থিতি সামলাতে পারছে না। অনেক সময় দেখা যায়, কেউ হঠাৎ দাঁড়িয়ে থাকতে পারছেন না, চোখে অন্ধকার দেখছেন বা মনোযোগ ধরে রাখতে পারছেন না—এসবই তাপজনিত সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

ঘাম নিয়েও রয়েছে আরেকটি বিভ্রান্তি। আমরা মনে করি, বেশি ঘাম হওয়া মানেই শরীর ঠিকভাবে কাজ করছে। কিন্তু অতিরিক্ত ঘাম যেমন বিপদের লক্ষণ হতে পারে, তেমনি হঠাৎ করে ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়াও সমান উদ্বেগজনক। শরীর যখন অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় এবং ঘাম ঝরা বন্ধ হয়ে যায়, তখন সেটি তাপঘাতের (হিটস্ট্রোক) দিকে এগোনোর ইঙ্গিত দেয়। এ সময় ত্বক লালচে হয়ে যেতে পারে, শরীর অস্বাভাবিক গরম অনুভূত হয় এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়।

এর পাশাপাশি অনেকের ক্ষেত্রে বমিভাব, পেশিতে টান বা পেটে অস্বস্তির মতো উপসর্গও দেখা দেয়। এগুলোকে অনেক সময় সাধারণ গ্যাস্ট্রিক বা ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে এগুলো শরীরের ভেতরে তাপজনিত চাপেরই বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে যারা বাইরে কাজ করেন বা দীর্ঘ সময় রোদে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে এসব লক্ষণ আরও দ্রুত দেখা দিতে পারে।

সমস্যা হলো, এই লক্ষণগুলোকে আমরা বেশিরভাগ সময়ই হালকাভাবে নিই। কাজ চালিয়ে যাই, বিশ্রাম নেওয়ার কথা ভাবি না। অথচ এই সামান্য অবহেলাই পরিস্থিতিকে দ্রুত জটিল করে তুলতে পারে। তাই শরীর যখন সতর্কবার্তা দেয়, তখনই থামা জরুরি। ঠান্ডা জায়গায় আশ্রয় নেওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, শরীরে ঠান্ডা পানি দেওয়া কিংবা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা—এই সহজ পদক্ষেপগুলোই বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে।

গরমের দিনে সচেতনতা মানেই কেবল আরাম খোঁজা নয়, বরং নিজের শরীরের ভাষা বোঝা। কারণ শরীর কখনো হঠাৎ করে ভেঙে পড়ে না—আগেই নানা ইঙ্গিত দেয়। সেই ইঙ্গিতগুলোকে গুরুত্ব দিতে পারলেই এড়ানো সম্ভব মারাত্মক ঝুঁকি। তাই এই গ্রীষ্মে একটু বেশি সতর্ক থাকুন, নিজের শরীরের কথাগুলো মন দিয়ে শুনুন।

সাভারে ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক

দাবদাহে পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঘাম বা হঠাৎ ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া—সবই হতে পারে তাপজনিত অসুস্থতার সতর্কবার্তা; সময়মতো সচেতন না হলে বিপদ বাড়ে

গরমে শরীরের নীরব সংকেত: অবহেলা করলেই বাড়ছে মারাত্মক ঝুঁকি

আপডেট সময়: ১২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

গ্রীষ্মের দাবদাহ যেন প্রতি বছরই নতুন করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় মানুষের শরীরের দিকে। তাপমাত্রা যত বাড়ে, শরীরের ওপর চাপও তত বাড়তে থাকে। বাইরে রোদে বের হলেই ক্লান্তি, অস্বস্তি কিংবা ঘাম—এসবকে আমরা খুব সাধারণ ঘটনা বলে ধরে নিই। কিন্তু এই স্বাভাবিক মনে হওয়া লক্ষণগুলোর মধ্যেই অনেক সময় লুকিয়ে থাকে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির পূর্বাভাস। তাই গরমে শরীরের ছোট ছোট সংকেতও গুরুত্ব দিয়ে বোঝা জরুরি।

প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে আগে যে সমস্যাটি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তা হলো পানিশূন্যতা। শরীর যখন পর্যাপ্ত পানি হারায়, তখন মুখ শুকিয়ে যায়, গলা খসখসে লাগে এবং তৃষ্ণা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যাওয়া বা স্বাভাবিকের তুলনায় কম প্রস্রাব হওয়াও এই ঘাটতির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

অনেকেই বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেন না, কিন্তু এখান থেকেই শুরু হতে পারে বড় জটিলতা। কারণ শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে পানি একটি প্রধান উপাদান, আর সেটির ঘাটতি মানেই ভেতরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়া।

এই অবস্থার সঙ্গে যদি যোগ হয় মাথা ঘোরা, ঝিমঝিম ভাব কিংবা হঠাৎ অস্বাভাবিক ক্লান্তি, তাহলে বুঝতে হবে শরীর আর পরিস্থিতি সামলাতে পারছে না। অনেক সময় দেখা যায়, কেউ হঠাৎ দাঁড়িয়ে থাকতে পারছেন না, চোখে অন্ধকার দেখছেন বা মনোযোগ ধরে রাখতে পারছেন না—এসবই তাপজনিত সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

ঘাম নিয়েও রয়েছে আরেকটি বিভ্রান্তি। আমরা মনে করি, বেশি ঘাম হওয়া মানেই শরীর ঠিকভাবে কাজ করছে। কিন্তু অতিরিক্ত ঘাম যেমন বিপদের লক্ষণ হতে পারে, তেমনি হঠাৎ করে ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়াও সমান উদ্বেগজনক। শরীর যখন অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় এবং ঘাম ঝরা বন্ধ হয়ে যায়, তখন সেটি তাপঘাতের (হিটস্ট্রোক) দিকে এগোনোর ইঙ্গিত দেয়। এ সময় ত্বক লালচে হয়ে যেতে পারে, শরীর অস্বাভাবিক গরম অনুভূত হয় এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়।

এর পাশাপাশি অনেকের ক্ষেত্রে বমিভাব, পেশিতে টান বা পেটে অস্বস্তির মতো উপসর্গও দেখা দেয়। এগুলোকে অনেক সময় সাধারণ গ্যাস্ট্রিক বা ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে এগুলো শরীরের ভেতরে তাপজনিত চাপেরই বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে যারা বাইরে কাজ করেন বা দীর্ঘ সময় রোদে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে এসব লক্ষণ আরও দ্রুত দেখা দিতে পারে।

সমস্যা হলো, এই লক্ষণগুলোকে আমরা বেশিরভাগ সময়ই হালকাভাবে নিই। কাজ চালিয়ে যাই, বিশ্রাম নেওয়ার কথা ভাবি না। অথচ এই সামান্য অবহেলাই পরিস্থিতিকে দ্রুত জটিল করে তুলতে পারে। তাই শরীর যখন সতর্কবার্তা দেয়, তখনই থামা জরুরি। ঠান্ডা জায়গায় আশ্রয় নেওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, শরীরে ঠান্ডা পানি দেওয়া কিংবা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা—এই সহজ পদক্ষেপগুলোই বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে।

গরমের দিনে সচেতনতা মানেই কেবল আরাম খোঁজা নয়, বরং নিজের শরীরের ভাষা বোঝা। কারণ শরীর কখনো হঠাৎ করে ভেঙে পড়ে না—আগেই নানা ইঙ্গিত দেয়। সেই ইঙ্গিতগুলোকে গুরুত্ব দিতে পারলেই এড়ানো সম্ভব মারাত্মক ঝুঁকি। তাই এই গ্রীষ্মে একটু বেশি সতর্ক থাকুন, নিজের শরীরের কথাগুলো মন দিয়ে শুনুন।