ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
সাভারে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতারণা চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, ৩টি মোবাইল উদ্ধার সাভারে ডিবির পৃথক অভিযানে দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, উদ্ধার ইয়াবা-হেরোইন ও নগদ টাকা সাভারে ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযান: চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, প্রাইভেটকার উদ্ধার সাভার ও আশুলিয়ায় ডিবির বিশেষ অভিযান: গাঁজা ও ইয়াবাসহ ৪ জন গ্রেপ্তার আলিয়া-দীপিকাকে নিয়ে কী বললেন রাধিকা? তনুশ্রী দত্তের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না, অভিযোগ অভিনেত্রী হেতল যাদবের টানা ১০ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলছে স্কুল-মাদ্রাসা, কলেজে ক্লাস ১ নভেম্বর সাভার-আশুলিয়ায় ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩ সাভার বিএনপি সভাপতি সাইফুলকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ তৃণমূল আমিনবাজারে সরকারি ডিজেল পাচারের অভিযোগ, ট্রাকচালক আটক
দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় দুধের গুরুত্ব, পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্য উপকারিতা ও বিকল্প নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত বিশ্লেষণ

হাড় মজবুত থেকে ওজন নিয়ন্ত্রণ—দুধ কি সত্যিই ‘সুপারফুড’?

হাজার বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর একটি হিসেবে পরিচিত দুধ। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মধ্যে এ নিয়ে মাঝে মাঝে বিতর্ক থাকলেও সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে—দুধের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা যথেষ্ট শক্তিশালী এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।

এক কাপ (২৪৪ গ্রাম) গরুর দুধে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান। এতে প্রায় ৮ গ্রাম প্রোটিন ও ৮ গ্রাম ফ্যাট থাকে। পাশাপাশি এটি দৈনিক ক্যালসিয়াম চাহিদার প্রায় ২৮ শতাংশ, ভিটামিন ডি-এর ২৪ শতাংশ এবং ভিটামিন বি-১২ এর ১৮ শতাংশ পূরণ করে। এছাড়াও দুধে পটাশিয়াম, ফসফরাস, সেলেনিয়াম ও ভিটামিন বি-২ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পাওয়া যায়।

দুধে থাকা কনজুগেটেড লিনোলিক অ্যাসিড (CLA) এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে অর্গানিক দুধে ভিটামিন-ই ও বিটা-ক্যারোটিনের মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বেশি থাকে, যা শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

হাড়ের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে দুধের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে থাকা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ভিটামিন ডি ও কে-২ শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়ায় এবং হাড়কে মজবুত করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত দুধ পান করলে বিশেষ করে বয়স্কদের অস্টিওপরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

অনেকের ধারণা দুধ ওজন বাড়ায়, তবে গবেষণায় দেখা গেছে—দুধে থাকা উচ্চমাত্রার প্রোটিন দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। প্রায় ১৮ হাজার নারীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
শরীরচর্চার পর দুধ পান করলে পেশির ক্ষয় কমে এবং শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া দ্রুত হয়। দুধকে ‘কমপ্লিট প্রোটিন’ বলা হয়, কারণ এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে।

তবে সবার জন্য দুধ উপযোগী নয়। অনেক মানুষের শরীরে ল্যাকটোজ সহ্য হয় না, যার ফলে দুধ পান করলে হজমে সমস্যা দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা আমন্ড মিল্ক, ওট মিল্ক, রাইস মিল্ক বা নারকেল দুধের মতো বিকল্প গ্রহণের পরামর্শ দেন।

সাভারে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতারণা চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, ৩টি মোবাইল উদ্ধার

দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় দুধের গুরুত্ব, পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্য উপকারিতা ও বিকল্প নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত বিশ্লেষণ

হাড় মজবুত থেকে ওজন নিয়ন্ত্রণ—দুধ কি সত্যিই ‘সুপারফুড’?

আপডেট সময়: ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

হাজার বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর একটি হিসেবে পরিচিত দুধ। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মধ্যে এ নিয়ে মাঝে মাঝে বিতর্ক থাকলেও সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে—দুধের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা যথেষ্ট শক্তিশালী এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।

এক কাপ (২৪৪ গ্রাম) গরুর দুধে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান। এতে প্রায় ৮ গ্রাম প্রোটিন ও ৮ গ্রাম ফ্যাট থাকে। পাশাপাশি এটি দৈনিক ক্যালসিয়াম চাহিদার প্রায় ২৮ শতাংশ, ভিটামিন ডি-এর ২৪ শতাংশ এবং ভিটামিন বি-১২ এর ১৮ শতাংশ পূরণ করে। এছাড়াও দুধে পটাশিয়াম, ফসফরাস, সেলেনিয়াম ও ভিটামিন বি-২ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পাওয়া যায়।

দুধে থাকা কনজুগেটেড লিনোলিক অ্যাসিড (CLA) এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে অর্গানিক দুধে ভিটামিন-ই ও বিটা-ক্যারোটিনের মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বেশি থাকে, যা শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

হাড়ের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে দুধের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে থাকা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ভিটামিন ডি ও কে-২ শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়ায় এবং হাড়কে মজবুত করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত দুধ পান করলে বিশেষ করে বয়স্কদের অস্টিওপরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

অনেকের ধারণা দুধ ওজন বাড়ায়, তবে গবেষণায় দেখা গেছে—দুধে থাকা উচ্চমাত্রার প্রোটিন দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। প্রায় ১৮ হাজার নারীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
শরীরচর্চার পর দুধ পান করলে পেশির ক্ষয় কমে এবং শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া দ্রুত হয়। দুধকে ‘কমপ্লিট প্রোটিন’ বলা হয়, কারণ এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে।

তবে সবার জন্য দুধ উপযোগী নয়। অনেক মানুষের শরীরে ল্যাকটোজ সহ্য হয় না, যার ফলে দুধ পান করলে হজমে সমস্যা দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা আমন্ড মিল্ক, ওট মিল্ক, রাইস মিল্ক বা নারকেল দুধের মতো বিকল্প গ্রহণের পরামর্শ দেন।

✒️ আরও পড়ুন 📖  রোদে গেলেই কি পাওয়া যায় ভিটামিন ‘ডি’? জানুন সত্য ও ভিটামিন ডির গুরুত্ব