ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুমে জড়িতদের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান গুমের ফলে মৃত্যু হলে সর্বোচ্চ শাস্তি—মৃত্যুদণ্ড জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলা বিচার করবে ট্রাইব্যুনাল অধস্তনদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলেও শাস্তি পেতে পারেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করতে বাধ্য

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ: মৃত্যুদণ্ড–যাবজ্জীবনসহ কঠোর সাজা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময়: ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 221

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

সরকার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ এর গেজেট প্রকাশ করেছে, যেখানে প্রথমবারের মতো গুমের অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত হয়েছে। নতুন এই আইনে গুমের কারণে কোনো ব্যক্তি আইনগত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হলে দায়ী ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হবে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, গুমের ফলে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে বা গুমের পাঁচ বছর পরও উদ্ধার না হলে দায়ী ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি—মৃত্যুদণ্ড রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রাখা হয়েছে এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেওয়ার বিধান।

সোমবার রাতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ গেজেট প্রকাশ করে। গত ৬ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ খসড়াটি অনুমোদন দেয়। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, গুমের মামলায় জামিন ও আপোস করা যাবে না এবং বিভাগীয় বা জেলা পর্যায়ে এক বা একাধিক ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হবে।

শুধুমাত্র জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এই ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গ্রহণ করে বিচার করতে পারবে। অভিযোগ গঠনের পর ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করার বাধ্যবাধকতাও এতে যুক্ত করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে উল্লেখ রয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যদি কাউকে গ্রেপ্তার, আটক, অপহরণ বা স্বাধীনতা হরণের পর তা অস্বীকার করেন অথবা ওই ব্যক্তির অবস্থান গোপন রাখেন–তবে সেটি গুম হিসেবে গণ্য হবে।

এমন অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। একই সঙ্গে তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও সমান শাস্তি
অধ্যাদেশে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, গুমের ঘটনায় আদেশ, অনুমতি, সম্মতি বা প্ররোচনা দেওয়া কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কমান্ডার বা দলনেতাকেও সমান শাস্তি পেতে হবে।

এমনকি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থতা বা অধস্তনদের নিয়ন্ত্রণে অবহেলা করলেও ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে মূল অপরাধীর মতোই দায়ী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

অনুপস্থিতিতেও বিচার
অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক হলেও তার অনুপস্থিতিতেই বিচার পরিচালনার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গুম হওয়া ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার বা হস্তান্তর সম্পর্কেও পৃথক ধারা যুক্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সনদ ও প্রেক্ষাপট
রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের সমালোচনা ছিল। গত বছরের ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী সরকারের পতনের পর ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত গোপন বন্দিশালা থেকে কয়েকজন নিখোঁজ ব্যক্তির উদ্ধার হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে (ICPPED) কোনো শর্ত ছাড়াই যোগ দেয়। নতুন এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে সেই আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণই সরকারের লক্ষ্য বলে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির পৃথক অভিযান: ১৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪

গুমে জড়িতদের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান গুমের ফলে মৃত্যু হলে সর্বোচ্চ শাস্তি—মৃত্যুদণ্ড জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলা বিচার করবে ট্রাইব্যুনাল অধস্তনদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলেও শাস্তি পেতে পারেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করতে বাধ্য

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ: মৃত্যুদণ্ড–যাবজ্জীবনসহ কঠোর সাজা

আপডেট সময়: ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

সরকার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ এর গেজেট প্রকাশ করেছে, যেখানে প্রথমবারের মতো গুমের অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত হয়েছে। নতুন এই আইনে গুমের কারণে কোনো ব্যক্তি আইনগত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হলে দায়ী ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হবে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, গুমের ফলে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে বা গুমের পাঁচ বছর পরও উদ্ধার না হলে দায়ী ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি—মৃত্যুদণ্ড রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রাখা হয়েছে এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেওয়ার বিধান।

সোমবার রাতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ গেজেট প্রকাশ করে। গত ৬ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ খসড়াটি অনুমোদন দেয়। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, গুমের মামলায় জামিন ও আপোস করা যাবে না এবং বিভাগীয় বা জেলা পর্যায়ে এক বা একাধিক ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হবে।

শুধুমাত্র জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এই ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গ্রহণ করে বিচার করতে পারবে। অভিযোগ গঠনের পর ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করার বাধ্যবাধকতাও এতে যুক্ত করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে উল্লেখ রয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যদি কাউকে গ্রেপ্তার, আটক, অপহরণ বা স্বাধীনতা হরণের পর তা অস্বীকার করেন অথবা ওই ব্যক্তির অবস্থান গোপন রাখেন–তবে সেটি গুম হিসেবে গণ্য হবে।

এমন অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। একই সঙ্গে তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও সমান শাস্তি
অধ্যাদেশে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, গুমের ঘটনায় আদেশ, অনুমতি, সম্মতি বা প্ররোচনা দেওয়া কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কমান্ডার বা দলনেতাকেও সমান শাস্তি পেতে হবে।

এমনকি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থতা বা অধস্তনদের নিয়ন্ত্রণে অবহেলা করলেও ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে মূল অপরাধীর মতোই দায়ী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

✒️ আরও পড়ুন 📖  তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ের দাপট: কবে মিলবে স্বস্তি?

অনুপস্থিতিতেও বিচার
অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক হলেও তার অনুপস্থিতিতেই বিচার পরিচালনার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গুম হওয়া ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার বা হস্তান্তর সম্পর্কেও পৃথক ধারা যুক্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সনদ ও প্রেক্ষাপট
রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের সমালোচনা ছিল। গত বছরের ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী সরকারের পতনের পর ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত গোপন বন্দিশালা থেকে কয়েকজন নিখোঁজ ব্যক্তির উদ্ধার হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে (ICPPED) কোনো শর্ত ছাড়াই যোগ দেয়। নতুন এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে সেই আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণই সরকারের লক্ষ্য বলে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।