১৩৩টি অধ্যাদেশকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনে রূপান্তরের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে আজ মঙ্গলবার থেকে জাতীয় সংসদের অধিবেশন দিনে দুই বেলা বা দুই সেশনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সময়ের স্বল্পতা এবং সম্ভাব্য আইনি শূন্যতা এড়াতে সংসদ কর্তৃপক্ষ এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এখন থেকে প্রতিদিন সকাল ও বিকেল—উভয় সময়েই সংসদ সদস্যরা আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে অংশ নেবেন। সংসদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে এই ‘ডাবল শিফট’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ইতোমধ্যে ৯টি অধ্যাদেশ বিল আকারে সংসদে পাস করা হয়েছে। বাকি অধ্যাদেশগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্যই অধিবেশন সময় বাড়ানো হয়েছে।
গত সোমবার (৬ এপ্রিল) ছিল সংসদের জন্য অত্যন্ত কর্মমুখর একটি দিন। মাত্র এক কার্যদিবসেই সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করা হয়। একই দিনে আরও তিনটি নতুন বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়, যা সংসদের ব্যস্ততা ও তৎপরতার চিত্র স্পষ্ট করে।
তবে উত্থাপিত তিনটি বিলের ক্ষেত্রে বিরোধী দল থেকে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও আপত্তি উত্থাপন করা হয়। ফলে বিলগুলো তাৎক্ষণিকভাবে পাস করা সম্ভব হয়নি। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, এসব জনগুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আরও বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, আজকের অধিবেশনে আলোচনা শেষে এসব বিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির জারি করা কোনো অধ্যাদেশ সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের ৩০ দিনের মধ্যে আইন হিসেবে পাস না হলে তা বাতিল হয়ে যায়।
এই সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কারণে ১৩৩টি অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে রূপান্তরের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে সংসদের কার্যক্রম কয়েক গুণ বাড়াতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপান্তর না হলে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। সেই ঝুঁকি এড়াতেই সংসদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

অনলাইন ডেস্ক 





