ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
অবহেলা নয়, সময়মতো সচেতনতা জরুরি

সাধারণ উপসর্গেই লুকিয়ে থাকতে পারে মস্তিষ্কের টিউমার

মাথাব্যথা, ক্লান্তি বা ভুলে যাওয়ার মতো সাধারণ সমস্যাগুলোকে আমরা প্রায়ই গুরুত্ব দিই না। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই লক্ষণগুলোই হতে পারে মস্তিষ্কের টিউমারের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত।
মূল প্রতিবেদন

দৈনন্দিন জীবনে মাথাব্যথা, ক্লান্তি বা ছোটখাটো ভুলে যাওয়া—এসব বিষয়কে আমরা সাধারণ সমস্যা হিসেবেই ধরে নিই। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, দীর্ঘদিন ধরে এমন লক্ষণগুলো দেখা দিলে তা অবহেলা করা মোটেও নিরাপদ নয়।

ওল্ফসন ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন হেলথ-এর গবেষক লরা স্ট্যান্ডেন জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রেই রোগী এবং সাধারণ চিকিৎসকরা প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দেন না। এর ফলে রোগ শনাক্তে দেরি হয় এবং চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে।

যেসব ৭টি লক্ষণে সতর্ক হবেন
১. কথা বলতে জড়তা
কথা বলার সময় সঠিক শব্দ খুঁজে না পাওয়া, বাক্য গঠনে সমস্যা বা হঠাৎ কথার ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলা।

২. মানসিক কুয়াশা
মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা, সহজ বিষয় ভুলে যাওয়া বা কেন কোথাও এসেছেন সেটাও মনে না থাকা।

৩. শরীরে অস্বাভাবিক অনুভূতি
মুখ, জিহ্বা বা শরীরের কোনো অংশে ঝিঁঝিঁ ধরা, অবশ ভাব বা অদ্ভুত অনুভূতি হওয়া।

৪. দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন
একটি জিনিসকে দুটি দেখা, ঝাপসা দেখা বা হঠাৎ দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন—যা অনেকেই চোখের সমস্যা ভেবে ভুল করেন।

৫. হাতের লেখায় পরিবর্তন
চোখ ও হাতের সমন্বয় নষ্ট হয়ে গিয়ে হঠাৎ লেখা অস্পষ্ট বা আঁকাবাঁকা হয়ে যাওয়া।

৬. আচরণ ও মেজাজের পরিবর্তন
অকারণে রাগ, খিটখিটে ভাব, আগ্রহ হারানো বা ব্যক্তিত্বে হঠাৎ পরিবর্তন—যা অনেক সময় মানসিক চাপ হিসেবে ভুল ধরা হয়।

৭. দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা
সাধারণ মাথাব্যথা ওষুধে কমে গেলেও, টিউমারজনিত ব্যথা দীর্ঘদিন থাকে এবং ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
লরা স্ট্যান্ডেন জোর দিয়ে বলেন, এই লক্ষণগুলো থাকলেই যে মস্তিষ্কের টিউমার হয়েছে—এমন নয়। তবে যদি এসব সমস্যা টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিক মনে হয়, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সফলতা অনেক বেশি হয়—এটাই বিশেষজ্ঞদের মূল বার্তা।

উপসংহার
সাধারণ উপসর্গ বলে অবহেলা না করে নিজের শরীরের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা জরুরি। সচেতনতা এবং দ্রুত পদক্ষেপই হতে পারে বড় বিপদ এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় আজপ্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও স্ত্রী স্বপ্নার সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা রাষ্ট্রপক্ষের

অবহেলা নয়, সময়মতো সচেতনতা জরুরি

সাধারণ উপসর্গেই লুকিয়ে থাকতে পারে মস্তিষ্কের টিউমার

আপডেট সময়: ১০:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

মাথাব্যথা, ক্লান্তি বা ভুলে যাওয়ার মতো সাধারণ সমস্যাগুলোকে আমরা প্রায়ই গুরুত্ব দিই না। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই লক্ষণগুলোই হতে পারে মস্তিষ্কের টিউমারের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত।
মূল প্রতিবেদন

দৈনন্দিন জীবনে মাথাব্যথা, ক্লান্তি বা ছোটখাটো ভুলে যাওয়া—এসব বিষয়কে আমরা সাধারণ সমস্যা হিসেবেই ধরে নিই। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, দীর্ঘদিন ধরে এমন লক্ষণগুলো দেখা দিলে তা অবহেলা করা মোটেও নিরাপদ নয়।

ওল্ফসন ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন হেলথ-এর গবেষক লরা স্ট্যান্ডেন জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রেই রোগী এবং সাধারণ চিকিৎসকরা প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দেন না। এর ফলে রোগ শনাক্তে দেরি হয় এবং চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে।

যেসব ৭টি লক্ষণে সতর্ক হবেন
১. কথা বলতে জড়তা
কথা বলার সময় সঠিক শব্দ খুঁজে না পাওয়া, বাক্য গঠনে সমস্যা বা হঠাৎ কথার ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলা।

২. মানসিক কুয়াশা
মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা, সহজ বিষয় ভুলে যাওয়া বা কেন কোথাও এসেছেন সেটাও মনে না থাকা।

৩. শরীরে অস্বাভাবিক অনুভূতি
মুখ, জিহ্বা বা শরীরের কোনো অংশে ঝিঁঝিঁ ধরা, অবশ ভাব বা অদ্ভুত অনুভূতি হওয়া।

৪. দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন
একটি জিনিসকে দুটি দেখা, ঝাপসা দেখা বা হঠাৎ দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন—যা অনেকেই চোখের সমস্যা ভেবে ভুল করেন।

৫. হাতের লেখায় পরিবর্তন
চোখ ও হাতের সমন্বয় নষ্ট হয়ে গিয়ে হঠাৎ লেখা অস্পষ্ট বা আঁকাবাঁকা হয়ে যাওয়া।

৬. আচরণ ও মেজাজের পরিবর্তন
অকারণে রাগ, খিটখিটে ভাব, আগ্রহ হারানো বা ব্যক্তিত্বে হঠাৎ পরিবর্তন—যা অনেক সময় মানসিক চাপ হিসেবে ভুল ধরা হয়।

৭. দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা
সাধারণ মাথাব্যথা ওষুধে কমে গেলেও, টিউমারজনিত ব্যথা দীর্ঘদিন থাকে এবং ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
লরা স্ট্যান্ডেন জোর দিয়ে বলেন, এই লক্ষণগুলো থাকলেই যে মস্তিষ্কের টিউমার হয়েছে—এমন নয়। তবে যদি এসব সমস্যা টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিক মনে হয়, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সফলতা অনেক বেশি হয়—এটাই বিশেষজ্ঞদের মূল বার্তা।

উপসংহার
সাধারণ উপসর্গ বলে অবহেলা না করে নিজের শরীরের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা জরুরি। সচেতনতা এবং দ্রুত পদক্ষেপই হতে পারে বড় বিপদ এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।