ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ভোটের আগে–পরে মোট ৫ দিন সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে নির্বাচনী অপরাধের তাৎক্ষণিক বিচার করবে ম্যাজিস্ট্রেসি আদালত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মাঠে ৬৫৫ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময়: ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 132

ভোটের আগে-পরে ৫ দিন সামারি ট্রায়াল, কেন্দ্র দখল-বিশৃঙ্খলায় তাৎক্ষণিক বিচার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সারা দেশে ৬৫৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনী অপরাধ সশরীরে আমলে নিয়ে তা সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে (সামারি ট্রায়াল) বিচারের জন্য তাদের এই বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (আইন) মোহাম্মদ দিদার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাবলে দায়িত্ব পালন করবেন।
এ সময়সূচিতে থাকবে—ভোটগ্রহণের পূর্বের দুই দিন, ভোটগ্রহণের দিন, ভোটগ্রহণের পরবর্তী দুই দিন
অর্থাৎ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচনী অপরাধ দমনই হবে তাদের প্রধান কাজ।

‘দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২’ (পি.ও. নং ১৫৫ অব ১৯৭২) এর অনুচ্ছেদ ৮৯-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এই নিয়োগ দেওয়া হয়। আইন ও বিচার বিভাগ এবং সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে। তারা ‘দ্য কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮’ এর ধারা ১৯০(১) অনুযায়ী তাৎক্ষণিক বিচার কার্য পরিচালনা করবেন।

ম্যাজিস্ট্রেটরা মূলত নিম্নোক্ত নির্বাচনী অপরাধে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারবেন—ভোটদানে বাধা প্রদান, কেন্দ্র দখল বা দখলের চেষ্টা, ব্যালট বা ভোটিং প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন সৃষ্টি, মারামারি-হামলা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, তফসিলভুক্ত অন্যান্য নির্বাচনী অপরাধ। এসব ঘটনায় তারা ঘটনাস্থলেই মামলা গ্রহণ করে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার সম্পন্ন করতে পারবেন।

ইসির নির্দেশনা: দ্রুত নিষ্পত্তি ও রিপোর্ট বাধ্যতামূলক⤵️
নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য নির্বাচন কমিশন একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে—
১০ ফেব্রুয়ারি পূর্বাহ্নে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় যোগদান করে তার কপি ইসি সচিবালয়ে পাঠাতে হবে। অপরাধ আমলে নেওয়ার পর দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। বিচারের ফলাফল বা ডিসপোজাল স্টেটমেন্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আইন শাখায় পাঠাতে হবে। প্রত্যেক ম্যাজিস্ট্রেট একজন বেঞ্চ সহকারী, স্টেনোগ্রাফার অথবা অফিস সহকারী সঙ্গে নিতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে—জেলা প্রশাসকরা জিপ, মাইক্রোবাস বা স্পিডবোটসহ প্রয়োজনীয় যানবাহন সরবরাহ করবেন। পুলিশ কমিশনার/পুলিশ সুপার/ওসিদের ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ মোতায়েন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের জন্য ৬৫৫ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দিষ্ট অধিক্ষেত্র ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড়-১ থেকে বান্দরবান পর্যন্ত প্রতিটি আসনে এক বা একাধিক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন।

নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগকে নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে তাৎক্ষণিক বিচার ব্যবস্থা কার্যকর হলে সহিংসতা ও অনিয়ম কমবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

সর্বাধিক পঠিত

গুণগত মানে জোর, বাতিল নিম্নমানের চামড়া

ভোটের আগে–পরে মোট ৫ দিন সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে নির্বাচনী অপরাধের তাৎক্ষণিক বিচার করবে ম্যাজিস্ট্রেসি আদালত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মাঠে ৬৫৫ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট

আপডেট সময়: ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভোটের আগে-পরে ৫ দিন সামারি ট্রায়াল, কেন্দ্র দখল-বিশৃঙ্খলায় তাৎক্ষণিক বিচার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সারা দেশে ৬৫৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনী অপরাধ সশরীরে আমলে নিয়ে তা সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে (সামারি ট্রায়াল) বিচারের জন্য তাদের এই বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (আইন) মোহাম্মদ দিদার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাবলে দায়িত্ব পালন করবেন।
এ সময়সূচিতে থাকবে—ভোটগ্রহণের পূর্বের দুই দিন, ভোটগ্রহণের দিন, ভোটগ্রহণের পরবর্তী দুই দিন
অর্থাৎ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচনী অপরাধ দমনই হবে তাদের প্রধান কাজ।

‘দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২’ (পি.ও. নং ১৫৫ অব ১৯৭২) এর অনুচ্ছেদ ৮৯-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এই নিয়োগ দেওয়া হয়। আইন ও বিচার বিভাগ এবং সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে। তারা ‘দ্য কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮’ এর ধারা ১৯০(১) অনুযায়ী তাৎক্ষণিক বিচার কার্য পরিচালনা করবেন।

ম্যাজিস্ট্রেটরা মূলত নিম্নোক্ত নির্বাচনী অপরাধে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারবেন—ভোটদানে বাধা প্রদান, কেন্দ্র দখল বা দখলের চেষ্টা, ব্যালট বা ভোটিং প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন সৃষ্টি, মারামারি-হামলা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, তফসিলভুক্ত অন্যান্য নির্বাচনী অপরাধ। এসব ঘটনায় তারা ঘটনাস্থলেই মামলা গ্রহণ করে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার সম্পন্ন করতে পারবেন।

ইসির নির্দেশনা: দ্রুত নিষ্পত্তি ও রিপোর্ট বাধ্যতামূলক⤵️
নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য নির্বাচন কমিশন একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে—
১০ ফেব্রুয়ারি পূর্বাহ্নে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় যোগদান করে তার কপি ইসি সচিবালয়ে পাঠাতে হবে। অপরাধ আমলে নেওয়ার পর দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। বিচারের ফলাফল বা ডিসপোজাল স্টেটমেন্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আইন শাখায় পাঠাতে হবে। প্রত্যেক ম্যাজিস্ট্রেট একজন বেঞ্চ সহকারী, স্টেনোগ্রাফার অথবা অফিস সহকারী সঙ্গে নিতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে—জেলা প্রশাসকরা জিপ, মাইক্রোবাস বা স্পিডবোটসহ প্রয়োজনীয় যানবাহন সরবরাহ করবেন। পুলিশ কমিশনার/পুলিশ সুপার/ওসিদের ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ মোতায়েন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের জন্য ৬৫৫ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দিষ্ট অধিক্ষেত্র ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড়-১ থেকে বান্দরবান পর্যন্ত প্রতিটি আসনে এক বা একাধিক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন।

নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগকে নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে তাৎক্ষণিক বিচার ব্যবস্থা কার্যকর হলে সহিংসতা ও অনিয়ম কমবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।