প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশক পর অনুষ্ঠিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। কেন্দ্রীয় সংসদের শীর্ষ তিনটি পদ—সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস)—সবকটিতেই জয় লাভ করেছে এই প্যানেল।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ৩৮টি কেন্দ্রের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে কেন্দ্রীয় সংসদের শীর্ষ তিন পদেই ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
সহসভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৫৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত একেএম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। এতে ৮৭০ ভোটের ব্যবধানে ভিপি নির্বাচিত হন রিয়াজুল ইসলাম।
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে আব্দুল আলিম আরিফ পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৭০ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ১ হাজার ৯৭৩ ভোট। ফলে ৩ হাজার ৪৯৭ ভোটের বড় ব্যবধানে জয়ী হন আব্দুল আলিম আরিফ।
সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে মাসুদ রানা পেয়েছেন ৫ হাজার ১৮ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত তানজিল পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৫ ভোট। এতে ৯৪৩ ভোটের ব্যবধানে এজিএস পদে বিজয়ী হন মাসুদ রানা।
এর আগে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশক পর প্রথমবারের মতো জকসু ও হল সংসদের নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হলে ব্যালট বাক্সগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে নেওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সেখানে ছয়টি ওএমআর (অপটিকাল মার্ক রিকগনিশন) মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনা শুরু হয়। তবে গণনার তথ্যে অসঙ্গতি দেখা দেওয়ায় কিছু সময়ের জন্য কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। পরে গভীর রাতে পুনরায় গণনা শুরু হয়।
নির্বাচন কমিশনার জুলফিকার মাহমুদ জানান, জকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১৬ হাজার ৬৪৫ জন। এর মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র আবাসিক হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদ নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়। ওই হলে মোট ভোটার ছিলেন ১ হাজার ২৪২ জন, যার মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশ ভোটার ভোট প্রদান করেছেন।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 







