ঢাকার সাভার উপজেলার জয়নাবাড়ী কান্দারচর আনন্দনগর হাউজিং এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ড্রাইভার মহিদুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামী আকরামুল ইসলামকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তাকে আটক করা হয় ঝিনাইদহ থেকে, যা এই আলোচিত মামলায় নতুন মোড় এনে দিয়েছে।
র্যাব-৪ ও র্যাব-৬ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা থানার গাড়াগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা সম্ভব হয়।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-৪, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহীনুর কবির। তিনি বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামী আত্মগোপনে ছিল। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে আমরা তার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হই এবং সফলভাবে তাকে গ্রেপ্তার করি।”
গ্রেপ্তারকৃত আকরামুল ইসলাম (৪৫) ঝিনাইদহ সদর থানার স্টেডিয়াম পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং আশরাফুল ইসলামের ছেলে। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেছেন, তার স্ত্রীর সঙ্গে নিহত মহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। এই বিষয়টি জানার পর থেকেই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ রাতে ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে কৌশলে ড্রাইভার মহিদুল ইসলামকে সাভারে নিয়ে আসা হয়। পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা। এই নৃশংস ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নিহত মহিদুল ইসলাম ছিলেন পেশায় একজন ড্রাইভার এবং এলাকায় বেশ পরিচিত মুখ। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে সাভার টেনারি ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে শনিবার ঢাকার আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এদিকে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন বর্বর ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।
মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, খুব শিগগিরই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 





