ঠাকুরগাঁও জেলায় হঠাৎ করেই বাড়তে শুরু করেছে হাম ও রুবেলার প্রকোপ। ইতোমধ্যে ১৮ শিশু এই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে চার শিশুর শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়লেও স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করেছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় ও স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে বর্তমানে দুই শিশু হামে এবং আরও দুই শিশু রুবেলায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাকি ১৪ শিশুকে নিজ নিজ বাড়িতে স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনিছুর রহমান জানান, আক্রান্তদের মধ্যে ছয় শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে দুই শিশুর শরীরে হাম এবং আরও দুই শিশুর শরীরে রুবেলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংক্রমণ ঠেকাতে আশপাশের এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ২০১৮ সালের পর বড় ধরনের টিকাদান কর্মসূচি না হওয়াও এই পরিস্থিতির একটি কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্ত শিশুদের শরীরে তীব্র জ্বর, ফুসকুড়ি, কাশি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে রুবেলা তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হলেও গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি মারাত্মক হতে পারে।
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল জানান, সংক্রমণ মোকাবিলায় হাসপাতালে দ্রুত ৪ শয্যার একটি আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসা নেওয়া দুই শিশু বর্তমানে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানে অনীহা বা নির্ধারিত কোর্স সম্পন্ন না করার কারণে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটে। শিশুদের সময়মতো এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। কোনো শিশুর শরীরে জ্বর বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি 






