নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নে এক সাবেক প্রধান শিক্ষকের ক্রয়কৃত বসতবাড়ীর জমির প্রাচীর ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী পরিবারের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংকের এক সিনিয়র কর্মকর্তার মা ও খালা রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের মাগুড়া মন্ডলবাড়ী গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম মন্ডল কবলা খরিদ সূত্রে প্রাপ্ত ভোগদখলীয় বসতবাড়ির ভিটার মালিক। উক্ত জমিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন এবং চারদিকে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ করা ছিল।
ভুক্তভোগীর দাবি, প্রতিবেশী পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে উক্ত জমির উপর ভুয়া মালিকানা দাবি করে দখলের পায়তারা করে আসছিল এবং নানা সময় হুমকি দিয়ে আসছিল।
ঘটনাটি ঘটে গত ৬ ডিসেম্বর, দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে। রফিকুল ইসলাম মন্ডল তার জমিতে ঘর উত্তোলনের প্রস্তুতি নিলে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠি, ছোরা, কুড়াল, লোহার রড ও খন্তি নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে বাউন্ডারী ওয়ালের প্রাচীর ভাঙচুর শুরু করেন।
এ সময় বাধা দিলে অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ধাক্কাধাক্কি করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযুক্তদের নাম: আমিরন বেগম (৫০) – মনতাজ হোসেনের স্ত্রী। শরীফা বেগম (৫৫) – মৃত দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী, কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসারের মা)। মনোয়ারা বেগম (৪৮) – মৃত মজিদুল ইসলামের স্ত্রী। স্বাধীন মিয়া (২৫) – ইয়াকুব আলীর ছেলে সহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন।
প্রত্যক্ষদর্শী মঞ্জিলা বেগম, লেবু মিয়া, নুরজাহান বেগম ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আবুসালেহ মুসা জানান, “রফিকুল ইসলাম মাস্টারের কেনা জমি চারদিকে প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ছিল। তিনি ঘর তুলতে গেলে অভিযুক্তরা এসে প্রাচীর ভেঙে ফেলে।”
তাদের দাবি, ঘটনার সময় কিশোরগঞ্জ উপজেলার সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার শরীফ হোসেন মুরাদের উপস্থিতিতে তার নির্দেশে ভাঙা স্থানে গাছ রোপণ ও বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার শরীফ হোসেন মুরাদ-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “উক্ত জমিতে আমার মা ও খালাদের অংশ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সেই অংশ জোরপূর্বক দখল করে রাখা হয়েছে। জমি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে আমার মামারা দখল না দেওয়ায় তারা নিজেদের অংশে প্রাচীরের কিছু অংশ ভেঙে গাছ রোপণ ও বেড়া দিয়েছেন।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ রফিকুল ইসলাম মন্ডল কিশোরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

নীলফামারী প্রতিনিধি 





