চরফ্যাসনে ৫০ টাকার স্ট্যাম্পে ৮ লাখ টাকার রহস্যময় সমঝোতা
চরফ্যাসন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের তিন সরকারি চাকরিজীবীকে বদলি এবং অন্য স্থান থেকে তিনজনকে সেখানে নিয়োগ দেওয়ার লক্ষ্যে ৫০ টাকা মূল্যমানের স্ট্যাম্পে একটি রহস্যজনক বায়না চুক্তিপত্র সম্পাদনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারের ৫০ টাকা মূল্যমানের স্ট্যাম্প নং কপ–৩৩৬২৩৬০, কপ–৩৩৬২৩৬১ ও কপ–৩৩৬২৩৬২-এ ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে এই চুক্তিপত্র লেখা হয়। চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে, চরফ্যাসন উপজেলার এক এনসিপি নেতা মোঃ সাহাবুদ্দিনের মাধ্যমে তিন সরকারি চাকরিজীবীকে চরফ্যাসন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়োগ এবং বর্তমানে কর্মরত তিনজনকে অন্যত্র বদলি করানো হবে।
চুক্তিপত্র অনুযায়ী, চরফ্যাসন পৌরসভার কুলসুমবাগ এলাকার বাসিন্দা এনসিপি নেতা মোঃ সাহাবুদ্দিনকে আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে কথিত তিন চাকরিজীবীকে চরফ্যাসন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং একই সঙ্গে সেখানে কর্মরত তিনজনকে শূন্য পদে বদলি করে চরফ্যাসন থেকে সরাতে হবে। শর্ত পূরণ হলে চরফ্যাসন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এক বিএনপি নেতা সাহাবুদ্দিন এনসিপি নেতা সাহাবুদ্দিনকে ৮ লাখ টাকা প্রদান করবেন বলে চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
চুক্তিপত্রে সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন মোঃ হান্নান, মোঃ আবুল কাশেম ও মোঃ আব্দুস সাত্তার। তাদের স্বাক্ষর স্ট্যাম্প নং কপ–৩৩৬২৩৬২-এ দেখা গেছে।
এদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের এ ধরনের ‘তুড়িমারা বদলি’ চুক্তি আদৌ বাস্তবায়ন হবে কিনা, কিংবা সংশ্লিষ্ট ছয়জন কর্মকর্তা এই বদলি মেনে নেবেন কিনা—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কী কারণে এই বদলি প্রয়োজন, সে বিষয়েও কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
চরফ্যাসন উপজেলায় এই তথাকথিত ‘ম্যাজিক্যাল বদলি’ বাস্তবায়িত হবে নাকি এটি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে—তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ছবিতে: বাংলাদেশ সরকারের ৫০ টাকা মূল্যমানের স্ট্যাম্প নং কপ–৩৩৬২৩৬০, কপ–৩৩৬২৩৬১ ও কপ–৩৩৬২৩৬২-এ লিখিত বিতর্কিত চুক্তিপত্র।

মোঃ আবুল কাশেম, ভোলা প্রতিনিধি 





