ঢাকা , রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
কুমিল্লায় কিশোরী জান্নাতুল তাজমীন হত্যা: আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক প্রথম রানেই ব্যাট তুলে উদযাপন, চার শূন্যের চাপ কাটিয়ে লিটনের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার বিতর্ক পেছনে ফেলে আল নাসরের জার্সিতে ফিরেই গোল, রোনালদোর ক্যারিয়ারে ৯৮০তম মাইলফলক মুকেশ আম্বানিকে ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ ইলন মাস্কের, স্টারলিংক নিয়ে নতুন বিতর্ক সাভারে ডিবি পুলিশের অভিযান: ১৩০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার জুমার দিন দুই খুতবার মাঝে যেসব দোয়া পড়বেন কক্সবাজারে হোটেলকক্ষে কুলসুমা হত্যা: সাত দিন পর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অভিযুক্ত ইরফান গ্রেফতার রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ১০ ধরনের খাবার, সুস্থ থাকতে রাখুন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় উৎসবের আগে ত্বক উজ্জ্বল ও সতেজ রাখতে খাদ্যতালিকায় রাখুন যেসব খাবার

সভ্য সমাজে মিথ্যার ভয়াবহতা: ইসলাম কী বলেছে?

সভ্য সমাজে মিথ্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলাম মিথ্যা বলা ও মিথ্যার মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি করার কঠোর নিন্দা করেছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মিথ্যার ভয়াবহ পরিণতি এবং এর জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ আছে। সবচেয়ে গুরুতর মিথ্যা হলো আল্লাহ, রাসূল ﷺ বা ধর্মের নামে মিথ্যা বলা।

মিথ্যা মানুষের হৃদয়ে কপটতা সৃষ্টি করে, জান্নাত থেকে দূরে সরিয়ে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়, সাক্ষ্য ও বর্ণনার গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করে এবং চেহারায় মলিনতা আনে। এমনকি কৌতুক বা শিশুদের সাথে মিথ্যা বলাও ইসলামে গুনাহ হিসেবে বিবেচিত।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন—

“এবং তাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত যারা মিথ্যাবাদী।” (আলে ইমরান: ৬১)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—

“যে ব্যক্তি মিথ্যা বর্জন করে, মশকরা বা কৌতুক করতেও মিথ্যা বলে না, তার জন্য জান্নাতের মধ্যদেশে একটি বাড়ির জন্য আমি দায়িত্ব গ্রহণ করলাম।” (আবু দাউদ)

শিশুদের সাথে মিথ্যা বলাও গুনাহ। একবার এক সাহাবির মা তাকে খেজুর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, এ সময় নবী ﷺ বলেন—

“তুমি যদি তাকে কিছু না দিতে, তবে তোমার নামে একটি মিথ্যার গুনাহ লেখা হতো।” (আবু দাউদ)

মিথ্যার ভয়াবহ প্রভাব:

অন্তরে কপটতা সৃষ্টি হয় – (সুরা তওবা: ৭৭)

জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায় – (বুখারি ৫৭৪৩; মুসলিম ২৬০৭)

সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হয় – (আলামুল মুয়াক্কিঈন ১/৯৫)

চেহারা কালো হয়ে যায় – (সুরা জুমার: ৬০)

প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ শায়খ সানআনি বলেন—

“বান্দা সত্য বললে সত্যবাদিতা তার আলামত হয়ে যায়, আর মিথ্যা বললে মিথ্যা বলা তার অভ্যাসে পরিণত হয়।” (সুবুলুস সালাম ২/৬৮৭)

ইসলাম সত্যবাদিতাকে মর্যাদা ও জান্নাতের পথ হিসেবে দেখিয়েছে এবং মিথ্যাকে জাহান্নামের পথ হিসেবে সতর্ক করেছে।

কুমিল্লায় কিশোরী জান্নাতুল তাজমীন হত্যা: আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক

সভ্য সমাজে মিথ্যার ভয়াবহতা: ইসলাম কী বলেছে?

আপডেট সময়: ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫

সভ্য সমাজে মিথ্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলাম মিথ্যা বলা ও মিথ্যার মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি করার কঠোর নিন্দা করেছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মিথ্যার ভয়াবহ পরিণতি এবং এর জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ আছে। সবচেয়ে গুরুতর মিথ্যা হলো আল্লাহ, রাসূল ﷺ বা ধর্মের নামে মিথ্যা বলা।

মিথ্যা মানুষের হৃদয়ে কপটতা সৃষ্টি করে, জান্নাত থেকে দূরে সরিয়ে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়, সাক্ষ্য ও বর্ণনার গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করে এবং চেহারায় মলিনতা আনে। এমনকি কৌতুক বা শিশুদের সাথে মিথ্যা বলাও ইসলামে গুনাহ হিসেবে বিবেচিত।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন—

“এবং তাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত যারা মিথ্যাবাদী।” (আলে ইমরান: ৬১)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—

“যে ব্যক্তি মিথ্যা বর্জন করে, মশকরা বা কৌতুক করতেও মিথ্যা বলে না, তার জন্য জান্নাতের মধ্যদেশে একটি বাড়ির জন্য আমি দায়িত্ব গ্রহণ করলাম।” (আবু দাউদ)

শিশুদের সাথে মিথ্যা বলাও গুনাহ। একবার এক সাহাবির মা তাকে খেজুর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, এ সময় নবী ﷺ বলেন—

“তুমি যদি তাকে কিছু না দিতে, তবে তোমার নামে একটি মিথ্যার গুনাহ লেখা হতো।” (আবু দাউদ)

মিথ্যার ভয়াবহ প্রভাব:

অন্তরে কপটতা সৃষ্টি হয় – (সুরা তওবা: ৭৭)

জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায় – (বুখারি ৫৭৪৩; মুসলিম ২৬০৭)

সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হয় – (আলামুল মুয়াক্কিঈন ১/৯৫)

চেহারা কালো হয়ে যায় – (সুরা জুমার: ৬০)

প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ শায়খ সানআনি বলেন—

“বান্দা সত্য বললে সত্যবাদিতা তার আলামত হয়ে যায়, আর মিথ্যা বললে মিথ্যা বলা তার অভ্যাসে পরিণত হয়।” (সুবুলুস সালাম ২/৬৮৭)

ইসলাম সত্যবাদিতাকে মর্যাদা ও জান্নাতের পথ হিসেবে দেখিয়েছে এবং মিথ্যাকে জাহান্নামের পথ হিসেবে সতর্ক করেছে।

✒️ আরও পড়ুন 📖  সময়ের পালাবদলে বন্ধুত্ব: ইসলামের দৃষ্টিতে আধুনিক সম্পর্কের নৈতিক সীমানা