ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
সাভার সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষের রমরমা: বেঞ্চ সহকারী হেলালকে ঘিরে তোলপাড় সাভারে তরুণী গণধর্ষণ: দুই আসামি আটক, পলাতক আরও তিনজন ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ধামরাইয়ে ৯ মামলার আসামি ছিনতাইকারী গ্রেফতার সাভারের ভাঙচুর মামলায় জামিনে মুক্ত ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম জুয়েল ঢাকা জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, গ্রেফতার ৪ ব্যবসায়ী ধামরাইয়ে অবৈধ সীসা কারখানায় অভিযান, জরিমানা ৫০ হাজার টাকা নিয়ম না মানায় অপপ্রচার: সাভার সাব-রেজিস্ট্রারের অভিযোগ গাঁজাসহ আশুলিয়ায় ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৬ গ্রাম হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে ইসলামে প্রাণীর অবস্থান, অভিশাপের ধারণা এবং ক্ষতিকর ও উপকারী প্রাণী সম্পর্কে ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাখ্যা।

ক্ষতিকর ও উপকারী প্রাণী: ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

কোরআনুল কারিম ও হাদিসে বহু প্রাণীর উল্লেখ রয়েছে। কোথাও নিষেধাজ্ঞা এসেছে, কোথাও বৈধতা, আবার কোথাও বিশেষ উপকারিতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ইসলাম কি কোনো প্রাণীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘অভিশপ্ত’ ঘোষণা করেছে? কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে এই প্রশ্নের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

কোরআনে প্রাণীর উল্লেখ ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি⤵️
কোরআনুল কারিমে গাধা, খচ্চর, শূকর, কুকুর, গরু, উট, মাকড়সা, মৌমাছি, পিঁপড়া—সহ বহু প্রাণীর উল্লেখ পাওয়া যায়। কোনো কোনো প্রাণীর ভক্ষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যেমন—শূকর; আবার কিছু প্রাণীর ভক্ষণ বৈধ করা হয়েছে, যেমন—গবাদিপশু। আবার কিছু প্রাণীর মধ্যে আল্লাহ তাআলা বিশেষ উপকারিতা ও নিরাময়ক্ষমতা রেখেছেন—যেমন মৌমাছি, যার মধু মানুষের জন্য আরোগ্যস্বরূপ।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোরআন কোথাও কোনো প্রাণীকে ‘অভিশপ্ত প্রাণী’ হিসেবে ঘোষণা করেনি।

বানর ও শূকরে রূপান্তর : শাস্তি, প্রাণীর অভিশাপ নয়⤵️
কোরআনে এমন কিছু মানুষের কথা এসেছে, যাদের আল্লাহ তাআলা অভিশপ্ত করেছিলেন এবং শাস্তিস্বরূপ তাদের বানর ও শূকরে রূপান্তর করেছিলেন। এটি কোনো প্রাণীর প্রতি অভিশাপ নয়; বরং মানুষের অবাধ্যতা ও সীমা লঙ্ঘনের শাস্তি।
এ বিষয়ে একবার নবী করিম (সা.)-এর সাহাবিরা প্রশ্ন করেছিলেন—বর্তমান বানর ও শূকরগুলো কি সেই অভিশপ্ত জাতিরই বংশধর? উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে বলেন— “আল্লাহ তাআলা কোনো জাতিকে ধ্বংস বা শাস্তি দেওয়ার পর তাদের বংশধর রেখে দেন না। বানর ও শূকর আগেও পৃথিবীতে বিদ্যমান ছিল।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৬৩)। অতএব ইহুদিদের একাংশকে বানর ও শূকরে রূপান্তর করার ঘটনাটি ছিল সাময়িক শাস্তি, যা তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। সেই রূপান্তরিতদের কোনো বংশধর নেই। আজকের বানর ও শূকরদের সঙ্গে তাদের কোনো বংশগত সম্পর্ক নেই।

অভিশাপ দেওয়ার ভয়াবহতা : নবী (সা.)-এর শিক্ষা⤵️
ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) বর্ণনা করেন, এক সফরের সময় একজন আনসারি নারী একটি উটে আরোহণ করছিলেন। উটটি নিয়ে বিরক্ত হয়ে তিনি সেটিকে অভিশাপ দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তা শুনে বলেন— “এটির ওপর যা আছে তা নামিয়ে নাও এবং একে ছেড়ে দাও; কারণ এটি অভিশপ্ত হয়ে গেছে।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৯৫)। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়—রাসুল (সা.) অভিশাপের ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন এবং পরোক্ষভাবে শিক্ষা দিয়েছেন যে একজন প্রকৃত মুসলিম অভিশাপ প্রদানকারী হতে পারে না।

ক্ষতিকর প্রাণী হত্যা : ইসলামের অনুমতি⤵️
উম্মাহাতুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— “হারাম শরিফের ভেতরে ও বাইরে—উভয় জায়গাতেই পাঁচটি ক্ষতিকর প্রাণী হত্যা করা যায় : সাপ, কাক, ইঁদুর, উন্মত্ত কুকুর ও চিল।” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৩১৫)। এই প্রাণীগুলোকে হাদিসে ‘ফাওয়াসিক’ বলা হয়েছে। আরবি ভাষায় ‘ফারসাক’ অর্থ সীমা লঙ্ঘনকারী বা ক্ষতিকর। মানুষের জান-মালের নিরাপত্তার স্বার্থে—even হারাম শরিফের মতো পবিত্র স্থানেও—এদের হত্যা জায়েজ করা হয়েছে।

নিরীহ ও উপকারী প্রাণী হত্যা নিষিদ্ধ⤵️
এর বিপরীতে ইসলাম কিছু নিরীহ ও উপকারী প্রাণী হত্যা করতে স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—“চারটি প্রাণী হত্যা করতে নিষেধ করা হয়েছে : পিঁপড়া, মৌমাছি, হুদহুদ ও শ্রাইক।” (আবু দাউদ, হাদিস : ৫২৬৭)। মৌমাছি মানুষের জন্য উপকারী—মধু উৎপাদন ও পরাগায়ণের মাধ্যমে ফসল বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। হুদহুদ নবী সুলাইমান (আ.)-এর যুগে পথপ্রদর্শক ছিল এবং এটি নিরীহ। শ্রাইক পাখি ক্ষতিকর নয়, যদিও এর মাংস ভক্ষণ হারাম। তবে যদি এসব প্রাণী বাস্তবিকভাবে ক্ষতির কারণ হয়, তখন প্রয়োজনের তাগিদে দমন করা জায়েজ।

উপসংহার⤵️
ইসলাম কোনো প্রাণীকেই জন্মগতভাবে অভিশপ্ত ঘোষণা করে না। বরং মানুষের অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘনের ফলেই কঠোর শাস্তি আসে। যে প্রাণী ক্ষতিকর, তাদের ক্ষেত্রে প্রতিরোধের অনুমতি দেওয়া হয়েছে; আর যে প্রাণী নিরীহ ও উপকারী, তাদের রক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটাই ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি।

সর্বাধিক পঠিত

সাভার সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষের রমরমা: বেঞ্চ সহকারী হেলালকে ঘিরে তোলপাড়

কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে ইসলামে প্রাণীর অবস্থান, অভিশাপের ধারণা এবং ক্ষতিকর ও উপকারী প্রাণী সম্পর্কে ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাখ্যা।

ক্ষতিকর ও উপকারী প্রাণী: ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

আপডেট সময়: ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

কোরআনুল কারিম ও হাদিসে বহু প্রাণীর উল্লেখ রয়েছে। কোথাও নিষেধাজ্ঞা এসেছে, কোথাও বৈধতা, আবার কোথাও বিশেষ উপকারিতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ইসলাম কি কোনো প্রাণীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘অভিশপ্ত’ ঘোষণা করেছে? কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে এই প্রশ্নের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

কোরআনে প্রাণীর উল্লেখ ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি⤵️
কোরআনুল কারিমে গাধা, খচ্চর, শূকর, কুকুর, গরু, উট, মাকড়সা, মৌমাছি, পিঁপড়া—সহ বহু প্রাণীর উল্লেখ পাওয়া যায়। কোনো কোনো প্রাণীর ভক্ষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যেমন—শূকর; আবার কিছু প্রাণীর ভক্ষণ বৈধ করা হয়েছে, যেমন—গবাদিপশু। আবার কিছু প্রাণীর মধ্যে আল্লাহ তাআলা বিশেষ উপকারিতা ও নিরাময়ক্ষমতা রেখেছেন—যেমন মৌমাছি, যার মধু মানুষের জন্য আরোগ্যস্বরূপ।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোরআন কোথাও কোনো প্রাণীকে ‘অভিশপ্ত প্রাণী’ হিসেবে ঘোষণা করেনি।

বানর ও শূকরে রূপান্তর : শাস্তি, প্রাণীর অভিশাপ নয়⤵️
কোরআনে এমন কিছু মানুষের কথা এসেছে, যাদের আল্লাহ তাআলা অভিশপ্ত করেছিলেন এবং শাস্তিস্বরূপ তাদের বানর ও শূকরে রূপান্তর করেছিলেন। এটি কোনো প্রাণীর প্রতি অভিশাপ নয়; বরং মানুষের অবাধ্যতা ও সীমা লঙ্ঘনের শাস্তি।
এ বিষয়ে একবার নবী করিম (সা.)-এর সাহাবিরা প্রশ্ন করেছিলেন—বর্তমান বানর ও শূকরগুলো কি সেই অভিশপ্ত জাতিরই বংশধর? উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে বলেন— “আল্লাহ তাআলা কোনো জাতিকে ধ্বংস বা শাস্তি দেওয়ার পর তাদের বংশধর রেখে দেন না। বানর ও শূকর আগেও পৃথিবীতে বিদ্যমান ছিল।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৬৩)। অতএব ইহুদিদের একাংশকে বানর ও শূকরে রূপান্তর করার ঘটনাটি ছিল সাময়িক শাস্তি, যা তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। সেই রূপান্তরিতদের কোনো বংশধর নেই। আজকের বানর ও শূকরদের সঙ্গে তাদের কোনো বংশগত সম্পর্ক নেই।

অভিশাপ দেওয়ার ভয়াবহতা : নবী (সা.)-এর শিক্ষা⤵️
ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) বর্ণনা করেন, এক সফরের সময় একজন আনসারি নারী একটি উটে আরোহণ করছিলেন। উটটি নিয়ে বিরক্ত হয়ে তিনি সেটিকে অভিশাপ দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তা শুনে বলেন— “এটির ওপর যা আছে তা নামিয়ে নাও এবং একে ছেড়ে দাও; কারণ এটি অভিশপ্ত হয়ে গেছে।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৯৫)। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়—রাসুল (সা.) অভিশাপের ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন এবং পরোক্ষভাবে শিক্ষা দিয়েছেন যে একজন প্রকৃত মুসলিম অভিশাপ প্রদানকারী হতে পারে না।

ক্ষতিকর প্রাণী হত্যা : ইসলামের অনুমতি⤵️
উম্মাহাতুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— “হারাম শরিফের ভেতরে ও বাইরে—উভয় জায়গাতেই পাঁচটি ক্ষতিকর প্রাণী হত্যা করা যায় : সাপ, কাক, ইঁদুর, উন্মত্ত কুকুর ও চিল।” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৩১৫)। এই প্রাণীগুলোকে হাদিসে ‘ফাওয়াসিক’ বলা হয়েছে। আরবি ভাষায় ‘ফারসাক’ অর্থ সীমা লঙ্ঘনকারী বা ক্ষতিকর। মানুষের জান-মালের নিরাপত্তার স্বার্থে—even হারাম শরিফের মতো পবিত্র স্থানেও—এদের হত্যা জায়েজ করা হয়েছে।

নিরীহ ও উপকারী প্রাণী হত্যা নিষিদ্ধ⤵️
এর বিপরীতে ইসলাম কিছু নিরীহ ও উপকারী প্রাণী হত্যা করতে স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—“চারটি প্রাণী হত্যা করতে নিষেধ করা হয়েছে : পিঁপড়া, মৌমাছি, হুদহুদ ও শ্রাইক।” (আবু দাউদ, হাদিস : ৫২৬৭)। মৌমাছি মানুষের জন্য উপকারী—মধু উৎপাদন ও পরাগায়ণের মাধ্যমে ফসল বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। হুদহুদ নবী সুলাইমান (আ.)-এর যুগে পথপ্রদর্শক ছিল এবং এটি নিরীহ। শ্রাইক পাখি ক্ষতিকর নয়, যদিও এর মাংস ভক্ষণ হারাম। তবে যদি এসব প্রাণী বাস্তবিকভাবে ক্ষতির কারণ হয়, তখন প্রয়োজনের তাগিদে দমন করা জায়েজ।

উপসংহার⤵️
ইসলাম কোনো প্রাণীকেই জন্মগতভাবে অভিশপ্ত ঘোষণা করে না। বরং মানুষের অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘনের ফলেই কঠোর শাস্তি আসে। যে প্রাণী ক্ষতিকর, তাদের ক্ষেত্রে প্রতিরোধের অনুমতি দেওয়া হয়েছে; আর যে প্রাণী নিরীহ ও উপকারী, তাদের রক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটাই ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি।