ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ডিবি (উত্তর)-এর পৃথক অভিযানে উদ্ধার ১০০ পিস ইয়াবা; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে প্রেরণ

সাভারে ১০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

ঢাকা জেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান জোরদারের অংশ হিসেবে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) উত্তর পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযানের মাধ্যমে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের চলমান কঠোর অবস্থানের আরেকটি উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভিনের নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবন নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং অভিযান পরিচালনা করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ জুন রাত ৭টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা জেলার গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) উত্তর-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই (নিরস্ত্র) সুজিত কুমার মৃধা এবং সঙ্গীয় ফোর্স সাভার মডেল থানার পাকিজা মোড় এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশি ও সঙ্গে থাকা মালামাল পরীক্ষা করে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক বহন ও বিক্রির অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন মোঃ সাজিদুল ইসলাম ওরফে নোমান (৩২)। তার পিতা মোঃ আবু তাহের এবং মাতা মোছাঃ মোর্শেদা বেগম। তিনি সাভার মডেল থানার মজিদপুর এলাকার বাসিন্দা। অপর গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি মোঃ আব্দুর রহিম ওরফে বাবু (২৯)। তার পিতা মোঃ হাসমত আলী এবং মাতা মোছাঃ বিবি আয়েশা বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা ভোলা জেলার দৌলতখান থানার জয়নগর এলাকায় হলেও তিনি বর্তমানে সাভারের আনন্দপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক, সরবরাহের উৎস এবং সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, বাসস্ট্যান্ড, বাজার ও আবাসিক অঞ্চলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদকের বিস্তার রোধে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে জেলা পুলিশের চলমান অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে। মাদক কারবারি, পরিবহনকারী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগও অব্যাহত থাকবে।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণের প্রতি মাদকসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, ধারাবাহিক অভিযান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং ভবিষ্যতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বাধিক পঠিত

সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির পৃথক অভিযান: ১৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ডিবি (উত্তর)-এর পৃথক অভিযানে উদ্ধার ১০০ পিস ইয়াবা; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে প্রেরণ

সাভারে ১০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

আপডেট সময়: ০১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

ঢাকা জেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান জোরদারের অংশ হিসেবে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) উত্তর পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযানের মাধ্যমে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের চলমান কঠোর অবস্থানের আরেকটি উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভিনের নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবন নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং অভিযান পরিচালনা করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ জুন রাত ৭টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা জেলার গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) উত্তর-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই (নিরস্ত্র) সুজিত কুমার মৃধা এবং সঙ্গীয় ফোর্স সাভার মডেল থানার পাকিজা মোড় এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশি ও সঙ্গে থাকা মালামাল পরীক্ষা করে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক বহন ও বিক্রির অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন মোঃ সাজিদুল ইসলাম ওরফে নোমান (৩২)। তার পিতা মোঃ আবু তাহের এবং মাতা মোছাঃ মোর্শেদা বেগম। তিনি সাভার মডেল থানার মজিদপুর এলাকার বাসিন্দা। অপর গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি মোঃ আব্দুর রহিম ওরফে বাবু (২৯)। তার পিতা মোঃ হাসমত আলী এবং মাতা মোছাঃ বিবি আয়েশা বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা ভোলা জেলার দৌলতখান থানার জয়নগর এলাকায় হলেও তিনি বর্তমানে সাভারের আনন্দপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক, সরবরাহের উৎস এবং সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

✒️ আরও পড়ুন 📖  সাভারে গাঁজা সেবনের সময় চারজন আটক, ভ্রাম্যমান আদালতে দণ্ড

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, বাসস্ট্যান্ড, বাজার ও আবাসিক অঞ্চলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদকের বিস্তার রোধে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে জেলা পুলিশের চলমান অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে। মাদক কারবারি, পরিবহনকারী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগও অব্যাহত থাকবে।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণের প্রতি মাদকসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, ধারাবাহিক অভিযান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং ভবিষ্যতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।