ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করতে নতুন উদ্যোগ, চালু হচ্ছে ‘২+২’ পরামর্শ বৈঠক

এরদোয়ানকে আমন্ত্রণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

  • বাসস
  • আপডেট সময়: এক ঘন্টা আগে
  • 30

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে উভয় দেশ কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে একমত হয়েছে।

শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ আমন্ত্রণ জানানো হয়। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সফরের মাধ্যমে ঢাকা ও আঙ্কারার মধ্যকার সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

অপরদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, তাঁর এ সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। পাশাপাশি তিনি এ সফরকে দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে উন্নীত করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।

বৈঠকে উভয় দেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে প্রতিবছর ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’ বা পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ ধরনের নিয়মিত বৈঠক দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করবে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রতিবছর ‘টু প্লাস টু’ (২+২) পরামর্শ বৈঠক আয়োজনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বৈঠকে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা অংশ নেবেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কাঠামো সাধারণত ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে দেখা যায় এবং এর মাধ্যমে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সম্ভব হয়।

দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের তত্ত্বাবধানে একটি যৌথ পরামর্শ কাঠামো বা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

এ কমিটি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিময়, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্বসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ অনুসন্ধান করবে বলে জানা গেছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, যৌথ উৎপাদন কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। এ বিষয়ে তুরস্কের ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসাও করেন তিনি।

এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি এবং উৎপাদন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে।

তুরস্কের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও শিল্প সক্ষমতার সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সমন্বয় উভয় দেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলেও মত দেন সংশ্লিষ্টরা।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

কূটনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, হাকান ফিদানের এ সফর এবং এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করবে।

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় আজপ্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও স্ত্রী স্বপ্নার সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা রাষ্ট্রপক্ষের

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করতে নতুন উদ্যোগ, চালু হচ্ছে ‘২+২’ পরামর্শ বৈঠক

এরদোয়ানকে আমন্ত্রণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময়: এক ঘন্টা আগে

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে উভয় দেশ কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে একমত হয়েছে।

শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ আমন্ত্রণ জানানো হয়। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সফরের মাধ্যমে ঢাকা ও আঙ্কারার মধ্যকার সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

অপরদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, তাঁর এ সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। পাশাপাশি তিনি এ সফরকে দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে উন্নীত করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।

বৈঠকে উভয় দেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে প্রতিবছর ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’ বা পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ ধরনের নিয়মিত বৈঠক দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করবে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রতিবছর ‘টু প্লাস টু’ (২+২) পরামর্শ বৈঠক আয়োজনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বৈঠকে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা অংশ নেবেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কাঠামো সাধারণত ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে দেখা যায় এবং এর মাধ্যমে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সম্ভব হয়।

দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের তত্ত্বাবধানে একটি যৌথ পরামর্শ কাঠামো বা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

এ কমিটি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিময়, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্বসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ অনুসন্ধান করবে বলে জানা গেছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, যৌথ উৎপাদন কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। এ বিষয়ে তুরস্কের ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসাও করেন তিনি।

এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি এবং উৎপাদন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে।

তুরস্কের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও শিল্প সক্ষমতার সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সমন্বয় উভয় দেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলেও মত দেন সংশ্লিষ্টরা।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

কূটনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, হাকান ফিদানের এ সফর এবং এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করবে।