ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাজারে দ্রুত সরবরাহ ও বেশি মুনাফার আশায় কলা পাকাতে ব্যবহার হচ্ছে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কেমিক্যাল মানবদেহে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সচেতন হয়ে প্রাকৃতিকভাবে পাকা কলা চেনার কৌশল জানা জরুরি।

কেমিক্যালে পাকানো কলা চিনবেন যেভাবে

সারা বছর সহজলভ্য ও জনপ্রিয় ফলের তালিকায় কলার অবস্থান শীর্ষে। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফল শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সী মানুষের জন্য উপকারী। পটাশিয়াম, খাদ্যআঁশ (ফাইবার), ভিটামিন বি৬, ভিটামিন এ এবং আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ কলা নিয়মিত খেলে শরীরে শক্তি বৃদ্ধি পায়, হজমশক্তি উন্নত হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

তবে এই উপকারী ফলটি নিয়ে বাড়ছে নতুন উদ্বেগ। বাজারে দ্রুত সরবরাহ ও অধিক মুনাফার আশায় অনেক ব্যবসায়ী অপরিপক্ব কলা রাসায়নিক ব্যবহার করে পাকিয়ে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব কেমিক্যাল ব্যবহারের ফলে কলার স্বাভাবিক পুষ্টিগুণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হচ্ছে কলা
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বাজারে দ্রুত কলা সরবরাহের জন্য কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ইথারজাতীয় রাসায়নিক এবং তরল ইথাইলিনসহ বিভিন্ন পদার্থ ব্যবহার করেন। এসব রাসায়নিক প্রয়োগের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই কলার খোসা হলুদ হয়ে যায় এবং দেখতে পাকা মনে হয়।

তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বাইরের অংশ পাকা দেখালেও ভেতরের অংশ পুরোপুরি পরিপক্ব হয় না। ফলে ফলটির স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিমান স্বাভাবিক থাকে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ মানবদেহে প্রবেশ করলে দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে পাকা কলা?
পুষ্টিবিদদের ভাষ্য, কলা প্রাকৃতিকভাবে পাকলে এর ভেতরের এনজাইমগুলো ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়। এই প্রক্রিয়ায় শর্করা, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পূর্ণমাত্রায় বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়। ফলে কলার স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
অন্যদিকে কৃত্রিমভাবে পাকানো কলায় এই স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয় না। ফলে ফলটি দেখতে আকর্ষণীয় হলেও প্রকৃত পুষ্টিমান ও স্বাদে ঘাটতি থেকে যায়।

কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো কলা যেভাবে চিনবেন
বিশেষজ্ঞরা সাধারণ কয়েকটি লক্ষণ দেখে রাসায়নিকভাবে পাকানো কলা শনাক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন।

১. রং পর্যবেক্ষণ করুন
প্রাকৃতিকভাবে পাকা কলার রং সাধারণত হালকা হলুদ হয় এবং খোসার ওপর ছোট ছোট কালো বা বাদামি দাগ দেখা যায়। এটি স্বাভাবিক পাকাধারার একটি লক্ষণ।
অন্যদিকে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কলা অনেক সময় অস্বাভাবিক উজ্জ্বল, একরঙা হলুদ বা কমলা-হলুদ আভাযুক্ত হয়ে থাকে। পুরো কলায় একই ধরনের রং থাকলে সেটি সন্দেহের কারণ হতে পারে।

২. গন্ধ পরীক্ষা করুন
স্বাভাবিকভাবে পাকা কলা থেকে মিষ্টি ও মনোরম সুবাস বের হয়। কলার স্বাভাবিক সুগন্ধই এর পরিপক্বতার অন্যতম নির্দেশক।
কিন্তু রাসায়নিক ব্যবহার করে পাকানো কলায় অনেক সময় কোনো গন্ধই থাকে না। আবার কখনও অস্বাভাবিক তীব্র বা কৃত্রিম গন্ধ পাওয়া যেতে পারে, যা সতর্ক হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

৩. ভেতরের অংশ পরীক্ষা করুন
রাসায়নিকভাবে পাকানো কলার খোসা দ্রুত হলুদ হয়ে গেলেও ভেতরের অংশ অনেক সময় কাঁচা বা শক্ত থাকে। কলা কেটে দেখলে যদি ভেতরে সবুজাভ বা অপরিপক্ব অংশ দেখা যায়, তাহলে সেটি কৃত্রিমভাবে পাকানো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৪. পানিতে ভাসানোর পরীক্ষা
কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, কলা পানিতে ফেললে যদি সহজে ভেসে থাকে, তবে সেটি কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। অন্যদিকে প্রাকৃতিকভাবে পাকা কলা তুলনামূলকভাবে ভারী হওয়ায় পানিতে ডুবে যেতে পারে। তবে এ পরীক্ষাটি শতভাগ নির্ভুল নয়। কলার জাত, আকার ও ঘনত্বের ওপর ফলাফল ভিন্ন হতে পারে। তাই রং, গন্ধ ও ভেতরের অবস্থা মিলিয়ে বিচার করাই বেশি কার্যকর।

সচেতন ক্রেতারাই কমাতে পারেন ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফল কেনার সময় শুধুমাত্র বাহ্যিক রং দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে গন্ধ, খোসার স্বাভাবিক দাগ এবং ফলের পরিপক্বতা বিবেচনায় নেওয়া উচিত। বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে ফল কেনা এবং মৌসুমি ফলের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্যকর জীবনের জন্য কলা একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য হলেও কৃত্রিমভাবে পাকানো ফলের ব্যবহার উদ্বেগজনক। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাজার তদারকি জোরদার করার মাধ্যমে ভোক্তাদের নিরাপদ ও পুষ্টিকর ফল নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বাধিক পঠিত

সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির পৃথক অভিযান: ১৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪

বাজারে দ্রুত সরবরাহ ও বেশি মুনাফার আশায় কলা পাকাতে ব্যবহার হচ্ছে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কেমিক্যাল মানবদেহে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সচেতন হয়ে প্রাকৃতিকভাবে পাকা কলা চেনার কৌশল জানা জরুরি।

কেমিক্যালে পাকানো কলা চিনবেন যেভাবে

আপডেট সময়: ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

সারা বছর সহজলভ্য ও জনপ্রিয় ফলের তালিকায় কলার অবস্থান শীর্ষে। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফল শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সী মানুষের জন্য উপকারী। পটাশিয়াম, খাদ্যআঁশ (ফাইবার), ভিটামিন বি৬, ভিটামিন এ এবং আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ কলা নিয়মিত খেলে শরীরে শক্তি বৃদ্ধি পায়, হজমশক্তি উন্নত হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

তবে এই উপকারী ফলটি নিয়ে বাড়ছে নতুন উদ্বেগ। বাজারে দ্রুত সরবরাহ ও অধিক মুনাফার আশায় অনেক ব্যবসায়ী অপরিপক্ব কলা রাসায়নিক ব্যবহার করে পাকিয়ে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব কেমিক্যাল ব্যবহারের ফলে কলার স্বাভাবিক পুষ্টিগুণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হচ্ছে কলা
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বাজারে দ্রুত কলা সরবরাহের জন্য কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ইথারজাতীয় রাসায়নিক এবং তরল ইথাইলিনসহ বিভিন্ন পদার্থ ব্যবহার করেন। এসব রাসায়নিক প্রয়োগের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই কলার খোসা হলুদ হয়ে যায় এবং দেখতে পাকা মনে হয়।

তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বাইরের অংশ পাকা দেখালেও ভেতরের অংশ পুরোপুরি পরিপক্ব হয় না। ফলে ফলটির স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিমান স্বাভাবিক থাকে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ মানবদেহে প্রবেশ করলে দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে পাকা কলা?
পুষ্টিবিদদের ভাষ্য, কলা প্রাকৃতিকভাবে পাকলে এর ভেতরের এনজাইমগুলো ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়। এই প্রক্রিয়ায় শর্করা, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পূর্ণমাত্রায় বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়। ফলে কলার স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
অন্যদিকে কৃত্রিমভাবে পাকানো কলায় এই স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয় না। ফলে ফলটি দেখতে আকর্ষণীয় হলেও প্রকৃত পুষ্টিমান ও স্বাদে ঘাটতি থেকে যায়।

কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো কলা যেভাবে চিনবেন
বিশেষজ্ঞরা সাধারণ কয়েকটি লক্ষণ দেখে রাসায়নিকভাবে পাকানো কলা শনাক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন।

✒️ আরও পড়ুন 📖  প্রাকৃতিক টুথব্রাশ নিমকাঠি: দাঁতের যত্নে পুরনো অভ্যাসই কেন এখনো কার্যকর

১. রং পর্যবেক্ষণ করুন
প্রাকৃতিকভাবে পাকা কলার রং সাধারণত হালকা হলুদ হয় এবং খোসার ওপর ছোট ছোট কালো বা বাদামি দাগ দেখা যায়। এটি স্বাভাবিক পাকাধারার একটি লক্ষণ।
অন্যদিকে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কলা অনেক সময় অস্বাভাবিক উজ্জ্বল, একরঙা হলুদ বা কমলা-হলুদ আভাযুক্ত হয়ে থাকে। পুরো কলায় একই ধরনের রং থাকলে সেটি সন্দেহের কারণ হতে পারে।

২. গন্ধ পরীক্ষা করুন
স্বাভাবিকভাবে পাকা কলা থেকে মিষ্টি ও মনোরম সুবাস বের হয়। কলার স্বাভাবিক সুগন্ধই এর পরিপক্বতার অন্যতম নির্দেশক।
কিন্তু রাসায়নিক ব্যবহার করে পাকানো কলায় অনেক সময় কোনো গন্ধই থাকে না। আবার কখনও অস্বাভাবিক তীব্র বা কৃত্রিম গন্ধ পাওয়া যেতে পারে, যা সতর্ক হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

৩. ভেতরের অংশ পরীক্ষা করুন
রাসায়নিকভাবে পাকানো কলার খোসা দ্রুত হলুদ হয়ে গেলেও ভেতরের অংশ অনেক সময় কাঁচা বা শক্ত থাকে। কলা কেটে দেখলে যদি ভেতরে সবুজাভ বা অপরিপক্ব অংশ দেখা যায়, তাহলে সেটি কৃত্রিমভাবে পাকানো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৪. পানিতে ভাসানোর পরীক্ষা
কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, কলা পানিতে ফেললে যদি সহজে ভেসে থাকে, তবে সেটি কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। অন্যদিকে প্রাকৃতিকভাবে পাকা কলা তুলনামূলকভাবে ভারী হওয়ায় পানিতে ডুবে যেতে পারে। তবে এ পরীক্ষাটি শতভাগ নির্ভুল নয়। কলার জাত, আকার ও ঘনত্বের ওপর ফলাফল ভিন্ন হতে পারে। তাই রং, গন্ধ ও ভেতরের অবস্থা মিলিয়ে বিচার করাই বেশি কার্যকর।

সচেতন ক্রেতারাই কমাতে পারেন ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফল কেনার সময় শুধুমাত্র বাহ্যিক রং দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে গন্ধ, খোসার স্বাভাবিক দাগ এবং ফলের পরিপক্বতা বিবেচনায় নেওয়া উচিত। বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে ফল কেনা এবং মৌসুমি ফলের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্যকর জীবনের জন্য কলা একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য হলেও কৃত্রিমভাবে পাকানো ফলের ব্যবহার উদ্বেগজনক। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাজার তদারকি জোরদার করার মাধ্যমে ভোক্তাদের নিরাপদ ও পুষ্টিকর ফল নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

✒️ আরও পড়ুন 📖  কোরবানির পর হজমশক্তি বাড়াতে যেসব খাবার খাবেন