ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
সাভার-আশুলিয়ায় ইয়াবা-হেরোইনসহ ৬ জন গ্রেপ্তার আশুলিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪ পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে সহায়তা সৌদি আরবের উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির আশা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়তে বিশ্বনেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ধামরাইয়ে ৪৫ পিস ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার কোন নামাজে কী আমল করতে হয় ও কীভাবে—সহজ গাইড ৫ ওয়াক্ত নামাজ কীভাবে ফরজ হলো, সহিহ ও শুদ্ধভাবে নামাজ পড়ার নিয়ম সাভার-ধামরাইয়ে ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা-হেরোইনসহ ৬ জন গ্রেপ্তার এবার নিজের যে দুর্বলতার কথা স্বীকার করলেন রাশমিকা বিগ বসে কেন গিয়েছিলেন নোরা ফতেহি? ফাঁস করলেন অজানা গল্প
অন্তরের হিংসা-বিদ্বেষ ত্যাগ করাই নবীজির সুন্নাহ, যা মুমিনকে জান্নাতের পথে এগিয়ে দেয়

বিদ্বেষমুক্ত হৃদয়ই ঈমানের সৌন্দর্য

  • ইসলামী জীবন
  • আপডেট সময়: ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 165

ঈমানের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই পূর্ণতা পায়, যখন মানুষের হৃদয় হিংসা, বিদ্বেষ, অপবাদ ও প্রতারণা থেকে মুক্ত থাকে। ইসলামে শুধু নামাজ, রোজা বা বাহ্যিক আমল নয়—অন্তরের পবিত্রতাকেও ঈমানের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের জীবনে এ বিষয়টির বিশেষ মর্যাদা সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

বিদ্বেষমুক্ত থাকাই নবীজির বিশেষ সুন্নাহ
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “হে বৎস! তুমি যদি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তোমার অন্তরে কারো প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ না রেখে কাটাতে পারো তাহলে তাই করো… এটা আমার সুন্নাহ। যে আমার সুন্নাহকে ভালোবাসে, সে আমাকেই ভালোবাসে; আর যে আমাকে ভালোবাসে, সে আমার সঙ্গে জান্নাতে থাকবে।”
— মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ১৭৫

আলেমরা বলেন, এই হাদিস প্রমাণ করে—অন্যের কল্যাণ কামনা করা, গিবত-অপবাদ ত্যাগ করা এবং স্বচ্ছ হৃদয়ের অধিকারী হওয়া শুধু নৈতিক গুণ নয়; বরং তা নবীজির অনুসরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অন্তরের পবিত্রতা জান্নাতের পথ সুগম করে
হাদিসে বর্ণিত আছে, এক আনসারি সাহাবি সম্পর্কে রাসুল (সা.) তিন দিন ধারাবাহিকভাবে সাহাবাদের বলেছিলেন—“এখন তোমাদের সামনে একজন জান্নাতি ব্যক্তি আসবে।” পরে দেখা যায়, তিনি বাহ্যিকভাবে অতিরিক্ত নফল ইবাদতে বিখ্যাত ছিলেন না।

পরবর্তীতে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) তার সঙ্গে অবস্থান করে জানতে পারেন—তিনি কখনো কোনো মুসলমানকে ধোঁকা দেওয়ার চিন্তা করতেন না এবং কারো প্রাপ্ত নিয়ামতের কারণে হিংসা করতেন না।
— মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১২৬৯৭

এ থেকেই বোঝা যায়, অন্তরের পরিচ্ছন্নতা অনেক সময় বাহ্যিক আমলের চেয়েও মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে।

হিংসুকদের বিশেষ ক্ষমা থেকেও বঞ্চিত করা হয়
হাদিসে এসেছে, শাবানের মধ্যরাতে মহান আল্লাহ সৃষ্টিকুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন, কিন্তু মুশরিক ও হিংসুককে ক্ষমা করা হয় না।
— সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫

আলেমদের মতে, এটি প্রমাণ করে—হিংসা শুধু সামাজিক সমস্যা নয়; বরং আখিরাতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর অন্তরব্যাধি।

ইসলামের শিক্ষা: হৃদয়ের পরিশুদ্ধতা
ধর্মবিশেষজ্ঞরা বলেন, একজন মুমিনের কর্তব্য হলো—
অন্যের সুখে আনন্দিত হওয়া
অন্তরে বিদ্বেষ না রাখা
প্রতারণা ও অপবাদ থেকে দূরে থাকা
মানুষের কল্যাণ কামনা করা
তাদের মতে, বাহ্যিক আমল সীমিত হলেও যদি অন্তর পরিশুদ্ধ থাকে, তবে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছে দিতে পারেন।

উপসংহার:
বিদ্বেষমুক্ত হৃদয় ইসলামের এক অনন্য সৌন্দর্য এবং নবীজির প্রকৃত সুন্নাহ। অন্তরের এই পরিশুদ্ধতাই মানুষের জন্য নবীজির ভালোবাসা ও জান্নাতে তাঁর সান্নিধ্য লাভের পথ সুগম করে।

সাভার-আশুলিয়ায় ইয়াবা-হেরোইনসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

অন্তরের হিংসা-বিদ্বেষ ত্যাগ করাই নবীজির সুন্নাহ, যা মুমিনকে জান্নাতের পথে এগিয়ে দেয়

বিদ্বেষমুক্ত হৃদয়ই ঈমানের সৌন্দর্য

আপডেট সময়: ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঈমানের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই পূর্ণতা পায়, যখন মানুষের হৃদয় হিংসা, বিদ্বেষ, অপবাদ ও প্রতারণা থেকে মুক্ত থাকে। ইসলামে শুধু নামাজ, রোজা বা বাহ্যিক আমল নয়—অন্তরের পবিত্রতাকেও ঈমানের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের জীবনে এ বিষয়টির বিশেষ মর্যাদা সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

বিদ্বেষমুক্ত থাকাই নবীজির বিশেষ সুন্নাহ
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “হে বৎস! তুমি যদি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তোমার অন্তরে কারো প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ না রেখে কাটাতে পারো তাহলে তাই করো… এটা আমার সুন্নাহ। যে আমার সুন্নাহকে ভালোবাসে, সে আমাকেই ভালোবাসে; আর যে আমাকে ভালোবাসে, সে আমার সঙ্গে জান্নাতে থাকবে।”
— মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ১৭৫

আলেমরা বলেন, এই হাদিস প্রমাণ করে—অন্যের কল্যাণ কামনা করা, গিবত-অপবাদ ত্যাগ করা এবং স্বচ্ছ হৃদয়ের অধিকারী হওয়া শুধু নৈতিক গুণ নয়; বরং তা নবীজির অনুসরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অন্তরের পবিত্রতা জান্নাতের পথ সুগম করে
হাদিসে বর্ণিত আছে, এক আনসারি সাহাবি সম্পর্কে রাসুল (সা.) তিন দিন ধারাবাহিকভাবে সাহাবাদের বলেছিলেন—“এখন তোমাদের সামনে একজন জান্নাতি ব্যক্তি আসবে।” পরে দেখা যায়, তিনি বাহ্যিকভাবে অতিরিক্ত নফল ইবাদতে বিখ্যাত ছিলেন না।

পরবর্তীতে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) তার সঙ্গে অবস্থান করে জানতে পারেন—তিনি কখনো কোনো মুসলমানকে ধোঁকা দেওয়ার চিন্তা করতেন না এবং কারো প্রাপ্ত নিয়ামতের কারণে হিংসা করতেন না।
— মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১২৬৯৭

এ থেকেই বোঝা যায়, অন্তরের পরিচ্ছন্নতা অনেক সময় বাহ্যিক আমলের চেয়েও মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে।

হিংসুকদের বিশেষ ক্ষমা থেকেও বঞ্চিত করা হয়
হাদিসে এসেছে, শাবানের মধ্যরাতে মহান আল্লাহ সৃষ্টিকুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন, কিন্তু মুশরিক ও হিংসুককে ক্ষমা করা হয় না।
— সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫

আলেমদের মতে, এটি প্রমাণ করে—হিংসা শুধু সামাজিক সমস্যা নয়; বরং আখিরাতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর অন্তরব্যাধি।

✒️ আরও পড়ুন 📖  শবে বরাতের নামাজের নিয়ম ও দোয়া

ইসলামের শিক্ষা: হৃদয়ের পরিশুদ্ধতা
ধর্মবিশেষজ্ঞরা বলেন, একজন মুমিনের কর্তব্য হলো—
অন্যের সুখে আনন্দিত হওয়া
অন্তরে বিদ্বেষ না রাখা
প্রতারণা ও অপবাদ থেকে দূরে থাকা
মানুষের কল্যাণ কামনা করা
তাদের মতে, বাহ্যিক আমল সীমিত হলেও যদি অন্তর পরিশুদ্ধ থাকে, তবে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছে দিতে পারেন।

উপসংহার:
বিদ্বেষমুক্ত হৃদয় ইসলামের এক অনন্য সৌন্দর্য এবং নবীজির প্রকৃত সুন্নাহ। অন্তরের এই পরিশুদ্ধতাই মানুষের জন্য নবীজির ভালোবাসা ও জান্নাতে তাঁর সান্নিধ্য লাভের পথ সুগম করে।