ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ঢাবির তিন নেতার মাজারে বিএনপি ও বিভিন্ন সংগঠনের শ্রদ্ধা, শেরে বাংলার স্মৃতি সংরক্ষণে জাদুঘর ও গবেষণা কেন্দ্রের দাবি

শেরে বাংলার সমাধিতে বিএনপি ও বিভিন্ন সংগঠনের শ্রদ্ধা নিবেদন

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরসংলগ্ন তিন নেতার মাজারে তাঁর সমাধিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। দিনব্যাপী এ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীর ওই এলাকায় বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সকাল থেকেই বিএনপি, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক গবেষণা পরিষদ, শেরে বাংলা ফাউন্ডেশন, বরিশাল বিভাগ সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। পরে শেরে বাংলার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “এ কে ফজলুল হক ছিলেন পুরো বাংলার গণমানুষের নেতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আদালত প্রতিষ্ঠাসহ জনগণের কল্যাণে তাঁর অসংখ্য অবদান রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, প্রজাস্বত্ব আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কৃষিজীবীরা যে সুফল পাচ্ছেন, তা শেরে বাংলার দূরদর্শী নেতৃত্বেরই ফল। তবে আজকের প্রজন্মের কাছে তাঁর অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ সময় বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু প্রমুখ।

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক গবেষণা পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিনা আক্তার এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসার নেতৃত্বে পৃথকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে মাজার প্রাঙ্গণে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা শেরে বাংলার স্মৃতি সংরক্ষণে জোর দাবি জানান।

তারা বলেন, শেরে বাংলার সমাধিস্থলে একটি আধুনিক জাদুঘর ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি পদ্মা সেতুর নাম শেরে বাংলার নামে নামকরণের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, জাতির এই মহান নেতার অবদান যথাযথভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।

এছাড়া তারা অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সময়ে পাঠ্যপুস্তক থেকে শেরে বাংলার ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবন ও কর্ম যথাযথভাবে উপস্থাপনের জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফের নেতৃত্বে পৃথক একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। এছাড়াও শেরে বাংলা ফাউন্ডেশন, বরিশাল বিভাগ সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

দিনব্যাপী এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের অবদান, রাজনৈতিক দর্শন ও কৃষকবান্ধব ভূমিকার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা। তারা বলেন, বাঙালি জাতির ইতিহাসে শেরে বাংলার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

সর্বাধিক পঠিত

সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির পৃথক অভিযান: ১৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪

ঢাবির তিন নেতার মাজারে বিএনপি ও বিভিন্ন সংগঠনের শ্রদ্ধা, শেরে বাংলার স্মৃতি সংরক্ষণে জাদুঘর ও গবেষণা কেন্দ্রের দাবি

শেরে বাংলার সমাধিতে বিএনপি ও বিভিন্ন সংগঠনের শ্রদ্ধা নিবেদন

আপডেট সময়: ০২:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরসংলগ্ন তিন নেতার মাজারে তাঁর সমাধিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। দিনব্যাপী এ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীর ওই এলাকায় বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সকাল থেকেই বিএনপি, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক গবেষণা পরিষদ, শেরে বাংলা ফাউন্ডেশন, বরিশাল বিভাগ সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। পরে শেরে বাংলার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “এ কে ফজলুল হক ছিলেন পুরো বাংলার গণমানুষের নেতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আদালত প্রতিষ্ঠাসহ জনগণের কল্যাণে তাঁর অসংখ্য অবদান রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, প্রজাস্বত্ব আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কৃষিজীবীরা যে সুফল পাচ্ছেন, তা শেরে বাংলার দূরদর্শী নেতৃত্বেরই ফল। তবে আজকের প্রজন্মের কাছে তাঁর অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ সময় বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু প্রমুখ।

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক গবেষণা পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিনা আক্তার এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসার নেতৃত্বে পৃথকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে মাজার প্রাঙ্গণে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা শেরে বাংলার স্মৃতি সংরক্ষণে জোর দাবি জানান।

তারা বলেন, শেরে বাংলার সমাধিস্থলে একটি আধুনিক জাদুঘর ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি পদ্মা সেতুর নাম শেরে বাংলার নামে নামকরণের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, জাতির এই মহান নেতার অবদান যথাযথভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।

এছাড়া তারা অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সময়ে পাঠ্যপুস্তক থেকে শেরে বাংলার ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবন ও কর্ম যথাযথভাবে উপস্থাপনের জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

✒️ আরও পড়ুন 📖  যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘ডেভিল হান্ট’ শুরু

শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফের নেতৃত্বে পৃথক একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। এছাড়াও শেরে বাংলা ফাউন্ডেশন, বরিশাল বিভাগ সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

দিনব্যাপী এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের অবদান, রাজনৈতিক দর্শন ও কৃষকবান্ধব ভূমিকার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা। তারা বলেন, বাঙালি জাতির ইতিহাসে শেরে বাংলার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।