ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ৯ জন আটক জাবিতে ধর্ষণচেষ্টার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মৌন মিছিল, দ্রুত গ্রেফতারের দাবি মাদক ব্যবসায়ী ও ভুয়া ডিবি সদস্যসহ আটক ৪ ঝিকরগাছায় সন্ত্রাসী হামলা: মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন রবিউল আশুলিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৪ সদস্য আটক, উদ্ধার ধারালো অস্ত্র জনস্বার্থ ও প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতার ওপর জোর জেএ টিভির কর্মশালায় সাভার-ধামরাইয়ে ডিবির অভিযান: মাদক কারবারি ও ডাকাত দলের ১০ সদস্য আটক ‘সন্তান নেওয়ার চেয়ে কুকুর পোষা ভালো’— সামাজিক চাপ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য শেফালি শাহর চামড়া শিল্প রপ্তানিতে এখনও বিশাল সম্ভাবনা, সিইটিপির সমস্যা সমাধানের আশ্বাস শিল্পমন্ত্রীর সাভার-ধামরাইয়ে ইয়াবাসহ আটক ৪
পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বন্ধ ঘোষণা; র‌্যাব ও পুলিশের সহায়তায় পরিচালিত হয় বিশেষ এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম

ভাকুর্তায় ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান

বায়ুদূষণ রোধ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সাভারের ভাকুর্তা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ১১ মে সোমবার দুপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয় এবং সদর দপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে একটি অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং এর সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের শ্যামলাসী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকরভাবে পরিচালিত হচ্ছিল “মেসার্স এ বি এন এন্ড কোং” নামের ইটভাটা। অভিযোগ ছিল, ইটভাটাটি পরিবেশগত ছাড়পত্র ও বিধিমালা উপেক্ষা করে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। এতে আশপাশের এলাকায় বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমি, গাছপালা ও স্থানীয় জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছিল।

এ অবস্থায় পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়জুন্নেছা আক্তারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ইটভাটার বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক নয়ন কুমার রায়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পুলিশের একটি বহর এবং এক প্লাটুন র‌্যাব সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রয়োজনীয় আইনগত ও নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। অভিযানের ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানান তারা।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়জুন্নেছা আক্তার বলেন, “পরিবেশ রক্ষা এবং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। পরিবেশবিধি লঙ্ঘন করে কোনো প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়া হবে না। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ অবৈধ ইটভাটা ও দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তারা।

সর্বাধিক পঠিত

সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ৯ জন আটক

পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বন্ধ ঘোষণা; র‌্যাব ও পুলিশের সহায়তায় পরিচালিত হয় বিশেষ এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম

ভাকুর্তায় ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান

আপডেট সময়: ০৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

বায়ুদূষণ রোধ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সাভারের ভাকুর্তা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ১১ মে সোমবার দুপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয় এবং সদর দপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে একটি অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং এর সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের শ্যামলাসী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকরভাবে পরিচালিত হচ্ছিল “মেসার্স এ বি এন এন্ড কোং” নামের ইটভাটা। অভিযোগ ছিল, ইটভাটাটি পরিবেশগত ছাড়পত্র ও বিধিমালা উপেক্ষা করে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। এতে আশপাশের এলাকায় বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমি, গাছপালা ও স্থানীয় জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছিল।

এ অবস্থায় পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়জুন্নেছা আক্তারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ইটভাটার বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক নয়ন কুমার রায়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পুলিশের একটি বহর এবং এক প্লাটুন র‌্যাব সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রয়োজনীয় আইনগত ও নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। অভিযানের ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানান তারা।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়জুন্নেছা আক্তার বলেন, “পরিবেশ রক্ষা এবং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। পরিবেশবিধি লঙ্ঘন করে কোনো প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়া হবে না। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ অবৈধ ইটভাটা ও দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তারা।