ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চিয়া সিডসের জনপ্রিয়তা বাড়লেও ফাইবার ও হজমের ক্ষেত্রে ইসবগুলই বেশি কার্যকর, বলছেন বিশেষজ্ঞরা,

চিয়া সিডস না ইসবগুল—অন্ত্রের স্বাস্থ্যে কে এগিয়ে?

কয়েক বছর ধরেই স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় ট্রেন্ডিং উপাদান হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে চিয়া সিডস। ওজন কমানো, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে পেট পরিষ্কার রাখার কাজে এই সাদা-কালো ছোট দানার কদর কম নয়। চিয়া বীজে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চিয়া সিডসের চেয়েও বেশি ফাইবার ও অন্ত্রবান্ধব উপাদান রয়েছে ইসবগুলে। একসময় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে নিয়মিত ইসবগুল খাওয়ার চল থাকলেও বর্তমানে তার জায়গা অনেকটাই দখল করেছে চিয়া সিডস। কিন্তু পুষ্টিগুণের বিচারে ইসবগুল এখনও অনেকটাই এগিয়ে।

🧬 ফাইবারের পরিমাণে কে এগিয়ে?
পরিসংখ্যান বলছে—১০০ গ্রাম চিয়া সিডসে রয়েছে প্রায় ৩৪ গ্রাম ডায়েটরি ফাইবার, অন্যদিকে ১০০ গ্রাম ইসবগুলে পাওয়া যায় প্রায় ৭০–৮০ গ্রাম ডায়েটরি ফাইবার, চিয়া বীজের ফাইবারের প্রায় ৮৫–৯০ শতাংশই দ্রবণীয়, যা রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি ওজন নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, ইসবগুলের ফাইবার মূলত অদ্রবণীয়, যা মল নরম করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকর।

⚖️ ওজন, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ইসবগুল, শুধু অদ্রবণীয় নয়, ইসবগুলে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয়—উভয় ধরনের ফাইবারই রয়েছে। ফলে— ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, এলডিএল (খারাপ) কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ইসবগুল খেলে পেট দীর্ঘক্ষণ ভর্তি থাকে, ফলে অহেতুক খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। এটি হজমে সহায়তা করে এবং পাকস্থলীতে একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা বদহজম প্রতিরোধে সহায়ক।

🦠 অন্ত্রের স্বাস্থ্যে ইসবগুলের বিশেষ ভূমিকা
ইসবগুল একটি প্রিবায়োটিক, যা অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে- কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়, অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে, হজমশক্তি উন্নত হয়।

🥄 কীভাবে খাবেন ইসবগুল?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী—দিনে ১–২ চামচ ইসবগুল খাওয়া যেতে পারে, জল বা দুধে গুলে খেলে সবচেয়ে ভালো উপকার মেলে, চাইলে টকদইয়ের সঙ্গেও মিশিয়ে খাওয়া যায়, ইসবগুল খাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ৩০ মিনিট আগে ইসবগুল খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

📝 উপসংহার
চিয়া সিডস স্বাস্থ্যকর হলেও, ফাইবারের পরিমাণ ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ইসবগুল নিঃসন্দেহে বেশি কার্যকর। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রয়োজন বুঝে ইসবগুল অন্তর্ভুক্ত করাই হতে পারে বুদ্ধিমানের কাজ।

ডিবির পৃথক অভিযানে বিপুল মাদক উদ্ধার, আটক ৩

চিয়া সিডসের জনপ্রিয়তা বাড়লেও ফাইবার ও হজমের ক্ষেত্রে ইসবগুলই বেশি কার্যকর, বলছেন বিশেষজ্ঞরা,

চিয়া সিডস না ইসবগুল—অন্ত্রের স্বাস্থ্যে কে এগিয়ে?

আপডেট সময়: ০৫:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

কয়েক বছর ধরেই স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় ট্রেন্ডিং উপাদান হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে চিয়া সিডস। ওজন কমানো, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে পেট পরিষ্কার রাখার কাজে এই সাদা-কালো ছোট দানার কদর কম নয়। চিয়া বীজে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চিয়া সিডসের চেয়েও বেশি ফাইবার ও অন্ত্রবান্ধব উপাদান রয়েছে ইসবগুলে। একসময় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে নিয়মিত ইসবগুল খাওয়ার চল থাকলেও বর্তমানে তার জায়গা অনেকটাই দখল করেছে চিয়া সিডস। কিন্তু পুষ্টিগুণের বিচারে ইসবগুল এখনও অনেকটাই এগিয়ে।

🧬 ফাইবারের পরিমাণে কে এগিয়ে?
পরিসংখ্যান বলছে—১০০ গ্রাম চিয়া সিডসে রয়েছে প্রায় ৩৪ গ্রাম ডায়েটরি ফাইবার, অন্যদিকে ১০০ গ্রাম ইসবগুলে পাওয়া যায় প্রায় ৭০–৮০ গ্রাম ডায়েটরি ফাইবার, চিয়া বীজের ফাইবারের প্রায় ৮৫–৯০ শতাংশই দ্রবণীয়, যা রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি ওজন নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, ইসবগুলের ফাইবার মূলত অদ্রবণীয়, যা মল নরম করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকর।

⚖️ ওজন, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ইসবগুল, শুধু অদ্রবণীয় নয়, ইসবগুলে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয়—উভয় ধরনের ফাইবারই রয়েছে। ফলে— ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, এলডিএল (খারাপ) কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ইসবগুল খেলে পেট দীর্ঘক্ষণ ভর্তি থাকে, ফলে অহেতুক খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। এটি হজমে সহায়তা করে এবং পাকস্থলীতে একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা বদহজম প্রতিরোধে সহায়ক।

🦠 অন্ত্রের স্বাস্থ্যে ইসবগুলের বিশেষ ভূমিকা
ইসবগুল একটি প্রিবায়োটিক, যা অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে- কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়, অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে, হজমশক্তি উন্নত হয়।

🥄 কীভাবে খাবেন ইসবগুল?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী—দিনে ১–২ চামচ ইসবগুল খাওয়া যেতে পারে, জল বা দুধে গুলে খেলে সবচেয়ে ভালো উপকার মেলে, চাইলে টকদইয়ের সঙ্গেও মিশিয়ে খাওয়া যায়, ইসবগুল খাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ৩০ মিনিট আগে ইসবগুল খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

📝 উপসংহার
চিয়া সিডস স্বাস্থ্যকর হলেও, ফাইবারের পরিমাণ ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ইসবগুল নিঃসন্দেহে বেশি কার্যকর। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রয়োজন বুঝে ইসবগুল অন্তর্ভুক্ত করাই হতে পারে বুদ্ধিমানের কাজ।