ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ইসলামি সমাবেশে আল্লাহর রহমত অবতীর্ণ হয়, ফেরেশতারা ঘিরে রাখে—জিকিরের মজলিসের ফজিলত নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।

শীতে ইবাদতের বসন্ত: ওয়াজ-মাহফিল কেন ‘বেহেশতের বাগান’

শীতকাল মুসলিম সমাজে ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির এক বিশেষ মৌসুম হিসেবে পরিচিত। এ সময় দেশজুড়ে চলে জিকিরের মজলিস— ওয়াজ, মাহফিল, ইসলামি সমাবেশ ও হালকায়ে জিকির। এগুলো কেবল নামমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; বরং নবীজি (সা.) এগুলোকে ঘোষণা করেছেন— ‘বেহেশতের বাগান’

ইসলামি মাহফিলে মানুষ আল্লাহর স্মরণ করে, কুরআন-হাদিস শোনে, তওবা করে এবং ইমানের আলোতে হৃদয়কে পুনর্জীবিত করে। তাই এ ধরনের মজলিস আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও সম্মানিত।

১. জিকিরের মজলিস— বেহেশতের বাগান
নবীজি (সা.) বলেছেন— إِذَا مَرَرْتُمْ بِرِيَاضِ الْجَنَّةِ فَارْتَعُوا ‏قَالَ وَمَا رِيَاضُ الْجَنَّةِ قَالَ ‏”‏ حِلَقُ الذِّكْرِ ‏ “তোমরা যখন বেহেশতের বাগানসমূহের পাশ দিয়ে যাবে, সেখানে বসবে।”

সহাবারা জিজ্ঞেস করলেন— বেহেশতের বাগান কী? তিনি বললেন—“আল্লাহর জিকিরের মজলিস।” (তিরমিজি ৩৫১০)। অর্থাৎ, যে সমাবেশে আল্লাহকে স্মরণ করা হয়, তা-ই দুনিয়ার বেহেশতের বাগান।

২. জিকিরের সমাবেশে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়
আল্লাহ তাআলা বলেন— وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ “তুমি তাদের সঙ্গে ধৈর্য ধারণ করো, যারা সকাল-সন্ধ্যা তাদের প্রতিপালককে স্মরণ করে।” (সুরা কাহফ: ২৮)। এ আয়াতের মাধ্যমে স্পষ্ট— জিকিরকারীদের সঙ্গ আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।

৩. আল্লাহর স্মরণে হৃদয়ের প্রশান্তি
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ  “জেনে রাখো! আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে।” (সুরা আর-রাদ: ২৮)। ওয়াজ-মাহফিলে অংশগ্রহণ মানে এই প্রশান্তির সন্ধান পাওয়া।

৪. ওয়াজের শ্রোতাদের আল্লাহ নিজে স্মরণ করেন
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—مَا مِنْ قَوْمٍ يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلاَّ حَفَّتْ بِهِمُ الْمَلاَئِكَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَنَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ যেখানে কিছু লোক আল্লাহর জিকিরে মশগুল হয়, সেখানে ফেরেশতারা তাদের ঘিরে ফেলে, রহমত তাদের ঢেকে দেয় এবং আল্লাহ নিজে তাঁর সম্মানিত মজলিসে তাদের কথা স্মরণ করেন।” (তিরমিজি ৩৩৭৮; ইবনু মাজাহ ৩৭৯১)

এ এক অনন্য মর্যাদা— পৃথিবীতে বসে আল্লাহর মহামজলিসে স্মরণ হওয়া!

উপসংহার
ইসলামি মাহফিল, ওয়াজ, দাওয়াতি আলোচনা—এসব কেবল ধর্মীয় আয়োজন নয়; বরং আল্লাহর বিশেষ রহমত ও প্রশান্তির কেন্দ্র। যেখানে কুরআন পাঠ হয়, আল্লাহর স্মরণ হয়, নবী (সা.)-এর সুন্নাহ আলোচনা হয়— সেগুলো দুনিয়ার বেহেশতের বাগান।

নিয়মিত এসব নেক সমাবেশে অংশ নেওয়া হৃদয়কে পবিত্র করে, ইমানকে সতেজ করে এবং পরকালীন মুক্তির পথ সহজ করে দেয়।

আমরা যেন এ বেহেশতি সমাবেশের সান্নিধ্য নিয়মিত লাভ করতে পারি— আমিন।

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় আজপ্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও স্ত্রী স্বপ্নার সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা রাষ্ট্রপক্ষের

ইসলামি সমাবেশে আল্লাহর রহমত অবতীর্ণ হয়, ফেরেশতারা ঘিরে রাখে—জিকিরের মজলিসের ফজিলত নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।

শীতে ইবাদতের বসন্ত: ওয়াজ-মাহফিল কেন ‘বেহেশতের বাগান’

আপডেট সময়: ০৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

শীতকাল মুসলিম সমাজে ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির এক বিশেষ মৌসুম হিসেবে পরিচিত। এ সময় দেশজুড়ে চলে জিকিরের মজলিস— ওয়াজ, মাহফিল, ইসলামি সমাবেশ ও হালকায়ে জিকির। এগুলো কেবল নামমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; বরং নবীজি (সা.) এগুলোকে ঘোষণা করেছেন— ‘বেহেশতের বাগান’

ইসলামি মাহফিলে মানুষ আল্লাহর স্মরণ করে, কুরআন-হাদিস শোনে, তওবা করে এবং ইমানের আলোতে হৃদয়কে পুনর্জীবিত করে। তাই এ ধরনের মজলিস আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও সম্মানিত।

১. জিকিরের মজলিস— বেহেশতের বাগান
নবীজি (সা.) বলেছেন— إِذَا مَرَرْتُمْ بِرِيَاضِ الْجَنَّةِ فَارْتَعُوا ‏قَالَ وَمَا رِيَاضُ الْجَنَّةِ قَالَ ‏”‏ حِلَقُ الذِّكْرِ ‏ “তোমরা যখন বেহেশতের বাগানসমূহের পাশ দিয়ে যাবে, সেখানে বসবে।”

সহাবারা জিজ্ঞেস করলেন— বেহেশতের বাগান কী? তিনি বললেন—“আল্লাহর জিকিরের মজলিস।” (তিরমিজি ৩৫১০)। অর্থাৎ, যে সমাবেশে আল্লাহকে স্মরণ করা হয়, তা-ই দুনিয়ার বেহেশতের বাগান।

২. জিকিরের সমাবেশে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়
আল্লাহ তাআলা বলেন— وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ “তুমি তাদের সঙ্গে ধৈর্য ধারণ করো, যারা সকাল-সন্ধ্যা তাদের প্রতিপালককে স্মরণ করে।” (সুরা কাহফ: ২৮)। এ আয়াতের মাধ্যমে স্পষ্ট— জিকিরকারীদের সঙ্গ আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।

৩. আল্লাহর স্মরণে হৃদয়ের প্রশান্তি
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ  “জেনে রাখো! আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে।” (সুরা আর-রাদ: ২৮)। ওয়াজ-মাহফিলে অংশগ্রহণ মানে এই প্রশান্তির সন্ধান পাওয়া।

৪. ওয়াজের শ্রোতাদের আল্লাহ নিজে স্মরণ করেন
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—مَا مِنْ قَوْمٍ يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلاَّ حَفَّتْ بِهِمُ الْمَلاَئِكَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَنَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ যেখানে কিছু লোক আল্লাহর জিকিরে মশগুল হয়, সেখানে ফেরেশতারা তাদের ঘিরে ফেলে, রহমত তাদের ঢেকে দেয় এবং আল্লাহ নিজে তাঁর সম্মানিত মজলিসে তাদের কথা স্মরণ করেন।” (তিরমিজি ৩৩৭৮; ইবনু মাজাহ ৩৭৯১)

এ এক অনন্য মর্যাদা— পৃথিবীতে বসে আল্লাহর মহামজলিসে স্মরণ হওয়া!

উপসংহার
ইসলামি মাহফিল, ওয়াজ, দাওয়াতি আলোচনা—এসব কেবল ধর্মীয় আয়োজন নয়; বরং আল্লাহর বিশেষ রহমত ও প্রশান্তির কেন্দ্র। যেখানে কুরআন পাঠ হয়, আল্লাহর স্মরণ হয়, নবী (সা.)-এর সুন্নাহ আলোচনা হয়— সেগুলো দুনিয়ার বেহেশতের বাগান।

নিয়মিত এসব নেক সমাবেশে অংশ নেওয়া হৃদয়কে পবিত্র করে, ইমানকে সতেজ করে এবং পরকালীন মুক্তির পথ সহজ করে দেয়।

আমরা যেন এ বেহেশতি সমাবেশের সান্নিধ্য নিয়মিত লাভ করতে পারি— আমিন।