ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
সাভার সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষের রমরমা: বেঞ্চ সহকারী হেলালকে ঘিরে তোলপাড় সাভারে তরুণী গণধর্ষণ: দুই আসামি আটক, পলাতক আরও তিনজন ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ধামরাইয়ে ৯ মামলার আসামি ছিনতাইকারী গ্রেফতার সাভারের ভাঙচুর মামলায় জামিনে মুক্ত ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম জুয়েল ঢাকা জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, গ্রেফতার ৪ ব্যবসায়ী ধামরাইয়ে অবৈধ সীসা কারখানায় অভিযান, জরিমানা ৫০ হাজার টাকা নিয়ম না মানায় অপপ্রচার: সাভার সাব-রেজিস্ট্রারের অভিযোগ গাঁজাসহ আশুলিয়ায় ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৬ গ্রাম হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

উট: মরুভূমির জাহাজ থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিস্ময়

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময়: ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 135

উটকে বলা হয় ‘মরুভূমির জাহাজ’। কঠিন পরিবেশে টিকে থাকার অসাধারণ ক্ষমতা ও মানুষের জীবনে বহুমাত্রিক অবদানের জন্য এ প্রাণী ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করেছে। শুধু পরিবহন নয়, দুধ, মাংস, চামড়া ও পশমের জন্যও উট সমান গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণাতেও উটের অবদান দিন দিন আলোচনায় আসছে।

উটের গঠন ও খাদ্যাভ্যাস

উট দুই প্রকার: ড্রোমেডারি (এক কুঁজ) ও ব্যাকট্রিয়ান (দুই কুঁজ)।

কুঁজে পানি নয়, চর্বি জমা থাকে, যা খাদ্যাভাব পূরণে শক্তি সরবরাহ করে।

পাকস্থলীর পাশে বিশেষ থলি থাকায় উট ৮-১০ দিন পানি ছাড়া টিকে থাকতে পারে।

উটের পায়ের তলায় নরম প্যাড থাকে, যা বালিতে ডুবে যাওয়া রোধ করে।

প্রতিদিন ২০-২৫ মাইল হাঁটতে পারে এবং ভারী বোঝা বহনেও সক্ষম।

উট এমন গাছও খায় যা অন্য প্রাণীরা খেতে পারে না, যেমন—কাঁটাযুক্ত বাবলাগাছ।

অটিজম ও ডায়াবেটিস চিকিৎসায় উটের দুধ

উটের দুধে ল্যাক্টোফেরিন, ইম্যুনোগ্লোবিউলিন, লাইসোজোমল্যাক্টোপার অক্সাইড বিদ্যমান।

এতে এমন প্রোটিন আছে যা ইনসুলিনের মতো কাজ করে, ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।

গরুর দুধে থাকা বেটা-ল্যাক্টোগ্লোবিউলিন অনুপস্থিত থাকায় অ্যালার্জি ও ইমিউন সমস্যার ঝুঁকি কম।

গবেষণায় প্রমাণিত, অটিজম আক্রান্ত শিশুদের জন্য উটের দুধ কার্যকর হতে পারে।

উটের অশ্রু: মরুভূমির অ্যান্টিভেনম

ভারতের ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার অন ক্যামেল জানিয়েছে, উটের চোখের জলে বিশেষ অ্যান্টিবডি রয়েছে।

এগুলো ২৬ প্রজাতির সাপের বিষ নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম।

ভবিষ্যতে সাপের কামড়ের প্রতিষেধক তৈরিতে উটের অশ্রু বিপ্লব আনতে পারে।

চর্মরোগ ও অঙ্গব্যাধির চিকিৎসায় উটের মূত্র

সৌদি গবেষক ডা. আহলাম আওয়াদির মতে, উটের মূত্রে অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান আছে।

একজিমা, অ্যালার্জি, ব্রণ, নখের সংক্রমণ, ক্যান্সার, হেপাটাইটিসসহ নানা রোগ নিরাময়ে কার্যকর।

সুদানের গেজিরা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, পাচনতন্ত্রের নানা রোগে উটের মূত্র কার্যকর।

লিভারের টিউমারঅ্যাসাইটিস রোগের চিকিৎসায়ও ইতিবাচক ফল মিলেছে।

বন্ধ্যাত্ব ও গর্ভধারণ চিকিৎসায় ব্যবহার

ইসলামী বিজ্ঞানী ডা. জাঘলুল নাজ্জার উল্লেখ করেন, ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান Serono নবীজির (সা.)-এর হাদিস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নারীর বন্ধ্যাত্ব নিরসনে উটের মূত্র ব্যবহার করে ওষুধ তৈরি করেছে।

বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটি এখনো ব্যবহার হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

সাভার সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষের রমরমা: বেঞ্চ সহকারী হেলালকে ঘিরে তোলপাড়

উট: মরুভূমির জাহাজ থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিস্ময়

আপডেট সময়: ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

উটকে বলা হয় ‘মরুভূমির জাহাজ’। কঠিন পরিবেশে টিকে থাকার অসাধারণ ক্ষমতা ও মানুষের জীবনে বহুমাত্রিক অবদানের জন্য এ প্রাণী ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করেছে। শুধু পরিবহন নয়, দুধ, মাংস, চামড়া ও পশমের জন্যও উট সমান গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণাতেও উটের অবদান দিন দিন আলোচনায় আসছে।

উটের গঠন ও খাদ্যাভ্যাস

উট দুই প্রকার: ড্রোমেডারি (এক কুঁজ) ও ব্যাকট্রিয়ান (দুই কুঁজ)।

কুঁজে পানি নয়, চর্বি জমা থাকে, যা খাদ্যাভাব পূরণে শক্তি সরবরাহ করে।

পাকস্থলীর পাশে বিশেষ থলি থাকায় উট ৮-১০ দিন পানি ছাড়া টিকে থাকতে পারে।

উটের পায়ের তলায় নরম প্যাড থাকে, যা বালিতে ডুবে যাওয়া রোধ করে।

প্রতিদিন ২০-২৫ মাইল হাঁটতে পারে এবং ভারী বোঝা বহনেও সক্ষম।

উট এমন গাছও খায় যা অন্য প্রাণীরা খেতে পারে না, যেমন—কাঁটাযুক্ত বাবলাগাছ।

অটিজম ও ডায়াবেটিস চিকিৎসায় উটের দুধ

উটের দুধে ল্যাক্টোফেরিন, ইম্যুনোগ্লোবিউলিন, লাইসোজোমল্যাক্টোপার অক্সাইড বিদ্যমান।

এতে এমন প্রোটিন আছে যা ইনসুলিনের মতো কাজ করে, ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।

গরুর দুধে থাকা বেটা-ল্যাক্টোগ্লোবিউলিন অনুপস্থিত থাকায় অ্যালার্জি ও ইমিউন সমস্যার ঝুঁকি কম।

গবেষণায় প্রমাণিত, অটিজম আক্রান্ত শিশুদের জন্য উটের দুধ কার্যকর হতে পারে।

উটের অশ্রু: মরুভূমির অ্যান্টিভেনম

ভারতের ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার অন ক্যামেল জানিয়েছে, উটের চোখের জলে বিশেষ অ্যান্টিবডি রয়েছে।

এগুলো ২৬ প্রজাতির সাপের বিষ নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম।

ভবিষ্যতে সাপের কামড়ের প্রতিষেধক তৈরিতে উটের অশ্রু বিপ্লব আনতে পারে।

চর্মরোগ ও অঙ্গব্যাধির চিকিৎসায় উটের মূত্র

সৌদি গবেষক ডা. আহলাম আওয়াদির মতে, উটের মূত্রে অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান আছে।

একজিমা, অ্যালার্জি, ব্রণ, নখের সংক্রমণ, ক্যান্সার, হেপাটাইটিসসহ নানা রোগ নিরাময়ে কার্যকর।

সুদানের গেজিরা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, পাচনতন্ত্রের নানা রোগে উটের মূত্র কার্যকর।

লিভারের টিউমারঅ্যাসাইটিস রোগের চিকিৎসায়ও ইতিবাচক ফল মিলেছে।

বন্ধ্যাত্ব ও গর্ভধারণ চিকিৎসায় ব্যবহার

ইসলামী বিজ্ঞানী ডা. জাঘলুল নাজ্জার উল্লেখ করেন, ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান Serono নবীজির (সা.)-এর হাদিস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নারীর বন্ধ্যাত্ব নিরসনে উটের মূত্র ব্যবহার করে ওষুধ তৈরি করেছে।

বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটি এখনো ব্যবহার হচ্ছে।