ঢাকা , শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
সাভারে ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক বাংলাদেশে বিনিয়োগে চীনা ব্যবসায়ীদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ২ কেজি গাঁজা ও ৫০ পিস ইয়াবাসহ চার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকায় প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত তেঁতুলঝোড়া ইউপি নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বিএনপির দুই নেতা, সরব নির্বাচনী মাঠ ৮০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সাভারে ডাকাতি প্রস্তুতির অভিযোগে ৩ আটক ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, তিনজন গ্রেপ্তার সাভারে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ঢাকা জেলায় বিশেষ অভিযানে ডাকাত দলের ৩ সদস্য গ্রেফতার

নিউমোনিয়া: ঝুঁকিপূর্ণ কারা, লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

ফুসফুসের সংক্রমণজনিত গুরুতর রোগ নিউমোনিয়া শিশু ও বয়স্কদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এ রোগ শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে জীবনহানির কারণও হতে পারে। বিশেষ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে নিউমোনিয়ার জটিলতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

নিউমোনিয়া কী ও কেন হয়

নিউমোনিয়া হলো ফুসফুসের এক ধরনের মারাত্মক সংক্রমণ, যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক কিংবা কখনো পরজীবীর মাধ্যমে হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াই প্রধান কারণ। জীবাণু ফুসফুসে প্রবেশ করলে ভেতরের এয়ার স্যাক বা অ্যালভিওলাইতে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং সেখানে তরল বা পুঁজ জমে যায়। ফলে রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

নিউমোনিয়ার লক্ষণ

নিউমোনিয়ার লক্ষণ হালকা থেকে গুরুতর হতে পারে এবং বয়স ও সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয়। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • উচ্চ জ্বর ও শরীর কাঁপুনি
  • কাশি, কাশির সঙ্গে হলুদ, সবুজ বা কখনো রক্তমিশ্রিত কফ
  • শ্বাসকষ্ট ও দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস
  • বুকে ব্যথা, বিশেষ করে আক্রান্ত পাশের ফুসফুসে
  • দুর্বলতা, ক্লান্তি, ক্ষুধামান্দ্য
  • গুরুতর হলে ঠোঁট, জিহ্বা বা আঙুল নীল হয়ে যাওয়া (অক্সিজেন কমে গেলে)

শিশু ও নবজাতকদের ক্ষেত্রে অনেক সময় স্পষ্ট লক্ষণ নাও দেখা যেতে পারে। তবে খেতে না পারা, দ্রুত শ্বাস, অস্থিরতা, বমি বা অতিরিক্ত কান্না নিউমোনিয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।

৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে জ্বর বা কাশি কম থাকলেও হঠাৎ বিভ্রান্তি, শারীরিক দুর্বলতা বা পুরোনো রোগের অবনতি দেখা দিতে পারে।

কারা নিউমোনিয়ার বেশি ঝুঁকিতে

  • ৫ বছরের কম বয়সী শিশু
  • ৬৫ বছরের বেশি বয়সী বয়স্ক ব্যক্তি
  • যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম (কেমোথেরাপি, স্টেরয়েড সেবন, এইচআইভি ইত্যাদি)
  • অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হার্ট, কিডনি বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা ব্যক্তি
  • ধূমপায়ী
  • যাদের আগে থেকেই অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস বা অন্যান্য ফুসফুসের রোগ আছে
  • ভাইরাল ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জার পর সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হলে

নিউমোনিয়ার ধরন

নিউমোনিয়া বিভিন্নভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা যায়। যেমন—

  • কমিউনিটি অ্যাকোয়ার্ড নিউমোনিয়া (হাসপাতালের বাইরে হওয়া)
  • হাসপাতাল-অর্জিত নিউমোনিয়া ও ভেন্টিলেটর-সম্পর্কিত নিউমোনিয়া
  • ব্যাকটেরিয়াল, ভাইরাল, মাইকোপ্লাজমা ও ছত্রাকজনিত নিউমোনিয়া
  • শ্বাসাঘাত (অ্যাসপিরেশন) নিউমোনিয়া
  • হাঁটা নিউমোনিয়া (হালকা উপসর্গযুক্ত)

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

জ্বর, কাশি, বুকে ব্যথা ও কফের রং পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সাধারণত বুকের এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই নিউমোনিয়া শনাক্ত করা যায়।

সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়—

  • ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক
  • ভাইরাল নিউমোনিয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিভাইরাল ও সহায়ক চিকিৎসা
  • জ্বর ও ব্যথায় প্যারাসিটামল

গুরুতর অবস্থায় রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে অক্সিজেন বা ইনজেকশনের মাধ্যমে ওষুধ দিতে হয়।

কখন হাসপাতালে ভর্তি জরুরি

  • প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট
  • রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া
  • খাবার গ্রহণে অক্ষমতা
  • অতিরিক্ত জ্বর বা দ্রুত শ্বাস
  • বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে

নিউমোনিয়া প্রতিরোধের উপায়

  • সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
  • ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার
  • নিয়মিত হাত ধোয়া ও সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা
  • নিউমোকোকাল ও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন গ্রহণ (বিশেষ করে বয়স্ক ও উচ্চ ঝুঁকির ব্যক্তিদের জন্য)
  • ফ্লু বা নিউমোনিয়া আক্রান্ত হলে মাস্ক ব্যবহার

শেষ কথা

সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ মানুষই নিউমোনিয়া থেকে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে অবহেলা করলে এটি মারাত্মক জটিলতা থেকে মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

সাভারে ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক

নিউমোনিয়া: ঝুঁকিপূর্ণ কারা, লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

আপডেট সময়: ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফুসফুসের সংক্রমণজনিত গুরুতর রোগ নিউমোনিয়া শিশু ও বয়স্কদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এ রোগ শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে জীবনহানির কারণও হতে পারে। বিশেষ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে নিউমোনিয়ার জটিলতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

নিউমোনিয়া কী ও কেন হয়

নিউমোনিয়া হলো ফুসফুসের এক ধরনের মারাত্মক সংক্রমণ, যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক কিংবা কখনো পরজীবীর মাধ্যমে হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াই প্রধান কারণ। জীবাণু ফুসফুসে প্রবেশ করলে ভেতরের এয়ার স্যাক বা অ্যালভিওলাইতে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং সেখানে তরল বা পুঁজ জমে যায়। ফলে রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

নিউমোনিয়ার লক্ষণ

নিউমোনিয়ার লক্ষণ হালকা থেকে গুরুতর হতে পারে এবং বয়স ও সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয়। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • উচ্চ জ্বর ও শরীর কাঁপুনি
  • কাশি, কাশির সঙ্গে হলুদ, সবুজ বা কখনো রক্তমিশ্রিত কফ
  • শ্বাসকষ্ট ও দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস
  • বুকে ব্যথা, বিশেষ করে আক্রান্ত পাশের ফুসফুসে
  • দুর্বলতা, ক্লান্তি, ক্ষুধামান্দ্য
  • গুরুতর হলে ঠোঁট, জিহ্বা বা আঙুল নীল হয়ে যাওয়া (অক্সিজেন কমে গেলে)

শিশু ও নবজাতকদের ক্ষেত্রে অনেক সময় স্পষ্ট লক্ষণ নাও দেখা যেতে পারে। তবে খেতে না পারা, দ্রুত শ্বাস, অস্থিরতা, বমি বা অতিরিক্ত কান্না নিউমোনিয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।

৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে জ্বর বা কাশি কম থাকলেও হঠাৎ বিভ্রান্তি, শারীরিক দুর্বলতা বা পুরোনো রোগের অবনতি দেখা দিতে পারে।

কারা নিউমোনিয়ার বেশি ঝুঁকিতে

  • ৫ বছরের কম বয়সী শিশু
  • ৬৫ বছরের বেশি বয়সী বয়স্ক ব্যক্তি
  • যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম (কেমোথেরাপি, স্টেরয়েড সেবন, এইচআইভি ইত্যাদি)
  • অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হার্ট, কিডনি বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা ব্যক্তি
  • ধূমপায়ী
  • যাদের আগে থেকেই অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস বা অন্যান্য ফুসফুসের রোগ আছে
  • ভাইরাল ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জার পর সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হলে

নিউমোনিয়ার ধরন

নিউমোনিয়া বিভিন্নভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা যায়। যেমন—

  • কমিউনিটি অ্যাকোয়ার্ড নিউমোনিয়া (হাসপাতালের বাইরে হওয়া)
  • হাসপাতাল-অর্জিত নিউমোনিয়া ও ভেন্টিলেটর-সম্পর্কিত নিউমোনিয়া
  • ব্যাকটেরিয়াল, ভাইরাল, মাইকোপ্লাজমা ও ছত্রাকজনিত নিউমোনিয়া
  • শ্বাসাঘাত (অ্যাসপিরেশন) নিউমোনিয়া
  • হাঁটা নিউমোনিয়া (হালকা উপসর্গযুক্ত)

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

জ্বর, কাশি, বুকে ব্যথা ও কফের রং পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সাধারণত বুকের এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই নিউমোনিয়া শনাক্ত করা যায়।

সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়—

  • ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক
  • ভাইরাল নিউমোনিয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিভাইরাল ও সহায়ক চিকিৎসা
  • জ্বর ও ব্যথায় প্যারাসিটামল

গুরুতর অবস্থায় রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে অক্সিজেন বা ইনজেকশনের মাধ্যমে ওষুধ দিতে হয়।

কখন হাসপাতালে ভর্তি জরুরি

  • প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট
  • রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া
  • খাবার গ্রহণে অক্ষমতা
  • অতিরিক্ত জ্বর বা দ্রুত শ্বাস
  • বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে

নিউমোনিয়া প্রতিরোধের উপায়

  • সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
  • ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার
  • নিয়মিত হাত ধোয়া ও সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা
  • নিউমোকোকাল ও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন গ্রহণ (বিশেষ করে বয়স্ক ও উচ্চ ঝুঁকির ব্যক্তিদের জন্য)
  • ফ্লু বা নিউমোনিয়া আক্রান্ত হলে মাস্ক ব্যবহার

শেষ কথা

সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ মানুষই নিউমোনিয়া থেকে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে অবহেলা করলে এটি মারাত্মক জটিলতা থেকে মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।