ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক পৃথক অভিযানে মাদক বিক্রির নগদ টাকাসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ; গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে

ইয়াবা-হেরোইনসহ সাতজন গ্রেপ্তার

ঢাকা জেলার গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-উত্তর) পৃথক পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৫৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২৫০ পুড়িয়া হেরোইন উদ্ধার করেছে। এ সময় মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত সাতজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের পাশাপাশি বিক্রির নগদ টাকাও জব্দ করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-উত্তর)-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে তাদের কাছ থেকে ইয়াবা ও হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে সাভার মডেল থানার আক্রাইন সামাইর ফকিরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুর রহমান (৪২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ৯ হাজার ৯৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এরপর ১২ জুন রাত ১২টা ১০ মিনিটে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি (উত্তর) পুলিশ। এ অভিযানে সাব্বির হোসেন (২৫), জামাল হোসেন (৩৮) এবং শাহিন মিয়া (২৪) নামে তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২৫০ পুড়িয়া হেরোইন, যার মোট ওজন প্রায় ২৫ গ্রাম, এবং ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

একই দিনে ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে সাভারের আমিনবাজার বরদেশী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তারেক (৩৮) নামে আরেক মাদক ব্যবসায়ীকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সকাল ৬টা ৫ মিনিটে আমিনবাজার এলাকায় পুনরায় অভিযান পরিচালনা করে সুজন (৩০) ও তরিকুল ইসলাম মিলন (৩৫) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে আরও ৩৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধে ৪টি, জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে ২টি, তারেকের বিরুদ্ধে ১টি এবং সুজনের বিরুদ্ধে ৩টি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল।

ডিবি (উত্তর) কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য এবং এসব মাদক রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিবি (উত্তর) জানায়, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ঢাকা জেলা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক কারবারি ও তাদের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সাভারে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক পৃথক অভিযানে মাদক বিক্রির নগদ টাকাসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ; গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে

ইয়াবা-হেরোইনসহ সাতজন গ্রেপ্তার

আপডেট সময়: ০১:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

ঢাকা জেলার গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-উত্তর) পৃথক পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৫৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২৫০ পুড়িয়া হেরোইন উদ্ধার করেছে। এ সময় মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত সাতজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের পাশাপাশি বিক্রির নগদ টাকাও জব্দ করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-উত্তর)-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে তাদের কাছ থেকে ইয়াবা ও হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে সাভার মডেল থানার আক্রাইন সামাইর ফকিরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুর রহমান (৪২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ৯ হাজার ৯৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এরপর ১২ জুন রাত ১২টা ১০ মিনিটে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি (উত্তর) পুলিশ। এ অভিযানে সাব্বির হোসেন (২৫), জামাল হোসেন (৩৮) এবং শাহিন মিয়া (২৪) নামে তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২৫০ পুড়িয়া হেরোইন, যার মোট ওজন প্রায় ২৫ গ্রাম, এবং ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

একই দিনে ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে সাভারের আমিনবাজার বরদেশী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তারেক (৩৮) নামে আরেক মাদক ব্যবসায়ীকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সকাল ৬টা ৫ মিনিটে আমিনবাজার এলাকায় পুনরায় অভিযান পরিচালনা করে সুজন (৩০) ও তরিকুল ইসলাম মিলন (৩৫) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে আরও ৩৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধে ৪টি, জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে ২টি, তারেকের বিরুদ্ধে ১টি এবং সুজনের বিরুদ্ধে ৩টি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল।

ডিবি (উত্তর) কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য এবং এসব মাদক রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিবি (উত্তর) জানায়, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ঢাকা জেলা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক কারবারি ও তাদের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।