ঢাকা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-উত্তর) বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাইকারী দলের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত শুক্রবার (১৯ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাভার মডেল থানাধীন রেডিও কলোনী এলাকায় অভিযান চালায় ঢাকা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-উত্তর)।
ডিবি (উত্তর)-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মো. আব্দুল মুত্তালিব এবং সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ছিনতাইকারী দলের সক্রিয় তিন সদস্যকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. সোহাগ মিয়া (২৬), পিতা মো. বাদশা মিয়া, মাতা রাবেয়া বেগম। তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানার চাকামাইয়া এলাকায় হলেও বর্তমানে তিনি আশুলিয়ার কুরগাঁও এলাকায় বসবাস করেন। অপর গ্রেফতারকৃত স্বাধীন হাসান (২৫), পিতা আব্দুস সালাম, মাতা মরহুম শিউলি বেগম। তার বাড়ি আশুলিয়ার কুরগাঁও এলাকায়। তৃতীয় গ্রেফতারকৃত মো. রায়হান (২৩), পিতা মো. আব্দুল মালেক, মাতা মরহুম মিনারা খাতুন। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার ছৈলচাপড়া এলাকায় হলেও বর্তমানে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
ডিবি পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দলের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়।
পুলিশের পিসি/পিআর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গ্রেফতারকৃত সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে পূর্বে দুটি মামলা এবং স্বাধীন হাসানের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি প্রস্তুতি সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
ডিবি সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতির প্রস্তুতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-উত্তর) জানিয়েছে, জেলার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, ছিনতাই ও ডাকাতি প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে, যাতে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 






