ঢাকা জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-উত্তর) অভিযান চালিয়ে তিনজন সক্রিয় ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি ও পূর্ববর্তী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভিনের সার্বিক নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমনে ধারাবাহিকভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গত ১৪ জুন রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে সাভার মডেল থানার অন্তর্গত রেডিও কলোনী এলাকায় এসআই (নিঃ) মো. রাশেদ মিয়ার নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে আটক করা সম্ভব হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মো. আজিজুল হাকিম (২০), পিতা চান মিয়া, ঠিকানা নবদিয়া, দৌলতপুর, মানিকগঞ্জ; বর্তমানে জামসিং, সাভার, ঢাকা। মো. বিশাল শেখ (২২), পিতা বদর উদ্দিন শেখ, স্থায়ী ঠিকানা ধল্লা ডবল ব্রিজ, সিংগাইর, মানিকগঞ্জ; বর্তমানে আরাপাড়া, সাভার এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসরত। মো. কাউছার (৩২), পিতা রমজান আলী, ভাটপাড়া রেডিও কলোনী, সাভার, ঢাকা।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একাধিকজনের বিরুদ্ধে পূর্বে বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও পূর্ববর্তী অপরাধের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, মো. আজিজুল হাকিমের বিরুদ্ধে একটি বিবিধ ধারার মামলা এবং মো. বিশাল শেখের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। এ কারণে তাদের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরেই নজরদারিতে ছিল বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ডাকাতির পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ঢাকা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া সাধারণ জনগণকে যেকোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে করে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হয়।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 

