ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ

২৯ ঘণ্টায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ, অনুদান বন্ধ করলেন তাসনিম জারা

তাসনিম জারা। সংগৃহীত ছবি

ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারার নির্বাচনি তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে রেকর্ড সময়—মাত্র ২৯ ঘণ্টায়। এ সময়ের মধ্যে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ হওয়ায় আপাতত নতুন করে আর কোনো অনুদান গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানান ডা. তাসনিম জারা।

নিজের পোস্টে ডা. তাসনিম জারা বলেন, “আমাদের ফান্ড রেইজিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪৭ লাখ টাকা আপনারা মাত্র ২৯ ঘণ্টায় পূরণ করে ফেলেছেন। এই অভূতপূর্ব সাড়া পুরোনো রাজনৈতিক ধারার মূলে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমরা আপাতত আর কোনো অনুদান গ্রহণ করছি না।” তিনি বলেন, এখন শুরু হচ্ছে প্রকৃত লড়াই। অধিকাংশ প্রার্থী যেখানে ১০ থেকে ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করবেন, সেখানে অনেকেই মনে করেন টাকা দিয়েই ভোট কেনা যায়। কিন্তু তারা একটি বিষয় ভুলে যান—জনগণের সম্মিলিত শক্তিকে টাকা দিয়ে হারানো যায় না।

ডা. তাসনিম জারা জানান, ঢাকা-৯ আসনে প্রায় পাঁচ লাখ ভোটার রয়েছেন। একজন প্রার্থী হিসেবে দিনে ১২ ঘণ্টা হেঁটে প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে পাঁচ মিনিট করে কথা বললেও সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১১০টি পরিবারে পৌঁছানো সম্ভব।

তিনি বলেন, “পুরো নির্বাচনি সময়েও বড়জোর চার হাজার পরিবারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা যাবে। ফলে কয়েক লাখ পরিবারের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছাবে না।” এই বাস্তবতায় মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছাতে স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. তাসনিম জারা স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা টাকার রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করতে এসেছি। তাই কোনো পেইড কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে না।” তিনি উল্লেখ করেন, অনেকেই ঢাকা-৯ আসনের ভোটার না হলেও তাদের আত্মীয়, বন্ধু, সহকর্মী বা পরিচিতজন এই এলাকায় বসবাস করেন।

“পরিচিত মানুষের একটি ফোন কল বা দুইটি কথা পোস্টার, ব্যানার কিংবা টাকা খরচ করে চালানো প্রচারণার চেয়েও অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, তিনি নিয়ম মেনে কোনো পোস্টার লাগাননি, যেখানে অন্য প্রার্থীরা পোস্টার লাগিয়েছেন। এই অসমতা কাটাতেও সাধারণ মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডা. তাসনিম জারা সমর্থকদের কাছে দুইটি নির্দিষ্ট আহ্বান জানান—সপ্তাহে মাত্র ৪–৮ ঘণ্টা সময় দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার আহ্বান। “আপনার দুটি কথা একটি পেইড বিলবোর্ডের চেয়ে হাজার গুণ শক্তিশালী।” পোলিং এজেন্ট হিসেবে কিংবা নির্বাচনের দিন ভোটারদের সহায়তায় যুক্ত হওয়ার অনুরোধ।

“ভোটের দিন প্রতিটি বুথে আমাদের এমন সাহসী মানুষ প্রয়োজন, যারা অন্যায়ের সামনে মাথা নত করবেন না।” তহবিল ব্যবস্থাপনায় শতভাগ স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি নির্বাচনি তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চারটি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন ডা. তাসনিম জারা— কোনো ক্যাশ ডোনেশন গ্রহণ করা হচ্ছে না।

সব অনুদান একটি নির্দিষ্ট বিকাশ ও একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গ্রহণ করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতায় নিয়ন্ত্রিত। কোন মাধ্যমে কত টাকা এসেছে, তা নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে। সব নথিপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হবে। ব্যক্তিগত লেনদেন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা অ্যাকাউন্ট। নতুন খোলা এই দুইটি অ্যাকাউন্টে শতভাগ অর্থই জনগণের অনুদান। ব্যয়ের খাতভিত্তিক পূর্ণ হিসাব প্রকাশ। সংগৃহীত অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যয় হবে, তা স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।

সর্বাধিক পঠিত

সাভারে তরুণী গণধর্ষণ: দুই আসামি আটক, পলাতক আরও তিনজন

২৯ ঘণ্টায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ, অনুদান বন্ধ করলেন তাসনিম জারা

আপডেট সময়: ০৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারার নির্বাচনি তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে রেকর্ড সময়—মাত্র ২৯ ঘণ্টায়। এ সময়ের মধ্যে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ হওয়ায় আপাতত নতুন করে আর কোনো অনুদান গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানান ডা. তাসনিম জারা।

নিজের পোস্টে ডা. তাসনিম জারা বলেন, “আমাদের ফান্ড রেইজিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪৭ লাখ টাকা আপনারা মাত্র ২৯ ঘণ্টায় পূরণ করে ফেলেছেন। এই অভূতপূর্ব সাড়া পুরোনো রাজনৈতিক ধারার মূলে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমরা আপাতত আর কোনো অনুদান গ্রহণ করছি না।” তিনি বলেন, এখন শুরু হচ্ছে প্রকৃত লড়াই। অধিকাংশ প্রার্থী যেখানে ১০ থেকে ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করবেন, সেখানে অনেকেই মনে করেন টাকা দিয়েই ভোট কেনা যায়। কিন্তু তারা একটি বিষয় ভুলে যান—জনগণের সম্মিলিত শক্তিকে টাকা দিয়ে হারানো যায় না।

ডা. তাসনিম জারা জানান, ঢাকা-৯ আসনে প্রায় পাঁচ লাখ ভোটার রয়েছেন। একজন প্রার্থী হিসেবে দিনে ১২ ঘণ্টা হেঁটে প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে পাঁচ মিনিট করে কথা বললেও সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১১০টি পরিবারে পৌঁছানো সম্ভব।

তিনি বলেন, “পুরো নির্বাচনি সময়েও বড়জোর চার হাজার পরিবারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা যাবে। ফলে কয়েক লাখ পরিবারের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছাবে না।” এই বাস্তবতায় মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছাতে স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. তাসনিম জারা স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা টাকার রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করতে এসেছি। তাই কোনো পেইড কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে না।” তিনি উল্লেখ করেন, অনেকেই ঢাকা-৯ আসনের ভোটার না হলেও তাদের আত্মীয়, বন্ধু, সহকর্মী বা পরিচিতজন এই এলাকায় বসবাস করেন।

“পরিচিত মানুষের একটি ফোন কল বা দুইটি কথা পোস্টার, ব্যানার কিংবা টাকা খরচ করে চালানো প্রচারণার চেয়েও অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, তিনি নিয়ম মেনে কোনো পোস্টার লাগাননি, যেখানে অন্য প্রার্থীরা পোস্টার লাগিয়েছেন। এই অসমতা কাটাতেও সাধারণ মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডা. তাসনিম জারা সমর্থকদের কাছে দুইটি নির্দিষ্ট আহ্বান জানান—সপ্তাহে মাত্র ৪–৮ ঘণ্টা সময় দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার আহ্বান। “আপনার দুটি কথা একটি পেইড বিলবোর্ডের চেয়ে হাজার গুণ শক্তিশালী।” পোলিং এজেন্ট হিসেবে কিংবা নির্বাচনের দিন ভোটারদের সহায়তায় যুক্ত হওয়ার অনুরোধ।

“ভোটের দিন প্রতিটি বুথে আমাদের এমন সাহসী মানুষ প্রয়োজন, যারা অন্যায়ের সামনে মাথা নত করবেন না।” তহবিল ব্যবস্থাপনায় শতভাগ স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি নির্বাচনি তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চারটি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন ডা. তাসনিম জারা— কোনো ক্যাশ ডোনেশন গ্রহণ করা হচ্ছে না।

সব অনুদান একটি নির্দিষ্ট বিকাশ ও একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গ্রহণ করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতায় নিয়ন্ত্রিত। কোন মাধ্যমে কত টাকা এসেছে, তা নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে। সব নথিপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হবে। ব্যক্তিগত লেনদেন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা অ্যাকাউন্ট। নতুন খোলা এই দুইটি অ্যাকাউন্টে শতভাগ অর্থই জনগণের অনুদান। ব্যয়ের খাতভিত্তিক পূর্ণ হিসাব প্রকাশ। সংগৃহীত অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যয় হবে, তা স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।