ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
সাভার সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষের রমরমা: বেঞ্চ সহকারী হেলালকে ঘিরে তোলপাড় সাভারে তরুণী গণধর্ষণ: দুই আসামি আটক, পলাতক আরও তিনজন ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ধামরাইয়ে ৯ মামলার আসামি ছিনতাইকারী গ্রেফতার সাভারের ভাঙচুর মামলায় জামিনে মুক্ত ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম জুয়েল ঢাকা জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, গ্রেফতার ৪ ব্যবসায়ী ধামরাইয়ে অবৈধ সীসা কারখানায় অভিযান, জরিমানা ৫০ হাজার টাকা নিয়ম না মানায় অপপ্রচার: সাভার সাব-রেজিস্ট্রারের অভিযোগ গাঁজাসহ আশুলিয়ায় ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৬ গ্রাম হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
ঠান্ডায় ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের বিকল্প নেই

শীতকালে সুস্থ থাকতে যেসব ভিটামিন অপরিহার্য

শীতকাল আসার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরেও নানা পরিবর্তন দেখা দেয়। ঠান্ডা তাপমাত্রায় ভাইরাসের বংশবিস্তার দ্রুত হয়, ফলে সর্দি-কাশি, জ্বরসহ বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ সময় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন গ্রহণের মাধ্যমে শীতকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক—শীতকালে শরীর সুস্থ রাখতে কোন কোন ভিটামিন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

ভিটামিন ‘এ’: শরীরের প্রথম প্রতিরক্ষা ঢাল
ভিটামিন ‘এ’ শীতকালীন রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রথম স্তর হিসেবে কাজ করে। এটি শ্বাসযন্ত্র ও পাচনতন্ত্রের শ্লেষ্মা ঝিল্লিকে সুস্থ রাখে এবং দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে। ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি হলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

খাদ্য উৎস:
গাজর, পালংশাক, কুমড়া, টমেটো, লাল শাক ও ছোট মাছ।

ভিটামিন ‘সি’: ইমিউন সিস্টেমের শক্তি বাড়ায়
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করতে ভিটামিন ‘সি’-এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। এটি শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বাড়িয়ে শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে।

খাদ্য উৎস:
কাঁচামরিচ, লেবু, কমলা, পেয়ারা, পুদিনাপাতা ও আমলকি।

ভিটামিন ‘ডি’: সূর্যালোকের অভাব পূরণে জরুরি
শীতকালে দিনের সময় কম থাকায় সূর্যের আলো থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়া যায় না। অথচ এই ভিটামিন সর্দি-কাশি ও অন্যান্য সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হাড়ের সুরক্ষার পাশাপাশি এটি ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়।

খাদ্য উৎস:
ডিমের কুসুম, চর্বিযুক্ত মাছ, মাশরুম এবং দুধজাত খাবার।

ভিটামিন ‘ই’: কোষের সুরক্ষা নিশ্চিত করে
ভিটামিন ‘ই’ একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শীতে শরীরের কোষগুলোকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এটি টি-কোষকে সক্রিয় রেখে সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।

খাদ্য উৎস:
বাদাম, উদ্ভিজ্জ তেল, আভোকাডো ও সামুদ্রিক মাছ।

ভিটামিন বি৬ ও বি১২: সংক্রমণের বিরুদ্ধে কার্যকর সহায়ক
ভিটামিন বি৬ ও বি১২ শরীরের জৈব রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া সঠিক রাখতে এবং অ্যান্টিবডি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইউরোপীয় জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন–এ প্রকাশিত ২০০৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন বি৬ গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তির রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

খাদ্য উৎস:
ওটস, দুধ, ডিম, সামুদ্রিক মাছ ও বিভিন্ন ধরনের ডালজাতীয় খাবার।

বিশেষ করে যারা ঘন ঘন ভাইরাল সংক্রমণে আক্রান্ত হন, তাদের জন্য ভিটামিন বি৬ ও বি১২ রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।

উপসংহার
শীতকালে সুস্থ থাকতে ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আলাদা ওষুধের প্রয়োজন নেই—সুষম খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ভিটামিনই যথেষ্ট। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এসব ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার রাখলে শীতকাল কাটবে আরও সুস্থ ও নিরাপদ।

সর্বাধিক পঠিত

সাভার সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষের রমরমা: বেঞ্চ সহকারী হেলালকে ঘিরে তোলপাড়

ঠান্ডায় ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের বিকল্প নেই

শীতকালে সুস্থ থাকতে যেসব ভিটামিন অপরিহার্য

আপডেট সময়: ০২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

শীতকাল আসার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরেও নানা পরিবর্তন দেখা দেয়। ঠান্ডা তাপমাত্রায় ভাইরাসের বংশবিস্তার দ্রুত হয়, ফলে সর্দি-কাশি, জ্বরসহ বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ সময় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন গ্রহণের মাধ্যমে শীতকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক—শীতকালে শরীর সুস্থ রাখতে কোন কোন ভিটামিন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

ভিটামিন ‘এ’: শরীরের প্রথম প্রতিরক্ষা ঢাল
ভিটামিন ‘এ’ শীতকালীন রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রথম স্তর হিসেবে কাজ করে। এটি শ্বাসযন্ত্র ও পাচনতন্ত্রের শ্লেষ্মা ঝিল্লিকে সুস্থ রাখে এবং দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে। ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি হলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

খাদ্য উৎস:
গাজর, পালংশাক, কুমড়া, টমেটো, লাল শাক ও ছোট মাছ।

ভিটামিন ‘সি’: ইমিউন সিস্টেমের শক্তি বাড়ায়
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করতে ভিটামিন ‘সি’-এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। এটি শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বাড়িয়ে শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে।

খাদ্য উৎস:
কাঁচামরিচ, লেবু, কমলা, পেয়ারা, পুদিনাপাতা ও আমলকি।

ভিটামিন ‘ডি’: সূর্যালোকের অভাব পূরণে জরুরি
শীতকালে দিনের সময় কম থাকায় সূর্যের আলো থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়া যায় না। অথচ এই ভিটামিন সর্দি-কাশি ও অন্যান্য সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হাড়ের সুরক্ষার পাশাপাশি এটি ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়।

খাদ্য উৎস:
ডিমের কুসুম, চর্বিযুক্ত মাছ, মাশরুম এবং দুধজাত খাবার।

ভিটামিন ‘ই’: কোষের সুরক্ষা নিশ্চিত করে
ভিটামিন ‘ই’ একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শীতে শরীরের কোষগুলোকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এটি টি-কোষকে সক্রিয় রেখে সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।

খাদ্য উৎস:
বাদাম, উদ্ভিজ্জ তেল, আভোকাডো ও সামুদ্রিক মাছ।

ভিটামিন বি৬ ও বি১২: সংক্রমণের বিরুদ্ধে কার্যকর সহায়ক
ভিটামিন বি৬ ও বি১২ শরীরের জৈব রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া সঠিক রাখতে এবং অ্যান্টিবডি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইউরোপীয় জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন–এ প্রকাশিত ২০০৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন বি৬ গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তির রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

খাদ্য উৎস:
ওটস, দুধ, ডিম, সামুদ্রিক মাছ ও বিভিন্ন ধরনের ডালজাতীয় খাবার।

বিশেষ করে যারা ঘন ঘন ভাইরাল সংক্রমণে আক্রান্ত হন, তাদের জন্য ভিটামিন বি৬ ও বি১২ রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।

উপসংহার
শীতকালে সুস্থ থাকতে ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আলাদা ওষুধের প্রয়োজন নেই—সুষম খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ভিটামিনই যথেষ্ট। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এসব ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার রাখলে শীতকাল কাটবে আরও সুস্থ ও নিরাপদ।