শীতকালে অনেকের শরীরে পানির ঘাটতি দেখা যায়। কারণ এ সময়ে অনেকেই মনে করেন, ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের তেমন পানি দরকার হয় না—যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। শীতে ঘাম কম হওয়ায় তৃষ্ণাও তুলনামূলক কম লাগে, ফলে স্বাভাবিকভাবেই পানি পান কমে যায়। কিন্তু শরীরের ভেতরের সব কার্যক্রম ঠিক রাখতে এই সময়েও পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
পানি মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে সচল রাখতে সহায়তা করে। পানিশূন্যতার কারণে শরীরে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই শীতকাল বলে পানি কম খেলেই চলবে—এমন ভাবনা মোটেও ঠিক নয়। শীতকালেও নিয়মিত ও যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান করা জরুরি বলে জানিয়েছে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।
🩺 কেন শীতকালেও পানির প্রয়োজনীয়তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ
মানবদেহের বড় একটি অংশই পানি দিয়ে গঠিত। হজম প্রক্রিয়া, রক্ত সঞ্চালন, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিকর বর্জ্য বের করে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোতে পানি অপরিহার্য।
শীতে পানি কম পান করলে এসব প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। বিশেষ করে হজমজনিত সমস্যা বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত পানি না পেলে খাবার ঠিকমতো হজম হয় না, যার ফলে— গ্যাস, অম্বল, অ্যাসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য। এর মতো সমস্যা দেখা দেয়। শীতকালে অনেকেই তেল-মশলাযুক্ত ও ভারী খাবার বেশি খান। এ সময় পানি কম পান করলে হজমে শরীরকে অতিরিক্ত চাপ নিতে হয়।
🧴 ত্বক ও শরীরের ওপর পানিশূন্যতার প্রভাব
শীতকালে বাতাস শুষ্ক থাকায় ত্বক এমনিতেই রুক্ষ হয়ে যায়। এর সঙ্গে পানি কম পান করলে ত্বক আরও— শুষ্ক ও খসখসে হয়, প্রাণহীন দেখায়, ঠোঁট ফেটে যায়, ত্বক উঠে আসে, চুল হয়ে পড়ে রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ। এসবই মূলত পানিশূন্যতার লক্ষণ। পাশাপাশি পানি কম পান করলে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়। ফলে শরীরের কোষগুলো পর্যাপ্ত শক্তি পায় না। এর ফল হিসেবে— দ্রুত ক্লান্তি, মাথা ভার লাগা, কাজে মনোযোগ কমে যাওয়া, এর মতো সমস্যা দেখা দেয়।
🚰 শীতকালে দিনে কতটা পানি পান করা প্রয়োজন
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালেও একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে অন্তত ২ থেকে ২.৫ লিটার পানি পান করা উচিত। তবে ব্যক্তির— ওজন, দৈনন্দিন কাজের ধরন, পরিবেশ ও আবহাওয়া। এই বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে পানির পরিমাণ কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। তৃষ্ণা না লাগলেও নির্দিষ্ট সময় পরপর পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
☕ ঠান্ডা পানি না খেলেও সমাধান আছে
শীতকালে অনেকেই ঠান্ডা পানিতে অনীহা অনুভব করেন। সে ক্ষেত্রে হালকা গরম পানি পান করা যেতে পারে। হালকা গরম পানি—হজমে সহায়ক, শরীরের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সক্রিয় রাখে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস হালকা গরম পানি পান করলে শরীর বিষমুক্ত হয় এবং সারাদিন সতেজ থাকা সম্ভব।
🍊 পানির বিকল্প উৎস হিসেবে যেসব খাবার উপকারী
পানি পানের পাশাপাশি শীতকালে পানিসমৃদ্ধ ফল ও সবজি খাওয়াও জরুরি। যেমন—কমলা, আপেল, পেয়ারা, শসা, টমেটো। এসব খাবার শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। তবে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে আলাদাভাবে পর্যাপ্ত পানি পান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শারীরিক সমস্যা বা দীর্ঘদিন পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

লাইফস্টাইল ডেস্ক 













