ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ধামরাইয়ে ৯ মামলার আসামি ছিনতাইকারী গ্রেফতার সাভারের ভাঙচুর মামলায় জামিনে মুক্ত ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম জুয়েল ঢাকা জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, গ্রেফতার ৪ ব্যবসায়ী ধামরাইয়ে অবৈধ সীসা কারখানায় অভিযান, জরিমানা ৫০ হাজার টাকা নিয়ম না মানায় অপপ্রচার: সাভার সাব-রেজিস্ট্রারের অভিযোগ গাঁজাসহ আশুলিয়ায় ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৬ গ্রাম হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সারা দেশে শুরু প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫, প্রথম দিনে বাংলা আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে বিদেশি অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার

দিনাজপুরে খালেদা জিয়ার শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত ‘তৈয়বা ভিলা’

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে দিনাজপুর শহরে। তিনি এই জেলারই মেয়ে। পরিবারে আদর করে তাকে ‘পুতুল’ নামে ডাকা হতো। তার মায়ের নামে নামকরণ করা দিনাজপুর পৌর শহরের বালুবাড়ি এলাকায় অবস্থিত বাড়িটির নাম ‘তৈয়বা ভিলা’। এই বাড়িতেই কেটেছে খালেদা জিয়ার শৈশব ও কিশোরীকাল।

১৯৫৪ সালে খালেদা জিয়া দিনাজপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন। ছাত্রজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় তিনি এই শহরেই কাটান।

বর্তমানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঐতিহাসিক ‘তৈয়বা ভিলা’ ভবনটি এখন ‘ন্যাশনাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ভবনের দ্বিতীয় তলায় বেগম খালেদা জিয়া এবং তার বাবা-মা যে কক্ষে বসবাস করতেন, সেই কক্ষগুলো সংরক্ষিত রয়েছে। কক্ষগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়েছে।

এই সংরক্ষিত কক্ষগুলোর দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন কারিনা বেওয়া নামের এক বৃদ্ধা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়ার বাবা-মার সেবা করেছেন এবং এখনও ঐ কক্ষগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করছেন।

কারিনা বেওয়া বলেন, “আমি অনেক বছর ধরে এখানে দায়িত্বে আছি। খালেদা জিয়াকে এখানে এসে পাইনি, তবে তার বাবা-মাকে পেয়েছি। উনারা খুব ভালো মানুষ ছিলেন এবং আমাকে খুব ভালোবাসতেন। আজও আমি এখানেই আছি। তাদের আত্মীয়-স্বজনরা প্রায়ই এই বাসায় আসেন।”
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি কেউ। তবে আলোচনাকালে শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ৭৮ বছর বয়সী প্রতিবেশী মোস্তা হাসানুর বলেন, “তৈয়বা ভিলাটি পুতুল আপার মায়ের নামে রাখা। আপা আমার চেয়ে দুই-তিন বছরের বড় হবেন। আমাদের বাড়ি পাশাপাশি ছিল। আমি নিয়মিত তাদের বাড়িতে যেতাম। তার বাবা-মা এবং পুতুল আপা আমাকে খুব স্নেহ করতেন। আমি তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।”

খালেদা জিয়ার খালাতো ভাই আবু তাহের আবু বলেন, “আমি আপার চেয়ে অনেক ছোট। জন্মের পর দিনাজপুরে তাকে পাইনি। জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিয়ের পর তিনি এখান থেকে চলে যান। তার মা আমার মায়ের ছোট বোন। তার বাবা-মা আমাকে খুব আদর-যত্ন করতেন। আমরা তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত।” দিনাজপুরের এই ‘তৈয়বা ভিলা’ শুধু একটি বাড়ি নয়—এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন।

সর্বাধিক পঠিত

ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

দিনাজপুরে খালেদা জিয়ার শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত ‘তৈয়বা ভিলা’

আপডেট সময়: ১২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে দিনাজপুর শহরে। তিনি এই জেলারই মেয়ে। পরিবারে আদর করে তাকে ‘পুতুল’ নামে ডাকা হতো। তার মায়ের নামে নামকরণ করা দিনাজপুর পৌর শহরের বালুবাড়ি এলাকায় অবস্থিত বাড়িটির নাম ‘তৈয়বা ভিলা’। এই বাড়িতেই কেটেছে খালেদা জিয়ার শৈশব ও কিশোরীকাল।

১৯৫৪ সালে খালেদা জিয়া দিনাজপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন। ছাত্রজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় তিনি এই শহরেই কাটান।

বর্তমানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঐতিহাসিক ‘তৈয়বা ভিলা’ ভবনটি এখন ‘ন্যাশনাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ভবনের দ্বিতীয় তলায় বেগম খালেদা জিয়া এবং তার বাবা-মা যে কক্ষে বসবাস করতেন, সেই কক্ষগুলো সংরক্ষিত রয়েছে। কক্ষগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়েছে।

এই সংরক্ষিত কক্ষগুলোর দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন কারিনা বেওয়া নামের এক বৃদ্ধা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়ার বাবা-মার সেবা করেছেন এবং এখনও ঐ কক্ষগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করছেন।

কারিনা বেওয়া বলেন, “আমি অনেক বছর ধরে এখানে দায়িত্বে আছি। খালেদা জিয়াকে এখানে এসে পাইনি, তবে তার বাবা-মাকে পেয়েছি। উনারা খুব ভালো মানুষ ছিলেন এবং আমাকে খুব ভালোবাসতেন। আজও আমি এখানেই আছি। তাদের আত্মীয়-স্বজনরা প্রায়ই এই বাসায় আসেন।”
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি কেউ। তবে আলোচনাকালে শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ৭৮ বছর বয়সী প্রতিবেশী মোস্তা হাসানুর বলেন, “তৈয়বা ভিলাটি পুতুল আপার মায়ের নামে রাখা। আপা আমার চেয়ে দুই-তিন বছরের বড় হবেন। আমাদের বাড়ি পাশাপাশি ছিল। আমি নিয়মিত তাদের বাড়িতে যেতাম। তার বাবা-মা এবং পুতুল আপা আমাকে খুব স্নেহ করতেন। আমি তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।”

খালেদা জিয়ার খালাতো ভাই আবু তাহের আবু বলেন, “আমি আপার চেয়ে অনেক ছোট। জন্মের পর দিনাজপুরে তাকে পাইনি। জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিয়ের পর তিনি এখান থেকে চলে যান। তার মা আমার মায়ের ছোট বোন। তার বাবা-মা আমাকে খুব আদর-যত্ন করতেন। আমরা তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত।” দিনাজপুরের এই ‘তৈয়বা ভিলা’ শুধু একটি বাড়ি নয়—এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন।