ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
সাভার সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষের রমরমা: বেঞ্চ সহকারী হেলালকে ঘিরে তোলপাড় সাভারে তরুণী গণধর্ষণ: দুই আসামি আটক, পলাতক আরও তিনজন ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ধামরাইয়ে ৯ মামলার আসামি ছিনতাইকারী গ্রেফতার সাভারের ভাঙচুর মামলায় জামিনে মুক্ত ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম জুয়েল ঢাকা জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, গ্রেফতার ৪ ব্যবসায়ী ধামরাইয়ে অবৈধ সীসা কারখানায় অভিযান, জরিমানা ৫০ হাজার টাকা নিয়ম না মানায় অপপ্রচার: সাভার সাব-রেজিস্ট্রারের অভিযোগ গাঁজাসহ আশুলিয়ায় ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৬ গ্রাম হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীর আকস্মিক ঘোষণায় রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য

কেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিএনপি প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তার এ ঘোষণায় স্থানীয় রাজনীতি ও দলীয় অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর শহর ও বন্দরের মানুষের কাছ থেকে তিনি অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছেন। সাধারণ মানুষ আশাবাদী ছিল, তাদের দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে যাচ্ছে। তবে এমন একটি ঘোষণা দিতে হচ্ছে, যা অনেককে হতাশ করবে এবং অনেক হৃদয় ভেঙে দেবে—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নেবেন না এবং মনোনয়ন ফরমও কিনবেন না।

নিজের সিদ্ধান্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দরবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে মাসুদ বলেন, “আমি জানি, এই সিদ্ধান্তে আপনাদের কষ্ট হচ্ছে। আপনাদের স্বপ্নের জায়গাটা নষ্ট হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত আমার জন্য সহজ ছিল না।”

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পেছনে দুটি কারণ তুলে ধরেন তিনি। প্রথমত, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা এবং দ্বিতীয়ত, পরিবারের সদস্যদের অনিচ্ছা। তিনি বলেন, প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। ঢাকায় শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনার পর সেই উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। পরিবারের অনুরোধেই শেষ পর্যন্ত তিনি ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

মাসুদুজ্জামান মাসুদ আরও বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে তাকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে একজন সমাজকর্মী হিসেবে আজীবন নারায়ণগঞ্জবাসীর পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি জানান, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়টি জানাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। তাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমেই প্রথম বিষয়টি প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে দলকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আজকের এই মতবিনিময় সভা আমার জীবনের অন্য যেকোনো অনুষ্ঠানের চেয়ে ভিন্ন। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করব।”

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে বিএনপিতে যোগ দেন মডেল ডি ক্যাপিটাল গ্রুপের মালিক ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ। বিএনপিতে যোগ দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলের মনোনয়ন পান। যদিও এর আগেও তিনি বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দীর্ঘদিন ধরে ওসমান পরিবারের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। শামীম ওসমানের ভাই নাসিম ওসমান একাধিকবার এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এমন প্রেক্ষাপটে মাসুদুজ্জামান মাসুদের প্রার্থিতা ও পরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

সাভার সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষের রমরমা: বেঞ্চ সহকারী হেলালকে ঘিরে তোলপাড়

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীর আকস্মিক ঘোষণায় রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য

কেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিএনপি প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ

আপডেট সময়: ০৬:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তার এ ঘোষণায় স্থানীয় রাজনীতি ও দলীয় অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর শহর ও বন্দরের মানুষের কাছ থেকে তিনি অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছেন। সাধারণ মানুষ আশাবাদী ছিল, তাদের দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে যাচ্ছে। তবে এমন একটি ঘোষণা দিতে হচ্ছে, যা অনেককে হতাশ করবে এবং অনেক হৃদয় ভেঙে দেবে—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নেবেন না এবং মনোনয়ন ফরমও কিনবেন না।

নিজের সিদ্ধান্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দরবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে মাসুদ বলেন, “আমি জানি, এই সিদ্ধান্তে আপনাদের কষ্ট হচ্ছে। আপনাদের স্বপ্নের জায়গাটা নষ্ট হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত আমার জন্য সহজ ছিল না।”

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পেছনে দুটি কারণ তুলে ধরেন তিনি। প্রথমত, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা এবং দ্বিতীয়ত, পরিবারের সদস্যদের অনিচ্ছা। তিনি বলেন, প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। ঢাকায় শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনার পর সেই উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। পরিবারের অনুরোধেই শেষ পর্যন্ত তিনি ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

মাসুদুজ্জামান মাসুদ আরও বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে তাকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে একজন সমাজকর্মী হিসেবে আজীবন নারায়ণগঞ্জবাসীর পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি জানান, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়টি জানাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। তাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমেই প্রথম বিষয়টি প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে দলকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আজকের এই মতবিনিময় সভা আমার জীবনের অন্য যেকোনো অনুষ্ঠানের চেয়ে ভিন্ন। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করব।”

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে বিএনপিতে যোগ দেন মডেল ডি ক্যাপিটাল গ্রুপের মালিক ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ। বিএনপিতে যোগ দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলের মনোনয়ন পান। যদিও এর আগেও তিনি বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দীর্ঘদিন ধরে ওসমান পরিবারের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। শামীম ওসমানের ভাই নাসিম ওসমান একাধিকবার এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এমন প্রেক্ষাপটে মাসুদুজ্জামান মাসুদের প্রার্থিতা ও পরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।