ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
সাভার-আশুলিয়ায় ইয়াবা-হেরোইনসহ ৬ জন গ্রেপ্তার আশুলিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪ পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে সহায়তা সৌদি আরবের উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির আশা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়তে বিশ্বনেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ধামরাইয়ে ৪৫ পিস ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার কোন নামাজে কী আমল করতে হয় ও কীভাবে—সহজ গাইড ৫ ওয়াক্ত নামাজ কীভাবে ফরজ হলো, সহিহ ও শুদ্ধভাবে নামাজ পড়ার নিয়ম সাভার-ধামরাইয়ে ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা-হেরোইনসহ ৬ জন গ্রেপ্তার এবার নিজের যে দুর্বলতার কথা স্বীকার করলেন রাশমিকা বিগ বসে কেন গিয়েছিলেন নোরা ফতেহি? ফাঁস করলেন অজানা গল্প
জামায়াতের সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনূভা জাবীন

ডা. তাজনূভা জাবীন। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনূভা জাবীন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে শনিবার দলটির আরেক শীর্ষ নেতা ডা. তাসনিম জারা সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

জামায়াতের সঙ্গে জোটের ‘প্রক্রিয়া’ নিয়ে আপত্তি
ফেসবুক পোস্টে ডা. তাজনূভা জাবীন জানান, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোটের সিদ্ধান্তে নয়, বরং যে প্রক্রিয়ায় এই জোট হয়েছে—সেটিই তার পদত্যাগের মূল কারণ। তিনি লেখেন, এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক কৌশল বা নির্বাচনি সমঝোতা বলা হলেও বাস্তবে এটি ছিল পরিকল্পিত ও সাজানো প্রক্রিয়া। মনোনয়ন সংগ্রহের ডাক দিয়ে ১২৫ জনকে মনোনয়ন দেওয়ার পর মাত্র ৩০টি আসনে সমঝোতা করে বাকিদের নির্বাচন থেকে কার্যত বাইরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ডা. তাজনূভা জাবীনের ভাষায়, “এটা আদর্শের চেয়েও বড়—এটা বিশ্বাসের জায়গা।” তিনি বলেন, দলীয় কোনো সাধারণ সভা বা নির্বাচন কমিশন বৈঠকে জোট হলে অন্য আসনের প্রার্থীদের বসে যেতে হবে—এমন সিদ্ধান্ত হয়নি। অথচ বাস্তবে প্রার্থীদের নির্বাচন করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

নিজেকে এনসিপির একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য উল্লেখ করে তিনি লেখেন, এনসিপি যে মধ্যপন্থী, নারী ও জাতিগত বৈচিত্র্যভিত্তিক রাজনীতির কথা বলেছিল, সেই রাজনীতির প্রতিনিধিত্বকারী লোকজনই আজ দল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। তার অভিযোগ, শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও ‘মাইনাসের রাজনীতি’ এনসিপিকে একটি নতুন ধারার রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে ওঠার পথ থেকে সরিয়ে দিচ্ছে।

জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন,
“নিজস্ব স্বকীয়তা প্রতিষ্ঠা না করেই প্রথম নির্বাচনে কেন এমন জোট?” তিনি বলেন, পাঁচ বছর পর শক্ত অবস্থান তৈরি করে জোট করা যেত, কিন্তু পরিকল্পিতভাবে অন্য সব রাজনৈতিক বিকল্প বাদ দিয়ে সবাইকে একটি জোটে জিম্মি করা হয়েছে।

ডা. তাজনূভা জাবীন জানান, তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। ভেঙে পড়া মন নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচনের জন্য পাওয়া সব অনুদান পর্যায়ক্রমে ফেরত দেওয়া হবে।

শেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি আগে কখনো রাজনীতি করিনি। জুলাইয়ে রাজপথে নেমেছিলাম পরিবর্তনের আশায়। সেই চেষ্টা আমি আজীবন চালিয়ে যাব।” মধ্যপন্থী ও বাংলাদেশপন্থী ‘নয়া বন্দোবস্তের রাজনীতি’ বাস্তবায়নের জায়গা এখনও শূন্য বলে মন্তব্য করে তিনি জানান, সেই শূন্যতা পূরণের চেষ্টায় তিনি সক্রিয় থাকবেন।

সাভার-আশুলিয়ায় ইয়াবা-হেরোইনসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

জামায়াতের সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনূভা জাবীন

আপডেট সময়: ০১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনূভা জাবীন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে শনিবার দলটির আরেক শীর্ষ নেতা ডা. তাসনিম জারা সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

জামায়াতের সঙ্গে জোটের ‘প্রক্রিয়া’ নিয়ে আপত্তি
ফেসবুক পোস্টে ডা. তাজনূভা জাবীন জানান, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোটের সিদ্ধান্তে নয়, বরং যে প্রক্রিয়ায় এই জোট হয়েছে—সেটিই তার পদত্যাগের মূল কারণ। তিনি লেখেন, এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক কৌশল বা নির্বাচনি সমঝোতা বলা হলেও বাস্তবে এটি ছিল পরিকল্পিত ও সাজানো প্রক্রিয়া। মনোনয়ন সংগ্রহের ডাক দিয়ে ১২৫ জনকে মনোনয়ন দেওয়ার পর মাত্র ৩০টি আসনে সমঝোতা করে বাকিদের নির্বাচন থেকে কার্যত বাইরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ডা. তাজনূভা জাবীনের ভাষায়, “এটা আদর্শের চেয়েও বড়—এটা বিশ্বাসের জায়গা।” তিনি বলেন, দলীয় কোনো সাধারণ সভা বা নির্বাচন কমিশন বৈঠকে জোট হলে অন্য আসনের প্রার্থীদের বসে যেতে হবে—এমন সিদ্ধান্ত হয়নি। অথচ বাস্তবে প্রার্থীদের নির্বাচন করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

নিজেকে এনসিপির একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য উল্লেখ করে তিনি লেখেন, এনসিপি যে মধ্যপন্থী, নারী ও জাতিগত বৈচিত্র্যভিত্তিক রাজনীতির কথা বলেছিল, সেই রাজনীতির প্রতিনিধিত্বকারী লোকজনই আজ দল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। তার অভিযোগ, শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও ‘মাইনাসের রাজনীতি’ এনসিপিকে একটি নতুন ধারার রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে ওঠার পথ থেকে সরিয়ে দিচ্ছে।

জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন,
“নিজস্ব স্বকীয়তা প্রতিষ্ঠা না করেই প্রথম নির্বাচনে কেন এমন জোট?” তিনি বলেন, পাঁচ বছর পর শক্ত অবস্থান তৈরি করে জোট করা যেত, কিন্তু পরিকল্পিতভাবে অন্য সব রাজনৈতিক বিকল্প বাদ দিয়ে সবাইকে একটি জোটে জিম্মি করা হয়েছে।

✒️ আরও পড়ুন 📖  হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

ডা. তাজনূভা জাবীন জানান, তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। ভেঙে পড়া মন নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচনের জন্য পাওয়া সব অনুদান পর্যায়ক্রমে ফেরত দেওয়া হবে।

শেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি আগে কখনো রাজনীতি করিনি। জুলাইয়ে রাজপথে নেমেছিলাম পরিবর্তনের আশায়। সেই চেষ্টা আমি আজীবন চালিয়ে যাব।” মধ্যপন্থী ও বাংলাদেশপন্থী ‘নয়া বন্দোবস্তের রাজনীতি’ বাস্তবায়নের জায়গা এখনও শূন্য বলে মন্তব্য করে তিনি জানান, সেই শূন্যতা পূরণের চেষ্টায় তিনি সক্রিয় থাকবেন।