সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালে ঢাকা মহানগরে আতশবাজি ফোটানো, ডিজে পার্টি আয়োজন এবং ফানুস ওড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তবে সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করেই গত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আতশবাজি ফোটানোর ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার তানজিদ হাসান তামিম, প্রান্তিক নওরোজ নাবিল, লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবসহ ক্রীড়াঙ্গনের আরও অনেকে।
থার্টিফার্স্ট নাইট বা বিদায়ী বছরের শেষ রাত উদযাপনকে কেন্দ্র করে আতশবাজি ফোটানোর পরিণতি দীর্ঘদিন ধরেই ভোগ করছে রাজধানী ঢাকা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আতশবাজি থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড, অতিরিক্ত শব্দদূষণের কারণে শিশু ও বয়স্কদের অসুস্থতা এমনকি মৃত্যুর খবরও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। এ ছাড়া গভীর রাতে শব্দের কারণে দিকভ্রান্ত হয়ে পাখিদের উড়ে বেড়ানোর দৃশ্যও বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবার থার্টিফার্স্ট নাইটকে সামনে রেখে একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রান্তিক নওরোজ নাবিল। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন— “আপনার ১০ সেকেন্ডের আনন্দ যেন কারো কান্নার কারণ না হয়। গত বছরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোর পরও যদি এ বছর আপনি আতশবাজি, বোমা ইত্যাদি ফোটান; তাহলে সেটাকে আর মানবিক আচরণ বলা যায় না। নতুন বছর শুরু হোক কাছের মানুষদের সঙ্গে শান্তভাবে। আজ দেশের আকাশ হোক শব্দহীন।”
তবে এসব আহ্বান উপেক্ষা করেই আতশবাজি ফোটানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তামিম ইকবাল। তিনি বলেন— “দেশে এখন রাষ্ট্রীয় শোক চলছে। সরকার থেকেও নিষেধ করা হয়েছে আতশবাজি ও পটকা না ফোটাতে। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখলাম, এবারও চারপাশ পটকার শব্দে কেঁপে উঠছে।” তিনি আরও বলেন— “সবার প্রতি আকুল আবেদন—দয়া করে এসব থেকে বিরত থাকুন। মানুষকে স্বস্তি দিন। রাষ্ট্রীয় শোকের প্রতি অনুগত থাকুন। এমন একজন কীর্তিমান মানুষকে আমরা হারিয়েছি, তাঁর প্রতি অন্তত সম্মান জানান।”
অন্যদিকে তানজিদ হাসান তামিম বিষয়টিকে দেখেছেন নৈতিক দায়বদ্ধতার দৃষ্টিকোণ থেকে। ফেসবুকে তিনি লেখেন— “আমরা পাখি ভালোবাসার কথা বলি, অথচ নিজেরাই তাদের ভয় পাইয়ে দিই। আমরা নির্মল বাতাস চাই, আবার নিজের হাতেই তা দূষিত করি। শব্দদূষণের কারণে হাসপাতালে কষ্ট পাওয়া রোগীদের কথাও আমরা ভুলে যাই। আল্লাহ যেন আমাদের আরও ভালো মানুষ হয়ে ওঠার সুযোগ দেন।”
লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব খানিকটা ক্ষোভের সুরে লিখেছেন— “বেগম খালেদা জিয়ার কথা ভুলে গেলেন? শহীদ ওসমান হাদীর কথা ভুলে গেলেন? কয়দিন আগে যে ভূমিকম্প হলো সেটাও ভুলে গেলেন? আবার বলেন—আল্লাহ গজব দিও না।” রাষ্ট্রীয় শোকের সময়ে এমন নিষেধাজ্ঞা অমান্য এবং তারকাদের প্রকাশ্য সমালোচনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে নাগরিক দায়িত্ববোধ ও সামাজিক সচেতনতা নিয়ে।

অনলাইন ডেস্ক 







