ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
সাভার সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষের রমরমা: বেঞ্চ সহকারী হেলালকে ঘিরে তোলপাড় সাভারে তরুণী গণধর্ষণ: দুই আসামি আটক, পলাতক আরও তিনজন ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ধামরাইয়ে ৯ মামলার আসামি ছিনতাইকারী গ্রেফতার সাভারের ভাঙচুর মামলায় জামিনে মুক্ত ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম জুয়েল ঢাকা জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, গ্রেফতার ৪ ব্যবসায়ী ধামরাইয়ে অবৈধ সীসা কারখানায় অভিযান, জরিমানা ৫০ হাজার টাকা নিয়ম না মানায় অপপ্রচার: সাভার সাব-রেজিস্ট্রারের অভিযোগ গাঁজাসহ আশুলিয়ায় ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৬ গ্রাম হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
রিউমর স্ক্যানারের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র—শোবিজ অঙ্গনের নারীরাই সবচেয়ে বেশি টার্গেট। এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহারে বাড়ছে নারী হেনস্তা ও অপতথ্যের মাত্রা।

রিউমর স্ক্যানার: গুজবের শিকার নারীরাই বেশি

বাংলাদেশে অপতথ্য ও গুজবের তীর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারীদের লক্ষ্য করেই ছোড়া হয়। বিষয়টি এখন কেবল সামাজিক নয়, ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্যও একটি বড় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।

রিউমর স্ক্যানারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশে যত গুজব, অপপ্রচার ও অপতথ্য ছড়িয়েছে তার ২১ শতাংশই নারীদের ঘিরে। এ সময়ে ২৭৬ জন নারীকে নিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক অপতথ্য ও ভুয়া কনটেন্ট ছড়ানো হয়েছে।

🎭 শোবিজ অঙ্গনের নারীরাই সবচেয়ে বেশি টার্গেট
প্রতিষ্ঠানটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব অপতথ্যের শিকার হয়েছেন রাজনীতি, বিনোদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের নারী। তবে শোবিজ অঙ্গনের নারীদের নিয়েই সবচেয়ে বেশি গুজব ও ভুয়া কনটেন্ট ছড়ানো হয়েছে।

এই কনটেন্টগুলোর মধ্যে ভুয়া ভিডিও, এআই-নির্ভর ডিপফেক ছবি, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ উপস্থাপন ও এমনকি মৃত্যুর গুজবও রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে এসব কনটেন্ট ভাইরাল হয়ে নারী শিল্পীদের সম্মানহানির পাশাপাশি মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতায় ফেলছে।

রিউমর স্ক্যানারের হিসাবে, চলতি বছরের নয় মাসে শোবিজের ২৯ নারীকে জড়িয়ে ৬৮টি গুজব ছড়ানো হয়েছে, যার মধ্যে ৫০টি কনটেন্টে ব্যবহার হয়েছে এআই বা ডিজিটাল প্রযুক্তি।

🎬 টার্গেটে তিশা, সাদিয়া, বাঁধনসহ অনেকেই
অপতথ্য ও ডিপফেকের শিকার হওয়া নারী শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন—নুসরাত ইমরোজ তিশা, সাদিয়া আয়মান, আজমেরী হক বাঁধন, প্রার্থনা ফারদিন দীঘি, তানজিম সাইয়ারা তটিনী, বিদ্যা সিনহা সাহা মিম, তাসনিয়া ফারিণ, মাহিয়া মাহি, শবনম বুবলী, অপু বিশ্বাস, নাজনীন নাহার নিহা, রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা, মেহজাবীন চৌধুরী, শবনম ফারিয়াসহ আরও অনেকে।

এসব ঘটনায় প্রায় ৩৬টি ভুয়া কনটেন্টে ভারতীয় নারীর ভিডিও ব্যবহার করে তা বাংলাদেশের শিল্পীদের নামে প্রচার করা হয়েছে। দর্শকরা অনেক সময় এসবকে সত্য ভেবে ভাইরাল করেছেন, যা শিল্পীদের জন্য চরম বিব্রতকর ও ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

🗣️ সাদিয়া আয়মানের অভিজ্ঞতা
চলতি বছর সবচেয়ে বেশি অপতথ্যের শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। তাকে ঘিরে প্রচারিত ১১টি ভুয়া কনটেন্টের মধ্যে ১০টিই ছিল এআই-নির্ভর।

তিনি বলেন, “যারা এই কাজ করছে তারা ভয়াবহ অপরাধ করছে। আমি মনে করি, একা নয়—এই সমস্যায় যারা পড়ছেন, সবাইকে একজোট হয়ে সমাধানের পথ বের করতে হবে।”

জুলাই আন্দোলনের সময় সরব থাকার পর থেকেই তাকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে মনে করেন সাদিয়া।

“আমি রাজনীতির জন্য নয়, ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছি। আন্দোলনের পরে বুঝতে পারছি, এআই ব্যবহার করে আমাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে টার্গেট করা হচ্ছে,” — যোগ করেন তিনি।

💬 অভিনেত্রীদের ক্ষোভ ও দাবি
অভিনেত্রী নাজনীন নাহার নিহাশবনম ফারিয়া একাধিকবার ডিপফেক কনটেন্টের শিকার হয়েছেন। ফারিয়া বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখিয়েছেন।

অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, “প্রযুক্তি যেমন আশীর্বাদ, তেমনি অপব্যবহারে তা অভিশাপ। বিকৃত ছবি বা ভিডিও তৈরি করা কেবল অনৈতিক নয়, এটি ফৌজদারি অপরাধও। আমাদের দরকার কঠোর আইন, শক্ত প্রতিরোধ আর জনসচেতনতা।”

⚠️ গুজব ছড়ানোর পেছনে সক্রিয় পেইজ
রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘চলো বদলে যাই’ নামের একটি ফেসবুক পেইজ থেকেই শিল্পীদের এসব ভুয়া ছবি ও ভিডিও সবচেয়ে বেশি ভাইরাল করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি পেইজ নিয়মিতভাবে একই অপরাধে জড়িত।

👮 আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ
বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, কারও অনুমতি ছাড়া আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও তৈরি ও প্রচার করা ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩’-এর অধীনে দণ্ডনীয় অপরাধ।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানাতে পারেন —

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে,

ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগে, অথবা

পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন প্ল্যাটফর্মে।

🚨 বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির উৎকর্ষ যেমন সমাজকে এগিয়ে নিচ্ছে, তেমনি এর অপব্যবহারে ভয়াবহ সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে, এর বিরূপ প্রভাব পড়বে পুরো বিনোদন শিল্পে ও নারীদের ডিজিটাল নিরাপত্তায়।

সর্বাধিক পঠিত

সাভার সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষের রমরমা: বেঞ্চ সহকারী হেলালকে ঘিরে তোলপাড়

রিউমর স্ক্যানারের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র—শোবিজ অঙ্গনের নারীরাই সবচেয়ে বেশি টার্গেট। এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহারে বাড়ছে নারী হেনস্তা ও অপতথ্যের মাত্রা।

রিউমর স্ক্যানার: গুজবের শিকার নারীরাই বেশি

আপডেট সময়: ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশে অপতথ্য ও গুজবের তীর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারীদের লক্ষ্য করেই ছোড়া হয়। বিষয়টি এখন কেবল সামাজিক নয়, ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্যও একটি বড় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।

রিউমর স্ক্যানারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশে যত গুজব, অপপ্রচার ও অপতথ্য ছড়িয়েছে তার ২১ শতাংশই নারীদের ঘিরে। এ সময়ে ২৭৬ জন নারীকে নিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক অপতথ্য ও ভুয়া কনটেন্ট ছড়ানো হয়েছে।

🎭 শোবিজ অঙ্গনের নারীরাই সবচেয়ে বেশি টার্গেট
প্রতিষ্ঠানটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব অপতথ্যের শিকার হয়েছেন রাজনীতি, বিনোদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের নারী। তবে শোবিজ অঙ্গনের নারীদের নিয়েই সবচেয়ে বেশি গুজব ও ভুয়া কনটেন্ট ছড়ানো হয়েছে।

এই কনটেন্টগুলোর মধ্যে ভুয়া ভিডিও, এআই-নির্ভর ডিপফেক ছবি, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ উপস্থাপন ও এমনকি মৃত্যুর গুজবও রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে এসব কনটেন্ট ভাইরাল হয়ে নারী শিল্পীদের সম্মানহানির পাশাপাশি মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতায় ফেলছে।

রিউমর স্ক্যানারের হিসাবে, চলতি বছরের নয় মাসে শোবিজের ২৯ নারীকে জড়িয়ে ৬৮টি গুজব ছড়ানো হয়েছে, যার মধ্যে ৫০টি কনটেন্টে ব্যবহার হয়েছে এআই বা ডিজিটাল প্রযুক্তি।

🎬 টার্গেটে তিশা, সাদিয়া, বাঁধনসহ অনেকেই
অপতথ্য ও ডিপফেকের শিকার হওয়া নারী শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন—নুসরাত ইমরোজ তিশা, সাদিয়া আয়মান, আজমেরী হক বাঁধন, প্রার্থনা ফারদিন দীঘি, তানজিম সাইয়ারা তটিনী, বিদ্যা সিনহা সাহা মিম, তাসনিয়া ফারিণ, মাহিয়া মাহি, শবনম বুবলী, অপু বিশ্বাস, নাজনীন নাহার নিহা, রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা, মেহজাবীন চৌধুরী, শবনম ফারিয়াসহ আরও অনেকে।

এসব ঘটনায় প্রায় ৩৬টি ভুয়া কনটেন্টে ভারতীয় নারীর ভিডিও ব্যবহার করে তা বাংলাদেশের শিল্পীদের নামে প্রচার করা হয়েছে। দর্শকরা অনেক সময় এসবকে সত্য ভেবে ভাইরাল করেছেন, যা শিল্পীদের জন্য চরম বিব্রতকর ও ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

🗣️ সাদিয়া আয়মানের অভিজ্ঞতা
চলতি বছর সবচেয়ে বেশি অপতথ্যের শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। তাকে ঘিরে প্রচারিত ১১টি ভুয়া কনটেন্টের মধ্যে ১০টিই ছিল এআই-নির্ভর।

তিনি বলেন, “যারা এই কাজ করছে তারা ভয়াবহ অপরাধ করছে। আমি মনে করি, একা নয়—এই সমস্যায় যারা পড়ছেন, সবাইকে একজোট হয়ে সমাধানের পথ বের করতে হবে।”

জুলাই আন্দোলনের সময় সরব থাকার পর থেকেই তাকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে মনে করেন সাদিয়া।

“আমি রাজনীতির জন্য নয়, ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছি। আন্দোলনের পরে বুঝতে পারছি, এআই ব্যবহার করে আমাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে টার্গেট করা হচ্ছে,” — যোগ করেন তিনি।

💬 অভিনেত্রীদের ক্ষোভ ও দাবি
অভিনেত্রী নাজনীন নাহার নিহাশবনম ফারিয়া একাধিকবার ডিপফেক কনটেন্টের শিকার হয়েছেন। ফারিয়া বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখিয়েছেন।

অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, “প্রযুক্তি যেমন আশীর্বাদ, তেমনি অপব্যবহারে তা অভিশাপ। বিকৃত ছবি বা ভিডিও তৈরি করা কেবল অনৈতিক নয়, এটি ফৌজদারি অপরাধও। আমাদের দরকার কঠোর আইন, শক্ত প্রতিরোধ আর জনসচেতনতা।”

⚠️ গুজব ছড়ানোর পেছনে সক্রিয় পেইজ
রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘চলো বদলে যাই’ নামের একটি ফেসবুক পেইজ থেকেই শিল্পীদের এসব ভুয়া ছবি ও ভিডিও সবচেয়ে বেশি ভাইরাল করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি পেইজ নিয়মিতভাবে একই অপরাধে জড়িত।

👮 আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ
বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, কারও অনুমতি ছাড়া আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও তৈরি ও প্রচার করা ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩’-এর অধীনে দণ্ডনীয় অপরাধ।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানাতে পারেন —

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে,

ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগে, অথবা

পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন প্ল্যাটফর্মে।

🚨 বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির উৎকর্ষ যেমন সমাজকে এগিয়ে নিচ্ছে, তেমনি এর অপব্যবহারে ভয়াবহ সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে, এর বিরূপ প্রভাব পড়বে পুরো বিনোদন শিল্পে ও নারীদের ডিজিটাল নিরাপত্তায়।