দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে নিবন্ধিত চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রোগীদের নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নির্ধারিত সংখ্যক চিকিৎসককে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি ও আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিভিল সার্জনদের।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে প্রতি শিফটে ন্যূনতম পাঁচজন মেডিকেল অফিসার উপস্থিত থাকতে হবে। অর্থাৎ, প্রতি ১০টি শয্যার বিপরীতে অন্তত একজন মেডিকেল অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতে, চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত উপস্থিতি নিশ্চিত হলে জরুরি ও নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর হবে এবং রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণে ভোগান্তি কমবে।
নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশের সব সিভিল সার্জনকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—প্রতি মাসে জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ করা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কর্মরত চিকিৎসকদের নাম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) নিবন্ধন নম্বর এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা, প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা এবং নিয়মিত ও আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা।
এ ছাড়া নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নির্ধারিত সংখ্যক চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলে অথবা কর্তৃপক্ষ ভুয়া, বিভ্রান্তিকর কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করতে হবে। এর মাধ্যমে কেবল কাগজে-কলমে চিকিৎসকের নাম দেখিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা কিংবা চিকিৎসক সংকট আড়াল করার সুযোগ থাকবে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, জেলা পর্যায়ে পরিচালিত মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়ন করা হবে।
জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার পর জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিবন্ধিত চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, কাগজে-কলমে চিকিৎসক দেখিয়ে সেবা পরিচালনা এবং জনবল সংকটের অভিযোগ ছিল। নতুন এই নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে এসব অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে।
স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিবন্ধিত চিকিৎসক উপস্থিত থাকলে রোগীরা দ্রুত চিকিৎসা পাবেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজ হবে এবং চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনলাইন ডেস্ক 











