বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক ডাকসু ভিপি আমান উল্লাহ আমান এমপি বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের মর্যাদা রক্ষা করাই তার প্রধান দায়িত্ব। জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করে মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনের পাশাপাশি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে ঢাকার সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের পানপাড়া লোকনাথ মন্দিরে ঘাটলা নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমান উল্লাহ আমান বলেন, “আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। আমি আপনাদের মর্যাদা রক্ষা করব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন— আমরা জনগণের সেবক। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী জনগণের সেবা করেই আমরা মানুষের মন জয় করতে চাই এবং সবসময় জনগণের পাশে থাকতে চাই।”
তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, শান্তি ও সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। দেশের প্রতিটি ধর্মের মানুষ যেন সমান মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে দল কাজ করবে।
বক্তব্যে তিনি অন্যায়, জুলুম, অত্যাচার, ভূমিদস্যুতা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, সমাজে যারা মানুষের জমি দখল করে, চাঁদাবাজি করে কিংবা সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালায়, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে।
মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে আমান উল্লাহ আমান বলেন, মাদক একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। মাদকাসক্ত ব্যক্তি নিজের বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান এমনকি সমাজের জন্যও হুমকিতে পরিণত হয়। মাদকের কারণে পারিবারিক কলহ, সহিংসতা, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পায়। একটি পরিবার ধ্বংস হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পুরো রাষ্ট্রের ওপর পড়ে।
তিনি বলেন, “কেউ মাদক সেবন করতে পারবে না, মাদক বিক্রিও করতে পারবে না। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী কখনোই চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু কিংবা মাদক ব্যবসায়ীদের ক্ষমা করবেন না।”
বিএনপিতে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুদের কোনো স্থান নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, তেঁতুলঝোড়াসহ আশপাশের কোনো এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক কিংবা দখলবাজি চলতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে এসব অপকর্মে জড়িত থাকে, তাহলে তাকেই সবার আগে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “ভূমিদস্যুদের বিএনপিতে কোনো জায়গা নেই। ইতোমধ্যে এই এলাকার একজনের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ এসেছে। তাকে আমরা দল থেকে দূরে রেখেছি। আমি সবার সামনে স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দখল করা জমি ফেরত না দিলে কোনো বিচার-শালিস হবে না; সরাসরি পুলিশ গ্রেপ্তার করবে।”
মাদকবিরোধী কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তেঁতুলঝোড়া, ভাকুর্তা, আমিনবাজারসহ কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
তিনি স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে বলেন, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপদ সমাজ গঠনে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. আব্দুল আজিজের সঞ্চালনায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বী এলাকাবাসী, গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
পানপাড়া লোকনাথ মন্দিরে ঘাটলা নির্মাণকাজের উদ্বোধনকে স্থানীয়রা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 







