মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-উত্তর) পৃথক তিনটি অভিযানে মোট ২১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ৭ জন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৩ হাজার টাকা।
ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন-এর নির্দেশনায় পরিচালিত এ বিশেষ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, গত ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিকেল ২টা ৪০ মিনিটে এসআই (নিঃ) আরিফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ আশুলিয়া থানাধীন মধ্য গাজিরচট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ তিনজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
- মো. হুমায়ন কবির (৩১),
- মো. ইকরাম হোসেন (২৮) এবং
- মো. মোফাজ্জল ভূঁইয়া (৪৮)।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত ১০০ পিস ইয়াবার ওজন প্রায় ১০ গ্রাম এবং এর আনুমানিক মূল্য ৩০ হাজার টাকা।
একই দিন রাত ৮টা ৫ মিনিটে সাভার মডেল থানাধীন মোগড়াকান্দা এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান পরিচালনা করেন এসআই (নিঃ) সুজিত কুমার মৃধা। এ সময় ৫০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৫)-কে গ্রেফতার করা হয়।
উদ্ধারকৃত ইয়াবার ওজন প্রায় ৫ গ্রাম এবং এর আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, ১০ জুলাই ২০২৬ দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে সাভার মডেল থানাধীন ভরালী বটতলা এলাকায় এসআই (নিঃ) শেখ মফিজুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ৬০ পিস ইয়াবাসহ তিনজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
- মো. রাজু মণ্ডল (২৩),
- মো. সুজন মিয়া (৩৮) এবং
- মো. চাঁন মিয়া (২৫)।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত ৬০ পিস ইয়াবার ওজন প্রায় ৬ গ্রাম এবং এর আনুমানিক মূল্য ১৮ হাজার টাকা।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ইকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা, আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলা এবং চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে একটি দস্যুতা মামলা পূর্ব থেকে বিচারাধীন রয়েছে।
ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) জানায়, গ্রেফতারকৃত সাতজনই দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয় এবং মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঢাকা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 







